ছাড় দিয়ে ক্রেতা টানছে বাণিজ্য মেলার ব্যবসায়ীরা
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৫৫ পিএম
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চলছে গত ২য় সপ্তাহ জুরে। চলবে আরও ২ সপ্তাহ।১৯৯৫ সাল থেকে চলে আসা মেলার ২৮ তম আসরের ৩য় আসর চলছে পূর্বাচলে। গত বছরগুলোতে বেশ সারা পেয়েছে স্থায়ী প্যাভিলিয়নে। তবে সরকারী ছুটির দিন ছাড়া লোকসমাগম থাকে কম। তাই ক্রেতা টানতে ব্যবসায়ীদের ছাড় দেয়ার প্রতিযোগিতা চোখে পড়ার মতো৷ যদিও ছাড়ের নামে কেউ কেউ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকেন।
আবার মেলার প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে ভেতরের প্রায় প্রতিটি স্টল আর প্যাভিলিয়নে উচ্চ শব্দে বক্স বাজিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচারসহ ক্রেতা টানতে বিক্রয় কর্মীদের হাকডাকে রীতিমতো বিব্রত ও বিরক্ত প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা।
মেলায় ১৭ তম দিন ঘুরে দেখা যায়, মূল্যছাড়ের মাধ্যমে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোরও চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া শুরু করেছেন। মেলায় থাকা একটি ব্যবসায়ী বিক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাণিজ্য মেলায় ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে আমরা পণ্যের পরিচিতি বাড়াচ্ছি। যেটা আমাদের সারা বছরের ব্যবসায়ে বেশ সাহায্য করে।
মেলার মূল ভবনের ছাদের নিচে হলরুম এ-তে ইলেকট্রনিক ও আসবাবের বড় ব্র্যান্ডগুলো স্টল নিয়েছে। এখানে আছে ওয়ালটন, মিনিস্টার, যমুনা ও ভিসতার মতো প্রতিষ্ঠান । এছাড়াও রয়েছে হাতিল, রিগ্যাল, নাভানা, আখতার, নাদিয়া, হাতিম, ব্রাদার্স, ডেল্টা, জেএমজি ফার্নিচারের স্টল। এসব ব্র্যান্ড বিভিন্ন রকম ছাড় দিচ্ছেন।
হলরুম এ-তে ইলেকট্রনিক ব্র্যান্ডের মধ্যে মিনিস্টার তাদের কিছু পণ্যে ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। আর ভিসতা ইলেকট্রনিক ৩৫ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি করছে ৮৬ ইঞ্চি টেলিভিশন। অন্যান্য টেলিভিশনেও ন্যূনতম ২০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছে প্রতিষ্ঠানটগুলো।
তবে এই হলে থাকা কয়েকটি খাবারের দোকান কোন ছাড় দেয়নি। খাবারের স্টল পরিচালক আলী আকবর বলেন, এবার খাবারের দোকান অনেক বেশি। তাতে আমাদের ব্যবসা অন্যান্যবারের তুলনায় কমেছে। যেহেতু ব্যবসা কম, তাই ছাড় দিতে পারছি না।’
গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, বাণিজ্য মেলায় আসলে ছাড়ে পণ্য কেনা যায়। এ জন্য বিশেষ আগ্রহ নিয়েই প্রতি বছর মেলায় আসি। এবার ছাড় দিচ্ছে কিন্তু তাও দাম বেশি মনে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা থেকে অনেক ক্রেতাই বিশেষ মূল্যছাড়ে পণ্য কিনতে মুখিয়ে থাকেন। আর ক্রেতাদের টানতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও সাধ্যমতো ছাড় দেয়। অনেক ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের পাশাপাশি একটি কিনলে আরেকটি ফ্রি কিংবা প্যাকেজ আকারে মূল্যহ্রাসের ঘোষণাও থাকে।
আবার মেলার মূল অংশের ডান পাশে কয়েকটি পোশাক ব্র্যান্ডের স্টল রয়েছে। এসব স্টলে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড়ে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ফ্যাশন হাউস তাদের পন্যে ‘মেলা উপলক্ষে অর্ধেক মূল্যছাড়ে পণ্য বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের থেকে ভালো সাড়া পেতেই এমনটা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রভিন্স নামীয় প্রতিষ্ঠান।’
মেলার সামনের অংশে বাসনকোসনসহ ক্রোকারিজ, বস্ত্রসামগ্রী ও খাবারের কিছু স্টল রয়েছে। এর মধ্যে গাজী গ্রুপের স্টলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে রাইস কুকার, গ্যাসের চুলাসহ নানা গৃহস্থালিসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। আর এসকেবি কুকওয়ারের স্টলে চলছে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। মেলায় বস্ত্রখাতের স্টলগুলোতে ১০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়ে বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।
তবে দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায় ভিন্ন কথা। তাদের দাবী, পন্যের দাম সাধারণ বাজারে যা আছে তার চেয়ে বেশি দাম পন্যের গায়ে লিখে তা থেকে মন মতো ছাড় লিখে রেখেছেন।
মেলা ঘুরতে আসা কুমিল্লা শহরের বাসিন্দা হাফেজ ইসমাইল বলেন, মেলার সামনে উচ্চ শব্দে গান বাজছে। আবার নানা বিজ্ঞাপনের উচ্চ শব্দে অতীষ্ট মনে হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটা স্টলের সামনেই গুলিস্তানের ফুটপাতের মতো হাতে টেনে ক্রেতা আকর্ষণ চেষ্টা করছেন। যা বিব্রতকর। এন. হুসেইন রনী /জেসি


