অভিভাবক-শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা, মিষ্টি বিতরণ
আবদুস সালাম
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৭ পিএম
নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের এডহক কমিটি থেকে চন্দন শীলকে অপসারণ করার হাইকোর্টের নির্দেশের পর অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের নির্দেশনার খবর পেয়ে সকাল থেকেই স্কুল গেইটে অভিভাবকরা নিজেদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন। একইভাবে একাধিক অভিভাবক জানান, শিক্ষকরা স্কুলে প্রবেশ করার সময় তাদের মিষ্টি খাইয়ে দেন।
জানা গেছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মোঃ আতাবউল্লাহ’র বেঞ্চ এক আদেশে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডি’র মেয়াদ উত্তীর্ণ না হওয়ার আগেই গঠিত এডহক কমিটি অবৈধ ঘোষণা করে তিনমাসের মধ্যে গভর্নিং বডি’র নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করেন।
উক্ত নির্দেশের প্রেক্ষিতে বর্তমানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডি’র বর্তমান সভাপতি চন্দন শীলের নেতৃত্বে গঠিত সভাপতি সহ ৪ সদস্যের এডহক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং ঢাকা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত গভর্নিং বডি’র এডহক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেন।
নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা হাইকোর্ট থেকে গভর্নিং বডি’র এডহক কমিটি বাতিল করার আদেশ শুনেছি। আদেশের কপি পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ ব্যাপারে রীট আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান জানান, নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের বর্তমান গভর্নিং বডি’র সদস্য ওয়াহিদ সা’দত বাবু, সরকার আলম ও আবদুস সালামের দায়ের করা রীট পিটিশনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্টের এক আদেশে এডহক কমিটি বাতিল করেন।
তিনি জানান, উক্ত আদেশে আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা প্রশাসককে গভর্নিং বডি’র নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে তার স্বাক্ষরে একটি আদেশের প্রত্যয়নপত্র পাঠানো হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের দপ্তরে সেটি গ্রহণ করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দ উৎসব বিরাজ করে। একাধিক শিক্ষক নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, গত দুই বছর যাবত তাদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট অজ্ঞাত কারনে বন্ধ রেখেছে।
এনিয়ে বর্তমান কমিটির উপর শিক্ষকদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। একাধিক শিক্ষক জানান, বর্তমান সভাপতি চন্দন শীল ও হেডমাস্টার মাহমুদুল হকের যোগসাজশে হেডমাস্টার নিজে স্কুলের তহবিল থেকে ৭২০০০/- টাকা মাহবুবুর রহমান ৫২,০০০/- এবং সাথী চক্রবর্তী ৪৮,০০০/- নিয়েছেন।
এনিয়ে শিক্ষকরা অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। এই টাকা কেনো নেয়া হয়েছে শিক্ষক সাথী চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রধান শিক্ষক জানান, সে দশদিনের ছুটি নিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। তবে প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হক এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজী হন নি।
অভিভাবক বিশ্বজিৎ সাহা জানান আমরা বর্তমান গভর্নিং বডি’র মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য দাবী জানিয়েছি। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে নির্বাচন বন্ধ রেখে গোপনে এডহক কমিটি করা হয়েছে। এখন হাইকোর্টের আদেশে আমরা আনন্দিত।
আশা করছি জেলা প্রশাসক হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হককে ফোনে পাওয়া না গেলেও তার দপ্তর থেকে জানানো হয়- ব্যারিস্টার মেহেদী হাসানের একটি প্রত্যয়ন পত্র পাওয়া গেছে যার রীট পিটিশন নম্বর- ১০৩৯/২০২৪। এন. হুসেইন রনী /জেসি


