বাণিজ্যমেলায় নিত্যপণ্যে ছাড় দেয়া শুরু
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২১ পিএম
হরদম বেচাকেনা শুরু হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮ তম আসরের ১১ তম দিনে। সরকারি ছুটির দিনকে টার্গেট করে নিত্য পন্যের দোকানে ছাড় দেয়া শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। তবে বিদেশী সব পন্যের দাম নিয়ে অভিযোগের যেন শেষ নেই। বিক্রিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সূত্র জানায়, এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারনে ১লা জানুয়ারির পরিবর্তে ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়ায় প্রথম দিকে কিছুটা দর্শনার্থী কম ছিলো। তবে মেলার ২য় সপ্তাহ থেকে বাড়তে থাকে ক্রেতা ও দর্শনার্থী। এতোদিন ব্যবসায়ীরা বিক্রি কমের কথা জানালেও আজ তারা বলেছেন বিক্রি বাড়ার কথা।
মেলায় বিণামূল্যে স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিকেএমসি হাসপাতালের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, শীত কমে আসায় সাধারণ লোকজন পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা শুরু করেছেন। তাই দর্শনার্থীর পাশাপাশি বেড়েছে পন্য বিক্রি। তবে দাম নিয়ে অভিযোগ আছে। কারন একটাই এখানে স্টল যারা পেয়েছেন তাদের বহুগুণ টাকা খরচ হয়েছে।
এদিকে মেলা সংশ্লিষ্টদের দাবী,এবার গত ৩ বছরের তুলনায় যাতায়াত ব্যবস্থাসহ মেলার অভ্যন্তরীণ সার্বিক নিরাপত্তা ভালো। তবে বৃহস্পতিবার বিকালেও বেশ কয়েকটি স্টল নির্মাণ করতে দেখা গেছে। কিছু স্টলের জায়গা খালি পড়ে আছে।
হারিন্দার বাসিন্দা এ্যাতভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মেলায় শীত কমে আসায় দর্শনার্থী বাড়ছে। তবে এতোদিন ছাড় না দেয়ায় হতাশ হয়েছে অনেকে। ব্যবসায়ীরা ছাড় ঘোষণা করলে রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলোর নারী ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে। তবে এবার মেলায় আকর্ষণীয় কিছু নাই।
মেলায় ঘুরতে আসা পিতলগঞ্জের জুলহাস মিয়া বলেন, মেলা উপলক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা ছাড় দিয়ে থাকেন। তাই আসলাম। মেলায় এবার শীতের পোষাক বেশি। পাশাপাশি ভারতীয় কাপড়ে সয়লাব। মনে হলো, সবপন্যের দাম বেশি। আর ছাড় ঘোষণা সন্তোষজনক নয়।
তবে দৃষ্টি নন্দন স্থায়ী ভবন দেখতে পেরে ভালো লাগছো। গোয়ালপাড়া থেকে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী মোহায়মিন আল শোভন বলেন, মেলার ১১ তম দিনেও ভেতরের স্টলও খালি দেখলাম। আর শিশুদের জন্য রাখা বিনোদনের ব্যবস্থা নিন্মমানের। তবে এখানে বঙ্গবন্ধু গ্যালারী দেখলাম, ধানমন্ডির বাড়ি দেখা হয়নি। এখানেই দেখে নিলাম ভালো লাগলো।
মেলার পরিচালক ও ইপিবি সচীব বিবেক সরকার বলেন, মেলার সব রকম পরিবেশ ভালো। যাতায়াতও ভালো তবে ঢাকা বাইপাসের কাজ চলমান থাকায় যানজট ভোগান্তি রয়েছে। সরকারি ছুটির দিনে সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম হয়। এরমাঝে একুশে বই মেলা শুরু হয়েছে। এতে কিছুটা দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমতে পারে ।
মেলায় ১১ তম দিনে কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় যানজট দেখা গেছে। যদিও এর জন্য দায়ী কাঞ্চন ব্রিজের অবৈধ টোল আদায়। আবার ৮ লেনে উন্নীতকরনের কাজ চলমান থাকায় একপাশ বন্ধ থাকে। এসব বিষয়ে টিআই জুলহাস মিয়া বলেন, আমরা বাণিজ্য মেলার কারনে জেলা পুলিশ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণির আইন শৃঙ্খলা বাহীনি কাজ করছে। যানজট এবার শুধু ঢাকা বাইপাসেই কিছুটা আছে। তবে সব সময় যানজট হয় না।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় পোষাক, জুতা, আসবাব, সাজসজ্জা ও প্রসেধনি জাতীয় পন্যের দোকানে দলবেঁধে কেনাকাটা করছেন আগত দর্শনার্থীরা। এদিন প্রবেশদ্বারে বেরিয়ে যাওয়ার পথে প্রায় সব দর্শনার্থীর হাতে পন্যে ক্রয় করে নেয়ার থলে দেখা গেছে।
এদিকে তীব্র শীত কমতে শুরু করায় দর্শনার্থীরা দল বেঁধে আসবে এমন প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও মেলা ঘুরে এবার নতুন কিছু না পেয়ে পুরোদমে নিরাশ সীমিত দর্শনার্থীরা। ধুলোবালি থাকায় ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন অনেকে।
উল্লেখ্য যে, গত ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন পূর্বাচলের স্থায়ী ভ্যানুতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। তবে এখনো স্টল ও প্যাভিলিয়ন প্রস্তুত না হওয়ায় দর্শনার্থীদের অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে ব্যবসায়ীরা আশায় রয়েছেন সরকারি ছুটির দিনের।
সূত্রমতে, এবারের মেলায় দেশ-বিদেশের মোট ৩৩০টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়েছে । যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি বিদেশি স্টল । এ ছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তারাও তাঁদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির স্টল সাজাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে এ মেলায় এবার ৫শ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাবেন জানিয়েছেন ইপিবি। এন. হুসেইন রনী /জেসি


