Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ক্রেতা দর্শনার্থীর ভিড়ে উৎসবমূখর পূর্বাচল

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৫৬ পিএম

ক্রেতা দর্শনার্থীর ভিড়ে উৎসবমূখর পূর্বাচল
Swapno

 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর নতুন শহর প্রকল্পের স্থায়ী প্যাভিলিয়নে গত ৩ বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে   ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এবার ২৮ তম আসরকে ঘিরে মেলার আশপাশ এমনকি পুরো পূর্বাচলে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মেলায় ঘুরতে আসা লোকজন কেনাকাটা ছাড়াও পূর্বাচলের ৩শ ফুট সড়ক,লেক, আশপাশের পার্ক ঘুরে দেখছেন পাশাপাশি খাবার খাচ্ছেন মেলার বাইরে থেকেও।

 


১৩ তম দিনে সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার হওয়ায় সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভীর দেখা গেছে মেলায়। তবে মেলার বাইরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে করা হয়েছে অস্থায়ী খাবার হোটেলসহ নানা পন্যের পসরা। এসব দোকানের পরিবেশ যাইহোক, মেলার ভেতরে থাকা খাবার হোটেল থেকে কমদামে বিক্রি করছে।  আর তাই দর্শনার্থীদের একটা অংশ খাবার খাচ্ছেন মেলার বাইরে থেকে।

 

 

মেলায় প্রবেশের দক্ষিণ, পশ্চিম পাশে করা হয়েছে শতাধিক খাবার হোটেল। পাশাপাশি খোলা খাবার বিক্রির জন্য রয়েছে ভাসমান হকার। ভেতরের সবগুলো খাবার স্টলের তুলনামূলক মুল্য হিসেবে দেখা যায়,প্রায় একই ধরনের খাবার মেলার বাইরের দোকানের চেয়ে  ভেতরের স্টলে দ্বিগুন থেকে ৩ গুন দাম বেশি। এ তফাৎ যারা বুঝছেন তারাই বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন বলে জানা যায়।

 

 

কথা হয় মেলার ঘুরতে আসা নরসিংদীর গণমাধ্যম কর্মী আকরাম হোসেনের সঙ্গে।  তিনি বলেন, মেলার ভেতরে যে নানা রুটির দাম ৬০ টাকা একই রুটির দাম বাহিরে ৩০ টাকা, যে মুরগীর চাপ ভেতরে ২৫০ টাকা সেটাই বাইরে ১শ থেকে দেড়শো  টাকা, পাশাপাশি ভেতরে গুরুর গোস্ত একপ্লেট ৩ শ টাকা পরিমানে সামান্য আর  বাহিরে ২শ টাকা পরিমানে পর্যাপ্ত , মুরগীর ঝাল ফ্রাই ভেতরে ২৫০ টাকা,বাহিরে ১২০ টাকা, এভাবে সব পন্যের দাম বেশি রাখার রয়েছে অভিযোগ।    

 


 ভাসমান খাবার হোটেল ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, মেলার বাহিরে হোটেল দিয়েছি তাতেও অনেক খরচ হয়েছে। ডেকোরেটর খরচ, আবার পুলিশের লোকজনকে দৈনিক ১০ হাজার করে দিতে হয়। তবুও মেলার ভেতরের চেয়ে বাহিরে দাম আমরা কম রাখতে পারি।এতে নিন্ম আয়ের লোকজন খুশি। তারা বেশি দাম দিয়ে ভেতরে খাবার কিনে খেতে চায় না। কথা হয় মেলার ভেতরের খাবার হোটেল ব্যবসায়ী, ঢাকা হাজী বিরিয়ানির পরিচালক আলম মিয়ার সঙ্গে।

 

 

তিনি বলেন, মেলায় স্টল পেতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় তা ওঠাতে দাম বাড়ানো ছাড়া গতি নাই। কিন্তু রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আমাদের মূল্য বেঁধে দিয়েছেন। আবার ট্যাক্স দিতে হয়, কর্মচারী খরচ, আরও নানা খরচ দেয়ার পর দাম যা রাখি তাও কম। আর বাহিরে যারা দোকান দেয়, তারা কিছু লোককে ম্যানেজ করে ব্যবসা করে। সেখানে তাদের অতিরিক্ত খরচ নাই। তাই তারা কমে খাবার বিক্রি করতে পারে।

 


নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু বলেন, মেলার বাহিরে দোকান বসাতে দেয়া হয়নি। একটু দূরত্বেই কেউ কেউ প্লট মালিকদের ম্যানেজ করে দোকান বসিয়েছেন। এতে পুলিশের কোন হাত নেই। আর হকাররা নিন্ম আয়ের মানুষ। তারা ভাসমান দোকানে কিছু বিক্রি করছেন।তা মানবিক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।  তবে  খাবারের দাম আর মান দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়।

 


এদিকে মেলায় ঘুরতে আসা লোকজন মেলায় প্রবেশের পূর্বে কিংবা বাসায় ফেরার পথে মেলার অতি নিকটে থাকা ৩ টি পার্ক, ৩শ ফুট সড়কসহ আশপাশের বিনোদন এলাকা ঘুরে দেখছেন। মেলায় বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীর উপস্থিতি রয়েছে। বিক্রিও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে মেলা জমাতে নিত্য পন্যের দোকানে ছাড় দেয়া শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা।  তবে বিদেশী সব পন্যের দাম নিয়ে অভিযোগের যেন শেষ নেই।  

 


 সূত্র জানায়, এবার  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারনে ১লা জানুয়ারির পরিবর্তে ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়ায় প্রথম দিকে কিছুটা দর্শনার্থী কম ছিলো। তবে মেলার ২য় সপ্তাহ থেকে বাড়তে থাকে ক্রেতা ও দর্শনার্থী। এতোদিন ব্যবসায়ীরা বিক্রি কমের কথা জানালেও আজ তারা বলেছেন বিক্রি বাড়ার কথা।
 
 


উল্লেখ্য যে, গত ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন পূর্বাচলের স্থায়ী ভ্যানুতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা।  ব্যবসায়ীরা আশায় রয়েছেন সরকারি ছুটির দিনের।

 


সূত্রমতে, এবারের মেলায় দেশ-বিদেশের মোট ৩৩০টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়েছে । যার মধ্যে  রয়েছে ১৩টি বিদেশি স্টল । এ ছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তারাও তাঁদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির স্টল সাজাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে এ মেলায় এবার ৫শ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাবেন জানিয়েছেন ইপিবি।   এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন