Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

রিয়াদের আত্মীয় আশা ডাকাতের ভাতিজা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫৫ পিএম

রিয়াদের আত্মীয় আশা ডাকাতের ভাতিজা
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ-ই কিশোরগ্যাংয়ের বিভিন্ন গ্রুপের হামলা-পাল্টা হামলার মতো ঘটনা নতুন কিছু নয়। মাসদাইরে হরেক রকমের মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে আছে এই মাসদাইর। কিন্তু এই এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নানাভাবে নানা অপকর্মের শেল্টার দাতা হিসেবে থাকায় পুলিশ ও অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে নিতে পারে না কোন এ্যাকশন।

 

সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে এই এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছেন সেই মাসদাইর এলাকার প্রধান পরিবার। এই পরিবারের সকল সদস্যরা বিগত দিন থেকে নানাভাবে নানা অপকর্মে জড়িয়ে আছেন। আর এই এলাকা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকা হওয়ার কারণে শামীম ওসমানের পুত্রের ঘনিষ্ঠ লোক পরিচয়ে ফুরফুরে মেজাজে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই।

 

এদিকে গত ১০ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাতে পুরনো শত্রুতার জের ধরে মাসদাইরের মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজির মূলে হোতা সন্ত্রাসী অনিক প্রধান তার বিরোধীতা কারী আলামিন ওরফে (দানিয়ালকে) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে দানিয়ালের বন্ধু শুভ নামের আরেকজন গুরত্বর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কিন্তু ঘটনার চারদিন হয়ে গেলে ও এখন মাত্র গ্রেফতার রয়েছেন একজন। আর বাকিরা এখনো প্রশাসনের নাগালের বাহিরে রয়েছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যায় যারা জড়িত রয়েছেন সকলেই মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের চাচাতো ভাই আবার কেউ বা ভাতিজা। এর মাঝে বাকিরা এজাহার ভুক্ত আসামীরা ও এই রিয়াদের আত্মীয় হিসেবেই পরিচিত। তা ছাড়া এই হত্যার আসামী অনিক প্রধান রিয়াদের চাচাতো ভাই উনি রিয়াদের শেল্টারেই এলাকাতে মাদককারবারি পরিচালনা করতেন, এমনি এলাকায় ছিনতাই করে চলতেন।

 

যাকে ঘিরে এলাকাবাসীরা বলছে রিয়াদের পুরো ফ্যামিলি বিগত দিন থেকেইে ডাকাত ফ্যামিলি নামে পরিচিত। এদিকে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদের চাচাতো ভাই আসামী অনিকের নানা রমু পুলিশের সোর্স ও এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।  

 

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হত্যাকান্ডের আসামী অনিক প্রধানের কোন পদপদবী নেই ছাত্রলীগে তারপরে ও এই অনিক তাকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবেই সকলকে বলতো। আর এই আসামী অনিক প্রধান সকল সময় একটা কথা এলাকাবাসীকে বিগত দিন থেকেই বলে থাকে। আমরা অয়ন ওসমান ভাইয়ের পরিবারের লোকের মতো আর যেহেতু আর আমার ভাই রিয়াদ ভাই মহানগর ছাত্রলীগের যেহেতু সভাপতি সেহেতু বলা যায়। ছাত্রলীগ আমাদের হাতেই পরিচালিত হয়। এদিকে হত্যাকান্ডে মামলা করেছেন দানিয়ালের মা মুক্তা বেগম সেখানে অনিকের নানা রমিজ উদ্দিন রমু, তার ছোট ভাই লাবু, অনিক প্রধান তার ভাই অমিত ও অনিকের মামা ফরহাদ এবং মুরাদকে। কিন্তু মূল যারা হত্যাকান্ডে জড়িত তাদের কোন নাম এখনো এ জাহার ভুক্ত হয়নি।

 

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, গত শুক্রবার রাতে অনিকের ভাতিজা সিয়াম প্রধান চাষাড়া বালুর মাঠে আড্ডা দিচ্ছিলেন, তখন সিয়াম দানিয়ালকে দেখতে পেয়ে তার চাচা অনিককে কল করে বলে চাষাড়া বালুর মাঠে আল-আমিন ওরফে দানিয়াল আড্ডা দিচ্ছে তাড়াতাড়ি আসো। তখনই তাৎক্ষণিক সেখানে উপস্থিত হয় অনিক প্রধান তার লোকদের নিয়ে। পরে অনিক প্রধান-সিয়াম প্রধান কয়েকজন মিলে দানিয়ালকে এলোপেথারি মারধর করেন।

 

চাষাড়া বালুর মাঠে থেকে একটি অটোতে তুলে অনিক ও তার ভাতিজা, ভাই, মামারা দানিয়ালকে নিয়ে অনিকের বাসার মসজিদের সামনে আসেন। ওই সময় সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন অনিক প্রধানের চাচাতো ভাই সুমন প্রধান, তিনি দানিয়ালকে নিয়ে আসা অটোর ভাড়াটা দেয়।

 

পরবর্তীতে সেখানে উপস্থিত হয় অনিকের মা রুমা আক্তার, তিনি এলাকায় চিৎকার করে বলতে থাকে ও আমার ছেলেকে ইচ্ছা মতো মারছে অনিক ওরে মাইরা ফেল। তা ছাড়া তার বাবা জসিম উদ্দিন প্রধান ও সেদিন নানা ভাবে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে বলেন। ওরে মারতে মারতে মেরে ফেল ও অনেক বেশি বাইরা গেছে। যত টাকা লাগে আমি দেখমু, দরকার হলে জায়গা সম্পত্তি বিক্রি করে মামলা চালামু, তার পর ও ওরে ছাড়িছ না।

 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ মাসদাইরকে জিম্মি করে রেখেছেন সেই এলাকার ডাকাত হিসেবে পরিচিত প্রধান পরিবার। মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রধান ও দানিয়াল হত্যা মামলার আসামী অনিক প্রধান, হত্যায় জড়িত সুমন প্রধান উভয়ের চাচা ও অনিকের বাবা জসিম প্রধানের বড় ভাই আর সিয়াম প্রধান, হিমেল প্রধানের বড় দাদা, আশা প্রধান যাকে সকলেই চিনতেন ‘আশা ডাকাত’ নামে। নারায়ণগঞ্জের কোন এলাকা বাকি ছিলো না যে এলাকায় এই আশা ডাকাত তার দলবল নিয়ে ডাকাতি করেনি।

 

জানা গেছে, ফতুল্লা থানার আওতাধীন এনায়েত নগর ইউনিয়ন, ফতুল্লা ইউনিয়ন, কাশীপুর ইউনিয়ন ছাড়া ও সদর থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ছিলো এই আশা ডাকাতের বিশাল ডাকাতির প্রভাব। উনি এই সকল এলাকায় তার দলবল নিয়ে নিয়মিত ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। ডাকাতি করায় তার যে দক্ষতা ছিলো যার পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, আড়াইহাজারের মতো উপজেলাগুলোতে সেখানকার ডাকাত চক্ররা তাকে কন্ট্রাক করে নিয়ে যেত সেই সকল এলাকাগুলোতে ডাকাতি করতে।

 

এই ডাকাত পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবৎ মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকাটিকে দখল করে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন। বিগত দিনে এই ফ্যামিলির সদস্যরা আশা ডাকাতের নামে চললে ও বর্তমানে এই ফ্যামিলির সকল সদস্য তাদের ভাই-ভাতিজা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের শেল্ডারে বর্তমানে মাসদাইরকে নানা অপকর্মের মূল পয়েন্টে পরিণত করেছেন। এই প্রধান পরিবারের কিছু সদস্যদের সকল তথ্য উৎঘাটন করা হলো। যারা দানিয়াল হত্যায় সরাসারি উপস্থিত ছিলেন।  

 

হত্যা মামলার আসামী অনিক প্রধান

 

চাচাতো ভাই রিয়াদ ছাত্রলীগ নেতা ও তার নানা রমু ময়া পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত। যার কারণে মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকায় নানা অপকর্ম করে থাকেন এই অনিক প্রধান। জানা গেছে, এলাকায় মাদক কারবারি, আশেপাশের গার্মেন্টসের লোকদের বেতন দেওয়া হলেই প্রতি বৃহস্পতিবার অনিক তার লোকজন দিয়ে ছিনতাই করাতো। তা ছাড়া নিয়মিত রাত হলেই এই অনিক প্রধান ও তার লোকেরা প্রকাশ্যে ছিনতাই করতেন।

 

এদিকে নানা রমু মিয়া পুলিশের সোর্স হওয়ায় পুলিশ ম্যানেজ করতেন সেই রমু তিনি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত। এমন নানা ছত্রছয়ায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়ে পরেন। এদিকে এলাকাবাসী অনেকেই জানান। তাকে খারাপ করার মূল কারিগর তার বাবা জসিম প্রধান ও তার মা। তারা ও নানা অপকর্মে জড়িত থাকেন যার কারণে ছেলে ও কখনো কিছু বলেনি, আর এই অনিক তার চাচা আশা ডাকাতের মতোই হয়েছে।

 

আরো জানা গেছে, এই অনিক তার চাচাতো ভাই রিয়াদের শেল্ডারেই চলাফেরা করতেন। যার কারণে এলাকায় কেউ তাকে কিছু বলতে সাহস পেতেন না। সেই ছত্রছায়ায় উনি মাসদাইরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এলাকায় পালন করেন বিশাল কিশোরগ্যাং যাদের দিয়ে নিয়মিত এলাকায় নানা মারামারি করতেন তার এলাকার সকলকেই একটি ভয়ের মধ্যেই রাখতেন।

 

কারণ সেই এলাকায় বেশিরভাগ মানুষই ভাসমান যার কারণে তাদের ভয়ে এলাকায় মুখ খুলতে পারতেন না কেউ। কিন্তু বর্তমানে দানিয়ালকে হত্যা করে এই অনিক পলাতক রয়েছেন।

 

হত্যায় জড়িত অনিক প্রধানের বাবা জসিম প্রধান

 

নামকরা আশা ডাকাতের ভাই, ছাত্রলীগের রিয়াদের চাচা ও আসামী অনিক প্রধানের বাবা জসিম প্রধান। হত্যাকান্ডের দিন যখন অনিক প্রধান, দানিয়ালকে নিয়ে বাসার সামনে আসেন তখন এই জসিম প্রধান তার ছেলেকে বলেছেন, ওরে মারতে মারতে মেরে ফেল ও অনেক বেশি বাইরা গেছে। যত টাকা লাগে আমি দেখমু, দরকার হলে জায়গা সম্পত্তি বিক্রি করে মামলা চালামু, তার পর ও ওরে ছাড়িছ না। যেটা পুরো এলাকার মানুষ নিজ কানে শুনেছে।

 

যার কারণে হত্যার নির্দেশ দাতা হিসেবে অনিকের বাবা জসিমের উপরেই আঙ্গুল তুলছেন অনেকে। তা ছাড়া অনিকের বাবা জসিম মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকায় তার নিজ বাসায় নিয়মিত এলাকার আশ-পাশের মাদক ব্যবসায়ীদের দিয়ে জুয়ার আসর বসায়। যা নিয়ে ইতিমধ্যে এলাকার অনেকেই নানা অভিযোগ করেছেন এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে কিন্তু কিছুই হয়নি। তা ছাড়া এলাকায় ভাতিজা রিয়াদের জোর দিয়েই চলেন এই জসিম প্রধান।

 

হত্যায় জড়িত সুমন প্রধান

 

আসামী অনিক প্রধানের চাচাতো ভাই সুমন প্রধান তা ছাড়া এই সুমন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিয়াদেরও চাচাতো ভাই, উনি মাসদাইর বেকারী মোড়ের সুমন বেকারীর কর্ণধার। এই সুমন প্রধান হত্যাকান্ডের দিন যখন তার চাচাতো ভাই অনিক প্রধান দানিয়ালকে চাষাড়া থেকে মারতে মারতে অটো করে মাসদাইর অনিকের বাসার সামনে নিয়ে আসে সে সময় সেই অটো ভাড়া দিয়েছিলেন এই সুমন প্রধান।

 

তা ছাড়া দানিয়ালকে হত্যা করার সময় সেখানে সমুন প্রধান শ্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এই সুমন মাসদাইর এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে জড়িত বলে ও জানা গেছে। তা ছাড়া এই সুমন তার বেকারী হওয়া সত্ত্বে ও সেখানে বেশি একটা সময় দেন না। সেখানে বেশি সময় দিয়ে থাকেন তার ভাই সুজন প্রধান ও মুজিবর প্রধান।

 

আরো জানা গেছে, এই সুমন প্রধান মাসদাইর এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অয়ন ওসমান ও তার চাচাতো ভাই ছাত্রলীগের রিয়াদের নাম বিক্রি করে চাঁদা তোলেন। তা ছাড়া এলাকায় কিশোরগ্যাংয়ের শেল্ডার দাতা হিসেবে ও পরিচিত এই সুমন প্রধান। এমনকি তার দোকানে একটি অফিস বানিয়েছে সেখানে উনি নানা ব্যাবসায়ীদের নিয়ে এসে হয়রানি করার অভিযোগ ও রয়েছে এই সুমনের বিরুদ্ধে, মাসদাইরের বহু ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী অনেকেই এই সুমনে অতিষ্ঠ হয়েছেন। এদিকে হত্যা মামলায় তার নাম না থাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এলাকায়।

 

হত্যায় জড়িত সিয়াম প্রধান

 

আসামী অনিক প্রধান আর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিয়াদের চাচাতো ভাই মুহাম্মদ প্রধানের ছেলে সিয়াম প্রধান, সম্পর্কে এই সিয়াম-আসামী অনিক ও রিয়াদের ভতিজা। হত্যাকান্ডের দিন এই সিয়ামকে মূল হোতা হিসেবেই বলা চলে। কারণ সূত্র মতে জানা গেছে, হত্যাকান্ডের দিন এই সিয়াম প্রধান চাষাড়া বালুর মাঠে তার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন, সে সময় আলামিন ওরফে দানিয়ালকে দেখতে পেয়ে তার চাচা অনিক প্রধানকে কল করে বলেন।

 

সে সময় সাথে সাথে অনিক তার লোকজন নিয়ে চাষাড়া বালুর মাঠে চলে আসেন তখন সিয়াম প্রধান তাকে দেখিয়ে দেয় দানিয়ালকে। সাথে সাথে অনিক ও তার লোকজন দানিয়ালকে মারধর করেন এবং অটোতে করে চষাড়া থেকে নিয়ে যায় তার এলাকায়। সে সময় সিয়াম প্রধান ও সাথে থেকে তাকে নিয়ে যায় ও এলাকায় নিয়ে দানিয়ালকে মারধর করেন, বলে জানা গেছে।

 

আরো জানা গেছে, এই সিয়াম প্রধান ছাত্রলীগের রিয়াদের চাচতো ভতিজা হওয়ায় তাকে দিয়ে কলেজ রোড এলাকার বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করান। এমনকি তোলারাম কলেজের আশ-পাশের দোকানগুলো থেকে সপ্তাহিকভাবে দোকান প্রতি রিয়াদের নামে ১০০০ করে টাকা তুলেন।

 

তা ছাড়া রিয়াদের নাম বিক্রি করে নানাভাবে চাঁদাবাজিসহ মাসদাইর এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকেন। তা ছাড়া রিয়াদের মিছিল মিটিংয়ে লোক নিয়ে আসে তার চাচতো ভাতিজা সিয়াম প্রধান। চাচা ছাত্রলীগ ও প্রভাশালীদের ঘনিষ্ঠ লোক হওয়ায় সেই তকমাতে ভর করেই এলাকায় মাদককারবারি ও কিশোর গ্যাংদের সাথে জড়িত রয়ে আছেন এই সিয়াম প্রধান।

 

হত্যায় জড়িত হিমেল প্রধান

 

হিমেল প্রধান আসামী অনিক প্রধানের ভাতিজা, তা ছাড়া ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিয়াদের জেঠাতো ভাই হিরো প্রধানের ছেলে সেই সম্পর্কে রিয়াদের ভাতিজা এই হিমেল প্রধান। হত্যাকান্ডের দিন এই অনিকের সাথে মিলে হিমেল প্রধান ও দানিয়ালকে মারধর করেছেন। কিন্তু মামলা তার নাম না থাকায় দিব্যি এলাকায় রয়েছেন। তা ছাড়া এই হিমেল তার চাচা রিয়াদের সাথে মিছিল মিটিংয়ে যায় এবং তা চাচা রিয়াদের নাম বিক্রি করে অপকর্ম করে থাকেন।

 

হত্যায় জড়িত তুহিন

 

মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের মাসদাইরে ওয়াইফাই ব্যবসা দেখা শোনা করেন এই তুহিন। তিনি সব সময় রিয়াদের সাথেই থাকেন। এই তুহিন আলামিন ওরফে দানিয়ালকে হত্যার দিন সেও সাথে জড়িত ছিলেন। তা ছাড়া ও এই তুহিন মাসদাইরে রিয়াদের চাচাতো ভাই হত্যার প্রধান আসামী অনিক প্রধানের সাথে নানা অপকর্মে জড়িত রয়েছেন। এদিকে হত্যা মামলায় এই তুহিনের নাম না আসায় এখনো এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই তুহিন।

 

এদের এখনো দানিয়ালের হত্যা মামলায় আসামী করা হয়নি কিন্তু এরাই হত্যার মূল হোতা হিসেবে রয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মাধ্যমেই হত্যার সকল বিষয় উদঘাটন হবে বলে মনে করছে মাসদাইর এলাকাবাসী।

 

ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদের কুকীর্তিও কম নয় :

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ১৫ জুলাই রাতে সরকারি তোলারাম কলেজের সামনের সড়ক দিয়ে হেঁটে যাবার সময় ছাত্রদলের ৪ নেতা-কর্মীকে বেধড়ক পেটায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। মারধরের এই ঘটনায় ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেন হাবিবুর রহমান রিয়াদ। ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গেলে ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দিয়ে দুই সাংবাদিককে মারধর করেন তারা। তাদের মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিক তার মোবাইল ফেরত পান।

 

২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সরকারি তোলারাম কলেজে ফরম পূরণ করতে গিয়ে হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও তার লোকজনের মারধরের শিকার হন আতা-ই-রাব্বি ও আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির স্নাতকের দুই শিক্ষার্থী। তারা দু’জন যথাক্রমে ওই কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর একইভাবে ফরম ফিলাপের জন্য গেলে নিজ বিভাগের সামনে মারধরের শিকার হন স্নাতক তৃতীয় বর্ষের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ছাত্র সৌরভ হোসেন সিয়াম।

 

সাংবাদিকতার সাথে জড়িত এই শিক্ষার্থীকে তোলারাম কলেজের ভেতরে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল বেধরক মারধর করেন হাবিবুর রহমান রিয়াদ। কলেজের ওই কক্ষটিকে রিয়াদ নিজের টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীকে সেখানে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে কলেজের সামনের সড়কে শাহজাহান আলী নামে আরেক ছাত্রকে বেধরক পেটায় তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

 

ওই হামলায়ও নেতৃত্ব দেন হাবিবুর রহমান রিয়াদ। সাধারণ ছাত্র, ছাত্রনেতা ও সাংবাদিকদের পিটিয়েই কেবল আলোচিত নন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউপির একটি ভোটকেন্দ্র দখলে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন হাবিবুর রহমান রিয়াদ। ভোটকেন্দ্রের সামনে বিশৃঙ্খলা করা রিয়াদ ও তার দলবলকে লাঠিপেটাও করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন।

 

পরে তাদের কাছ থেকে ককটেল, ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটাও উদ্ধার করে র‌্যাব। এই ঘটনায় কিছুক্ষণ পর ওই কেন্দ্রে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান যান। তখন রিয়াদ র‌্যাব সদস্যদের দেখিয়ে শামীম ওসমানের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের কুত্তার (কুকুর) মতো পিটিয়েছে।’

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান রিয়াদ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান ওরফে অয়ন ওসমানের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও ছাত্রলীগের একটি অংশকে এখনও নেতৃত্ব দেন রিয়াদ।

 

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে শহরের চাষাঢ়ায় আল-আমিন ওরফে দানিয়েল নামে ২৮ বছর বয়সী এক যুবককে কুপিয়ে লাশ ফেলা হয় মাসদাইরে তার বাড়ির সামনে। এই হত্যাকান্ডে জড়িতরাও হাবিবুর রহমান রিয়াদের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন