Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বেড়েছে বেচাকেনা; ছাড়ের অপেক্ষায় কমেছে দর্শনার্থী

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৯ পিএম

বেড়েছে বেচাকেনা; ছাড়ের অপেক্ষায় কমেছে দর্শনার্থী
Swapno


হরদম বেচাকেনার ধম শুরু হয়েছো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮ তম আসরের ৯ম দিনে। সরকারি ছুটির দিন না হলেও বেড়েছে ক্রেতা। তবে পন্যের দাম নিয়ে অভিযোগের যেন শেষ নেই। তবে ব্যবসায়ীরা ছাড় না দেয়ায় দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। সূত্র জানায়, এবার  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারনে ১লা জানুয়ারির পরিবর্তে ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়ায় বহু ব্যবসায়ীরা স্টল নিয়েও ২য় সপ্তাহের শুরুতে স্টল প্রস্তুত করছেন।  

 

 

এতোদিন ব্যবসায়ীরা বিক্রি কমের কথা জানালেও আজ তারা বলেছেন বিক্রি বাড়ার কথা। মেলায় ইগুল আইসক্রিম ডিলার আমান উল্লাহ বলেন, শীতের প্রকোপ কমে আসছে। তাই দর্শনার্থীর পাশাপাশি বেড়েছে বিক্রি। আশা করি এবার  ক্রেতারা সন্তুষ্ট হবেন। দাম নিয়ে অভিযোগ থাকার পেছনে কারন একটাই  এখানে স্টল যারা পেয়েছেন তাদের বহুগুণ টাকা খরচ হয়েছে।  

 

 

এদিকে মেলা সংশ্লিষ্টদের দাবী,এবার গত ৩ বছরের তুলনায় যাতায়াত ব্যবস্থাসহ মেলার অভ্যন্তরীণ সার্বিক নিরাপত্তা ভালো। তবে মঙ্গলবার  বিকালেও বেশ কয়েকটি স্টল নির্মাণ করছেন কেউ কেউ।  এখনো আবার বেশ কিছু স্টলের জায়গা খালি পড়ে আছে।   পূর্বাচলের বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন,  এবার ক্রেতা সাধারণ পবিত্র ঈদ উল ফিতরের কেনাকাটাকে টার্গেট করেছেন এ মেলা থেকে।  

 

 

পাশাপাশি মেলায় শীত কমে আসায় দর্শনার্থী বাড়ছে। তবে ছাড় না দেয়ায় হতাশ হলাম। ব্যবসায়ীরা ছাড় ঘোষণা করলে রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলোর নারী ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে। তাছাড়া মেলায় আকর্ষণীয় কিছু নাই।  যার কারনে মেলা এখনো জমে ওঠেনি। তবে আবহাওয়া ভালো হলে মেলা আবার জমবে।

 


মেলায় ঘুরতে আসা গাজীপুরের ধীরাশ্রমের বাসিন্দা গৃহীনি নাসরিন আক্তার বলেন, প্রথমবার আসলাম এ মেলায়। শুনেছি মেলা উপলক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা ছাড় দিয়ে থাকেন। কিন্তু ঘুরে দেখলাম, গাজীপুরের শহর এলাকার দোকানের পন্যের চাইতে এখানে সবপন্যের দাম বেশি। আর ছাড়ের কোন আলামত নাই। তাই পুরোপুরি হতাশ হলাম। মনে হলে ঘুরে দেখা ছাড়া আর কোন সুবিধা পেলাম না।

 

 

তবে দৃষ্টি নন্দন স্থায়ী  ভবন মন কেড়েছে।  কাঞ্চন পৌর এলাকার চরপাড়ার গৃহীণি শাহিদা আলম স্মৃতি বলেন,   ভেতরের স্টলও খালি দেখলাম। আরও পরে আসা দরকার ছিলো। মনে হয়  এবার মেলা দেরীতে শুরু হওয়ার লোকজন কম। তবে নিরিবিলি ঘুরতে ও কেনাকাটা করতে ভালো লেগেছে। এখানে বঙ্গবন্ধু গ্যালারী দেখলাম, ধানমন্ডির বাড়ি দেখা হয়নি। এখানেই দেখে নিলাম ভালো লাগলো।

 


 রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও মেলার প্রবেশদ্বার ইজারাদারের নিয়োজিত  কর্মকর্তা  মাসুম চৌধুরী অপু বলেন, এবার মেলায় আগের তুলনায় বেশি জমবে। সব সমই প্রথমদিকে লোক কম হয়। তবে চিরচেনা  রূপ পায় সরকারি ছুটির দিনে।

 

 

যদিও পরশু থেকে  একুশে বই  মেলার কারনে  রাজধানী থেকে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমতে পারে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তি উপজেলা সোনারগাঁওয়ে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে মেলা শুরু হয়েছে।  সেখানেও স্থানীয় লোকজন ভীর করে থাকে বেশি। তবে ছাড় দেয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। হতাশ হওয়ায় কিছু নাই।

 


জানতে চাইলে মেলার পরিচালক ও ইপিবি সচীব বিবেক সরকার বলেন, সরকারি ছুটির দিনে লাখো লোকের সমাগম হয় মেলায়৷ বিক্রিও বাড়ে সেদিন। তবে ব্যবসায়ীরা তাদের পন্যে ছাড় দেয়া শুরু করবে শীঘ্রই।  মেলা জমাতে সব রকম প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।  

 


মেলায় ৯ম দিনের  স্টল প্রস্তুতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্টল আর প্যাভিলিয়ন নির্মানে ব্যবসায়ীদের গাফিলতি আছে। তারা সময়মতো স্টল প্রস্তুত করেনি। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরনের ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হবে। এর দায় তাদের নিতে হবে।

 


মেলা সংশ্লিষ্টদের দাবী,  দর্শনার্থীরা খুব সহজেই মেলায় আসতে পারছেন। শেখ হাসিনা সরণি দিয়ে অবাধ যাতায়াত করছেন।  পাশাপাশি ঢাকা বাইপাস সড়কেও এবার যানজটমুক্ত রাখতে বিপুল পরিমাণ পুলিশ দায়িত্বে রয়েছেন। রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, সুন্দর পরিবেশ রয়েছে মেলার অভ্যন্ত্যর পাশাপাশি যাতায়াতের পথে। নির্বিঘ্নে দর্শনার্থীরা আসতে পারবেন।

 

 

গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা, জননিরাপত্তা,  শৃঙ্খলা তুলনামূলক ভালো। সিসি টিভি দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে মেলার বাইরে থেকে ৩ জন মহিলা ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।

 


মেলা ঘুরে দেখা যায়, এবার ১৩০ টাকা পন্যের দোকানে সবচেয়ে বেশি ভীর। পাশাপাশি আইসক্রিম,  প্রয়োজনীয় পোষাক,  জুতা, আসবাব, সাজসজ্জা ও প্রসেধনি জাতীয় পন্যের দোকানে দলবেঁধে কেনাকাটা করছেন আগত দর্শনার্থীরা। এদিন প্রবেশদ্বারে বেরিয়ে যাওয়ার পথে প্রায় সব দর্শনার্থীর হাতে পন্যে ক্রয় করে নেয়ার থলে দেখা গেছে।  

 


মেলার ব্যবসায়ী ও রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্চাসেবকলীগের সভাপতি  ইমন হাসান খোকন বলেন,  মেলায় আগত স্টল ও প্যাভিলিয়নে যেসব পন্য বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে তার মান যথেষ্ট ভালো। যা  সাধারণ হাট বাজারে পাওয়া যায় না। ভালো জিনিসের দাম একটু বেশি, ক্রেতাদের তা বুঝতে হবে। ইদানীং বিক্রি বেড়েছে।  তাই আমরা আশাবাদী মেলা আগের তুলনায় জমবে ভালো।

 


এদিকে তীব্র শীত কমতে শুরু করায়  দর্শনার্থীরা দল বেঁধে আসবে এমন প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও  মেলা ঘুরে এবার নতুন কিছু না পেয়ে পুরোদমে নিরাশ সীমিত দর্শনার্থীরা।  

 


উল্লেখ্য যে, গত ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন পূর্বাচলের স্থায়ী ভ্যানুতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। তবে এখনো স্টল ও প্যাভিলিয়ন প্রস্তুত না হওয়ায় দর্শনার্থীদের অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে ব্যবসায়ীরা আশায় রয়েছেন সরকারি ছুটির দিনের।

 


সূত্রমতে, এবারের মেলায় দেশ-বিদেশের মোট ৩৩০টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়েছে । যার মধ্যে  রয়েছে ১৩টি বিদেশি স্টল । এ ছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তারাও তাঁদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির স্টল সাজাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে এ মেলায় এবার ৫শ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাবেন জানিয়েছেন ইপিবি।এন. হুসেইন রনী   /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন