লোকজ মেলার অন্যতম আকর্ষণ মৃৎশিল্প
নুরুন নাহার নিরু
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৬ পিএম
মৃৎশিল্প হচ্ছে প্রাচীন শিল্পকলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাহারী রঙের শখের হাড়ি, আর মাটির হরেক রকমের পুতুল নারায়ণগঞ্জে মাসব্যাপী লোকজ মেলায় শোভা ছড়াচ্ছে। মেলা শেষ হতে প্রায় ১ সপ্তাহ বাকি। কিন্তু এখনও শখ করে মাটির জিনিপত্রের দিকে নানা বয়সের মানুষ আকৃষ্ঠ হচ্ছে বেশি। বিভিন্ন রঙ তুলিতে আচড়ে মাটির এসব জিরিনস তৈরি করছেন তারা। দোকানিরা বলছেন, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে।
লোকজ মেলার অবস্থিত চত্বরে গেলেই সর্বপ্রথম চোখে পড়বে মৃৎশিল্পর দোকান। সেখানে সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো আছে নানা ধরনের শখের হাড়ি, মাটির পুতুল, ঘোড়া, সরা, মটকা, পাখি, গরু, ঘরে সাজানো নানা মাটি শো-পিস ইত্যাদি।
লোকজ উৎসবে প্রদর্শীত কারুপল্লীর গ্যালারীতে স্থান পাওয়া দুই ভাই সঞ্জয় কুমার পাল এবং মৃত্ন্যজয় কুমার পাল দোকান নিয়ে বসেছে মৃৎশিল্পর তাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমার বাবা-দাদাদের পেশা এটা। বংশ পরমপরায় আমরাও প্রায় ৩০-৩৫ বছর ধরে এই পেশাতেই আছি। মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় মাটির বাসন, হাড়ি, সরা, শখের হাড়ি, মটকা এছাড়া মাটির খেলনা ইত্যাদি বিভিন্ন মাটির জিনিস বিক্রি করে আসছেন বহুকাল যাবৎ।
নিজেদের হাতে মাটির এসব জিনিস তৈরি করে বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করেন তারা। তবে আগের মতো এসব জিনিসের চাহিদা নেই জানান তারা। তাই বিক্রিও কমে গেছে। বেঁচে থাকার তাগিদে আবার অনেকেই বাপ-দাদার এই পেশা ত্যাগও করেছে। আবার কেউ কেউ ধরে রাখলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় তারা জর্জরিত।
মাসব্যাপী এইকারুশিল্প লোকজ মেলায় অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১৫ বছর ধরে। বিক্রিও মোটামুটি ভালো হচ্ছে। সপ্তাহের প্রতি দিনের চেয়ে শুক্রবারে মাটির হাড়ি ও মাটির খেলনা বিক্রি হচ্ছে বেশ। মেলায় প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার থেকে ১৫শো টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে।
মেলা আসা খাদিজা মনির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সবচেয়ে প্রাচীন শিল্প হচ্ছে মৃৎশিল্প। ছোট বেলায় বাবার হাত ধরে মেলায় আসতাম। তখন দেখতাম বাবা মাটি ছোট ছোট হাড়ি-পাতিল, পুতুল কিনে দিতো। কতো খেলেছি এই মাটির জিনিস পত্র দিয়ে। এভাবেই ছোট বেলার স্মৃতিচারণ করে বলছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি আরো বলেন, আমি জানতাম বর্তমান সময়ের ছেলে মেয়েরা এসব মাটির জিনিস হয়তো চিনবেই না।
কিন্তু সোনারগাঁয়ের এসব লোকজ মেলায় এসে আমার ধারনা বদলে গেলো। দেখে ভালো লাগছে যে এখনও ছেলে-মেয়েরা এসব মাটির জিনিসের উপর আকৃষ্টিত হচ্ছে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


