বঙ্গবন্ধু সড়ক ফাঁকা, অন্য সড়কগুলো ছিলো হকারদের দখলে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৫ পিএম
# যানজট ও গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকলেও মিশুক-অটোরিক্সার দাপট ছিলো সর্বত্র
যানজট ও হকার সমস্যা সমাধানে আইভী-সেলিম ও শামীম ওসমানের বৈঠকের পর রবিবার সারাদিন শহরের প্রধান সড়ক হিসেবে পরিচিত বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের দেখা মেলেনি। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে দেখা গেছে পথচারীদের। সড়কগুলোকে এভাবেই নিয়মিত হকারমুক্ত রাখার দাবি জানান তারা।
রবিবার বঙ্গবন্ধু সড়কের ডিআইটি এলাকা থেকে চাষাড়া পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের পুরো অংশই হকারমুক্ত ছিলো এদিন। হকারমুক্ত হওয়ায় এদিন ফুটপাত দিয়ে পাটে হেটে চলাচল করতে দেখা যায় অধিক সংখ্যক জনগনকে। যারা ২নং রেল গেইট থেকে চাষাড়া অথবা চাষাড়া থেকে ২নং রেল গেইট এমনকি ডিআইটি পর্যন্ত চলাচল করেছে তাদের অনেকেই আজ বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত দিয়ে পায়ে হেটে পার হয়েছেন।
নগরীর ২নং রেল গেইট এলাকায় কথা হয় ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের সাথে, ব্যবসায়ীক লেনদেনের কাজে পায়ে হেটে চাষাড়ায় যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এই নগরীতে পায়ে হাটার মতো কোনো ফুটপাত বা সড়কই ছিলো না। যা ছিলো তার সবই থাকতো হকারদের দখলে।
তবে, গতকাল মেয়র ও দুই এমপি একসাথে শহরকে হকারমুক্ত করার কথা বলেছেন বলে শুনেছি। তাদের কথা মতো, আজ ফুটপাত হকারমুক্তও ছিলো। তাই অন্যদিন রিকশায় করে যাতায়াত করলেও আজ পায়ে হেটে চলাচল করছেন বলে জানান তিনি।
নগরীর আলমখান লেন মোড়ে কথা হয় মিরাজ মিয়ার সাথে, তিনি বলেন, এই শহরে পায়ে হেটে চলাচল তো আমরা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম হকারদের কারণে। তবে, জনপ্রতিনিধিদের আশ^াসের পর আজ হকারমুক্ত ছিলো ফুটপাত, তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একইসাথে, হকারমুক্ত ফুটপাতের চলমান এই ধারা যেন অব্যাহত থাকে সেই দাবি জানান তিনি।
তবে, বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যতীত সিরাজউদ্দৌলা সড়ক, চেম্বার রোডসহ অন্য সড়কগুলোতে দেখা গেছে চিরচেনা পুরোনো সেই চিত্র। বরাবরের মতো আজও এসব সড়কের অধিকাংশ অংশ জুড়ে ছিলো হকারদের আধিপত্য। ফলে এসব সড়কে চলাচলকারী পথচারীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, মেয়র, দুই এমপি, এসপি-ডিসিসহ সমাজের সর্বস্তরের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠকের পরও ফুটপাত কেন দখলমুক্ত হচ্ছে না। বৈঠকে অংশগ্রহনকারীদের চেয়ে কি হকার ও চাঁদাবাজদের শক্তি বেশী এমন প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
কালিরবাজার পুরাতন কোর্ট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কালিরবাজারে আগে যেখানে ৩টি লাইন করে হকাররা বসতো, এখন সেখানে কোথাও কোথাও ১ লাইন, কোথাও আবার দুই লাইন করে হকাররা সড়কের উপর বসেছে। এতে চলাচল করতে নিত্যদিনের মতো আজও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।
এই সড়কসহ ২নং রেল গেইট থেকে চেম্বার রোড হয়ে ১নং রেল গেইট পর্যন্ত এবং ১নং রেল গেইট থেকে কালির বাজার পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত ও সড়কের অধিকাংশ অংশই ছিলো হকারদের দখলে।
এ সড়কগুলোতে চলাচলকারী আরও প্রশ্ন করেন, শহরে কি শুধু বঙ্গবন্ধু সড়কই আছে? আর কোনো সড়ক কি নেই? সেখানে কি বড় বড় নেতাদের চোখ পড়ে না। বারবার শুধু বঙ্গবন্ধু সড়ক নিয়েই আলোচনা হয়। আমরা যারা অন্য সড়কগুলোতে চলাচল করি, তারা কি এদেশের নাগরিক না? তারা কি এদেশের জনগন না?
ফ্রেন্ডস মার্কেটের সামনে কথা হয় উদ্যোক্ত সাথী ইসলামের সাথে, তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুনলাম গতকাল নাকি নারায়ণগঞ্জের হাইপ্রোফাইল নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের বিষয়বস্তু এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা আশাবাদি ছিলাম। তবে, বরাবরের মতো এবারও নিরাশ হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এক বঙ্গবন্ধু সড়ক ছাড়া অন্য কোনো সড়ক বা ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফিরেনি।
এতে আমরা যারা এই সড়কে চলাচলকারী তারা ব্যাপকভাবে হতাশ হয়েছি। বড় বড় নেতা ও প্রশাসনের উচিত বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশাপাশি অন্য সড়কগুলোতেও নজরা রাখা। তা না হলে একটি সড়ক হকারমুক্ত করলেই পুরো শহরের চেহারা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার পরিকল্পিত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা।
এদিকে, হকার পরিস্থিতির মতোই অবস্থা ছিলো সড়কের শৃঙ্খলা আনার বিষয়টিতে। সড়কে বড় যানবাহনের পাশাপাশি অবৈধ ইজিবাইকের সংখ্যা কিছুটা কম দেখা গেলেও মিশুক ও অটোরিক্সার দাপট ছিলো সবগুলো সড়কেই। তীব্র যানজট না থাকলেও থেমে থেমে যানজট দেখা গেছে এদিনও।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা দেখে গেছে, গতকালকের বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যেন কিছুই জানেননা এসব অবৈধ পরিবহনের চালকরা। তাদের মতে, এ ধরনের বৈঠক তো মাঝে মাঝেই হয় শুনি, কিন্তু আমরা যাদের মাসোয়ারা দেই তারাও কম শক্তিশালী নয়। যারা মাসোয়ারা নেয়, তারা বরাবরের মতো এবারও বলেছে, এসব বৈঠকে কিছুই হবে না। ২/১দিন একটু ধরপাকড় হবে, তারপর আবার সব ঠিক।
সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান ও আইভী সহ এসপি-ডিসিসহ সমাজের সকল গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পর আশাবাদী নগরবাসী এদিনও হতাশায় ভুগেছেন বলে জানা গেছে। তারা বলছেন, প্রভাবশালী সকলে এক মঞ্চে বসার পরও যদি হকার ও যানজট ইস্যুর পরিপূর্ণ সমাধান করা সম্ভব না হয় তাহলে আমরা সাধারণ জনগন আর কি করতে পারি।
অতীতের মতোই চরম দুর্ভোগ ও সীমাহীন ভোগান্তি নিয়ে এই শহরে চলাচল করা ছাড়া কোনো উপায়ই থাকবে না আমাদের কাছে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে গতকালের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোকে শতভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। এন. হুসেইন রনী /জেসি


