নারায়ণগঞ্জে চার বছরে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ৫৬৬টি
নুরুন নাহার নিরু
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪৭ পিএম
# বিস্ফোরণে গত ৩ বছরের ৮২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জে গত ৪ বছরে ৫৬৬ টি গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে এসব বিস্ফোরণে গত ৩ বছরের ৮২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আর গত বছর (২০২৩) সালে গ্যাস বিস্ফোরণে আহত হয়েছে ৪৩ জন। এসব দূর্ঘটনায় প্রাণহাণি তো হচ্ছেই পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেই ক্ষতির শিকার হচ্ছে অনেক মানুষ। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সচেতনতা এবং সক্রিয় উদ্যোগে এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনার সংখ্যা আরো কমিয়ে আনতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস তথ্য অনুসারে, নারায়ণগঞ্জে ২০২৩ সালে ২৪২ টি গ্যাস বিস্ফোরণের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে তিতাসের লাইনের ত্রুটিতে বিস্ফোরণ অগ্নি ঘটেছে ১১৩ টি। রান্নাঘরে গ্যাস সিলেন্ডার, বয়লার বিস্ফোরণ ২৬ টি। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে ৪৩ জন। এবং উদ্ধার হয়েছে ১৭ জন। ২০২২ সালে ১০৪ টি গ্যাস বিস্ফোরণ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিতাসের লাইনের ত্রুটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে ৬৯টি। রান্নাঘরে গ্যাস সিলেন্ডার, বয়লার ও এসি বিস্ফোরন ঘটেছে ৪৩টি। এসব ঘটনায় নারী শিশুসহ প্রাণ হারিয়েছে ১৮ জন।
২০২১ সালে ১১৪টি গ্যাস বিস্ফোরণের অগ্নিকান্ড ঘটেছে। এর মধ্যে তিতাসের লাইনের ত্রুটিতে বিস্ফোরন ঘটেছে ৯৬টি। রান্নাঘরে গ্যাস সিলেন্ডার, বয়লার ও এসি বিস্ফোরন ঘটেছে ১৮টি। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২০ জন। ২০২০ সালে ১০৬টি গ্যাস বিস্ফোরণের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে তিতাসের লাইনের ত্রুটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে ৭১ টি। রান্নাঘরে গ্যাস সিলেন্ডার, বয়লার ও এসি বিস্ফোরণ ঘটেছে ৪১টি। এসব ঘটনায় ৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফখর উদ্দিন যুগের চিন্তাকে বলেন, এধরনের ঘটনা প্রায় সময়ই ঘটে থাকে। বেশির ভাগ বাসা-বাড়ি বন্ধ থাকা কালীন যদি গ্যাস লাইনের পাইপে কোথাও যদি লিকেজ হয়ে যায় তখন ঐ বন্ধ রুমে গ্যাস জমতে থাকে। আর সে সেময়ই চুলায় আগন দেওয়ার সাথে সাথে অসাবধনার কারনে বড় ধরনের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। একারনে জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। এবং গ্যাস লাইনের পাইপ, চুলার চাবি সহ অন্যান্য সরঞ্জাম ঠিকমতো ব্যবহার এবং মেরামত করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্টিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুগের চিন্তাকে বলেন, দেখা যায় রান্নাঘরের চুলা থেকে এসব অগ্নি বিস্ফোরণের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। এছাড়া গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই প্রায় এসব ঘটনা ঘটে। তাই মলূত গ্রাহকদের সচেতন হতে হবে। সিলেন্ডার হোক বা গ্যাসের পাইপ লাইনের লিকেজ খেয়াল রাখতে হবে বন্ধ ঘরে যেন কোনো মতেই গ্যাস জমতে না পারে। এস.এ/জেসি


