# ২০২৩ সালে আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ১ হাজার ৮০০টি
# নিষ্পত্তি হয়নি এমন মামলা ঝুলে আছে ৩ হাজার ২৮০ টি
# পুলিশের যথাযথ তদারকি না করার কারণে আসাামির সঠিক বিচার হয়না : এড. মাসুম
# রাষ্ট্রের আইন বা নিয়মকানুন রয়েছে সেগুলো আগে পরিবর্তন করা জরুরি : লক্ষ্মী চক্রবর্তী
# এসব বিষয়ে কেউই সচেতন না, সর্ষের মধ্যে ভূত আছে : হাজী নুরুউদ্দিন
# নির্যাতন কেন, কি কারণে হচ্ছে সে বিষয়ে সতর্কতা দরকার : সালমা ওসমান লিপি
দেশে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ার সূচকে এগিয়ে থাকলেও নারী ও শিশুর প্রতি সকল ধরণের নির্যাতন, হত্যা-ধর্ষণসহ নানা ধরণের সহিংসতার শিকার হওয়ার ঘটনার বাড়তে দেখা যাচ্ছে প্রতিবছর। এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় ও মামলায় জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতার দরুণ নারী ও শিশুদের প্রতি নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে।
এমন একটি দিন নেই, যে দিন নারী নির্যাতনের মর্মান্তিক কোন না কেন ঘটনা খবরের কাগজে ছাপা হয়না। এসব বিষয়ে আইনের দ্বারস্ত হলেও মামলা জটে সঠিক বিচার পেতে অনেক দেরী হচ্ছে। এতে করে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নারী ও শিশুরা।
সাধারণত ধর্ষণ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, হত্যা অপহরণ ও শিশুর অঙ্গহানীসংক্রান্ত মামলার বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হয়ে থাকে। নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তথ্য সুত্রে জানা যায়, গত বছরের (২০২৩) ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার আদালতে দায়েরকৃত মামলার মোট সংখ্যা ১ হাজার ৮০০টি এবং এর পুর্ববর্তী সময়ের অনিষ্পত্তিকৃত মামলা ছিল ৩ হাজার ২৮০ টি।
নারী ও শিশু নির্যাতন ও মানব পাচার মামলার মধ্যে ১ হাজার ৯৩৫টি মামলা নিষ্পত্তিকৃত করা হয়েছে।পুর্ণবিচার শেষে শাস্তিপ্রাপ্ত আসামির মোট সংখ্যা ৬৯ জন এবং খালাস প্রাপ্ত হয়েছেন ৯২৬ জন। আসামি শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছে এমন মামলার মোট সংখ্যা ৩৫টি এবং আসামি খালাস প্রাপ্ত হয়েছে এমন মামলা হয়েছে ৬০২ টি। পুর্ন বিচার ব্যতীত নিষ্পত্তিকৃত মামলায় অব্যাহতি প্রাপ্ত আসামি রয়েছে ২ হাজার ৪১টি।
তথ্য সুত্রে দেখা যায়, আদালতে পুর্ণ বিচার শেষে বেশি আসামি শাস্তি প্রাপ্ত হয়েছে নারী নির্যাতন মামলায়। এই নিষ্পতিকৃত শিশু মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত মোট আসামি মাত্র ৪ জন। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও নির্মুলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডভোকেসি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নারীর মানবাধিকার সংগঠন, নারী আন্দোলনে আর্থীক সহযোগীতা করে যাচ্ছেন অনেকেই। তারপরও এই উন্নত রাষ্টে সঠিক বিচারসালিষ না পাওয়ার কারনে পরিবর্তন হচ্ছে না সমাজ।
মানবাধিকার কর্মী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এ নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধ করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করা খুবই জরুরি। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবারের প্রধান দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। আর এ নিয়ে যথাযথ বিচার না পাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে পুলিশের যথাযথ তদারকি না করার কারণে আসাামির সঠিক বিচার হয়না। তাই এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক পর্যবেক্ষণ এবং কোনো পক্ষপাতিত্ব না করে প্রতিরোধ করতেও এগিয়ে আসা।’
নারায়ণগঞ্জে প্রতিনিয়ত নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে উল্লেখ করে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভাপতি লক্ষী চক্রবর্তী বলেন, ‘রাষ্ট্রের ব্যবস্থা পরিবর্তন ও সমাজের মানুষেরা যদি সচেতন না হয় তাহলে প্রতিরোধ ও মানববন্ধন করলেও কোনো লাভ হবে না। আমাদের এই উন্নত সমাজে নারীরা এখনও পিছিয়ে আছে। রাষ্ট্রের যেই নিয়ম-কানুন গুলো আছে সেগুলো যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হতো তাহলে আর সমাজে নারী ও শিশুরা নির্যাতনের শিকার হতো না। তাই এর পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্রের যে আইন বা নিয়মকানুন রয়েছে সেগুলো আগে পরিবর্তন করা জরুরি এবং সমাজে কর্তব্যরত কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এলাকার মেম্বারদের এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীদের এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী সঠিক বিচার করা প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে।’
সামাজিক সংগঠন ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’র সভাপতি হাজী নুর উদ্দিন বলেন, ‘নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে সেটাতো বিশেষ করে পারিবারিকভাবেই বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। তারপর সমাজের আশেপাশের লোকজন আছেন তাদের দ্বারাও নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে। তো আমাদের সমাজে নারীদের প্রতি দিন দিন যে সহিংসতা বাড়ছে এর জন্য জনসচেতনতার প্রয়োজন। সমাজের আমরা যারা বসবাস করি সবাই নারীদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে নারীদের আর নির্যাতনের শিকার হতে হতো না। তবে আমরা মুখে এ বিষয় জন সচেতনতার কথা বললেও আমাদের সমাজে এসব বিষয়ে কেউই সচেতন না। সর্ষের মধ্যে ভূত আছে।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থা এর চেয়ারম্যান সালমা উসমান লিপি যুগের চিন্তাকে জানান, ‘আমি মনে করি সবার এই বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এবং এ ব্যাপারে সবার যথেষ্ট জ্ঞান থাকা যেন জানতে পারে নির্যাতনটি কেন হচ্ছে, কি কারণে হচ্ছে সেই সতর্কতাটা সবার থাকা জরুরি।’ এস.এ/জেসি


