সোনারগায়ের বাহারি জামদানি ছড়াচ্ছে সৌন্দর্য
নুরুন নাহার নিরু
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৫ পিএম
জামদানি ভালোবাসে না এমন বাঙ্গালি নারী খুজে পাওয়া প্রায় দুস্করই। নারীকুলের জামদানির প্রতি ভালোবাসা দেখে হয়তো কবি বলেছেন, কত রঙবেরঙের শাড়ি দিলাম নাম নাহি জানি, হাটের পখে বন্ধু কয় আইনো ঢাকাই জামদানি। তবে শুধু ঢাকাতেই নয় বিশ্ব দরবারে স্ব মহিমায় সমুজ্জ্বল এক অভিজাত তাঁতবস্ত্র এ জামদানি। বাজারে আজ বেশ সুনামে ধন্য নারায়ণগঞ্জের জেলার সোনারগাঁ উপজেলার জামদানি শাড়ি।
অপূর্ব নকশা, বাহারী রং আর নিখুঁত বুননে জামদানি শাড়িতে রয়েছে ভিন্নতা। নিজ নিজ নকশা প্রতিটি শাড়িতে রয়েছে ভিন্ন সৌন্দর্য। জানা যায়, সোনারগায়ের বাহারি জামদানি বিশ্ব ঐত্যির্যের একটি অংশ। সোনারগাঁয়ের জামদানী শাড়ি বাহারী রংয়ের সংমিশ্রণে দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও শীর্ষ স্থান নিয়েছে। তাঁতীদের নিখুত দক্ষতা এবং ভালোবাসায় শত শত বছর ধরে তৈরি সোনারগাঁয়ে জামদানির খ্যাতি বিশ্ব জুড়ে।
জামদানি তাঁতিরা নিজের হাতে নৈপুণ্য দেখিয়ে জামদানি তৈরি করেন। জামদানি শাড়ির জমিনে তোলা ভিন্ন ভিন্ন নকশার রয়েছে সুন্দর সব নাম। এসব নকশার নামেই শাড়ির পরিচিতি। গতকাল নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্পজাদু ঘরে গিয়ে মেলার সৌন্দর্য দেখতে দেখতে হঠাৎ কানে ভেসে এলো প্রাণস্পন্দনের মতোই খটখট আওয়াজ। সামনে এগোতেই দেখলাম একটি দোকানে জামদানি কারিগররা তাহের নৈপুর্ণ্য হাতে ম্যাজিক দেখাচ্ছেন।
সবুজ জমিনে লাল সুতা আর সোনালী জরির সুক্ষম কাজের জামদানি শাড়ির নাম ‘শাপলা ফুল। এগুলোর দাম প্রায় ৭-১০ হাজার টাকা। এভাবে বিভিন্ন নামের জামদানি শাড়ি ২ হাজার, ৩ হাজার টাকা থেকে ২০/৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ঘন কাজের কিছু শাড়ি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়ও বিক্রি হয়। তবে এসব শাড়ির ক্রেতা কম এমনই কথা বলছিলেন একজন জামদানি কারিগর মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া।
তিনি বলেন, প্রায় ৩২ বছর ধরে আমি এই জামদানি বুননের পেশা সাথে জড়িত। আমাদের বংশে আমিই ই- প্রথম যে জামদানি বুনন কাজ করি।এখানে রেডিম্যাটের পাশাপাশি অর্ডার দিয়েও জামদানি সরবরাহ করা হয়। তবে প্রতিটা শাড়ি বুনন করতে নকশার উপর নির্ভর করে আমাদের প্রায় ২-৩ মাস সময় লাগে। এই মেলাতে আমি প্রায় ২৭ বছর ধরে দোকান দিয়ে বসি।
গতবারের তুলনায় এবার ভালোই বেচাকেনা হচ্ছে। প্রথম যেদিন মেলা শুদু হয়েছে সে দিন আমি প্রায় ২৫০-৩০০ পিস জামদানি নিয়ে এসেছি। লোকদের চাহিদা থাকায় প্রায় অর্ধশতর বেশি শাড়ি বিক্রি হয়েছে। সামনে আরো কয়েক সপ্তাহ বাকি আছে আশা করি আরো ভালো বিক্রি হবে।
সোনারগাঁয়ে লোক কারশিল্প যাদুঘরে বেড়াতে আসা রহিমা আক্তার জানান, সোনারগাঁয়ে আমার পরিবারের ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বেড়াতে এসেছি। তবে এখানে এসে জামদানি বুনন দেখতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে। সরাসরি বুনন দেখে জামদানি কেনা অনেক ভালো বলে আমি মনে করি। তাই ১টি জামদানি শাড়ির অর্ডার দিয়ে গেলাম। এন. হুসেইন রনী /জেসি


