শেষ মুহুর্তে কেনাকাটার ধুম; ঢাকা বাইপাসে তীব্র যানজট
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৮ পিএম
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর নতুন শহর প্রকল্পের স্থায়ী প্যাভিলিয়নে চলছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮ তম আসর। ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, স্বরসতি পূজা আর বসন্ত বরণের ছোঁয়া লেগেছে মেলায়। বাসন্তি শাড়ী, খোঁপায় ফুল আর দলবেঁধে তরুণ তরুণীদের পদচারনায় মেলা প্রাঙ্গণ জমজমাট। এদিকে ঢাকা বাইপাস সড়কে যানজটের কারনে যাত্রী ভোগান্তি ছিলো চরমে।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, স্বরসতি পূজার ছুটির দিনে বুধবার দিনভর লোকারণ্য। স্টল আর প্যাভিলিয়ন ছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে নানা ভঙ্গিতে ছবি তোলায় ব্যস্ত দেখা যায় আগত দর্শনার্থীদের। তবে তুলনামূলক উপস্থিতি কম দেখা গেছে আজ।
রাজধানীর একুশে বই মেলার প্রভাবে এমন পরিস্থিতি হতে পারে বলে ধারনা মেলা সংশ্লিষ্টদের। তবে এ মেলা ঘিরে সব রকম পন্যের স্টলে ভির আর বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে । ফলে মেলার আশপাশ এমনকি পুরো পূর্বাচলে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মাঝে নারীরা খোঁপায় ফুল গেঁথে প্রবেশ করছেন। পাশাপাশি মেলায় ফুল বিক্রেতারা মাথায় দেয়ার জন্য বিশেষ মুকুট ১শ টাকা দরে বিক্রি করছে। কথা হয় ফুল বিক্রেতা মনি আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা ৪০ জনের মতো টিকেট কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছি। আমরা থাকি বেদে পল্লীতে। দুটো পয়সা রোজগারের আশায় মেলায় আসছি। ফুলগুলো প্রাচীরের বাইরে থেকে ভেতরে ফেলে আমরা টিকেট কেটেই আসি।
আজ ভালোবাসা দিবসের কারনে বেশি বিক্রি হচ্ছে ফুল। মেলায় ঘুরতে আসা গোয়াল পাড়ার বাসিন্দা শিক্ষার্থী শাহরিন জান্নাতি বলেন, স্কুল বন্ধ, তাই বাবার সাথে মেলায় ঘুরতে আসছি। ফুল কিনলাম, আইসক্রিম খেলাম আর খেলনা কিনলাম। শিশুপার্কেও কয়েকটি রাইডে চড়েছি। ভালো লেগেছে।
২৩ তম দিন বুধবার বিকালে মেলা ঘুরে দেখা যায়, নিত্য পন্য ছাড়াও ইলেক্ট্রনিক পন্যের পাশাপাশি নামীদামী প্রতিষ্ঠানের ফার্নিচারের সমাহার। এসব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ছাড় দেয়ায় ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ । তবে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়ায় নারী বিক্রয় কর্মী, আগত দর্শনার্থীদের মাঝে নারীদের সাজসজ্জায় দেখা গেছে ভিন্নতা। এ ভিন্নতা আনতে ভাসমান ফুল বিক্রেতাদের মেলাজুরে আনাগোনায় অনেকটা শোভা বাড়িয়েছে।
মেলায় প্রবেশদ্বারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন নিরব বলেন, আজ ভ্যালেন্টাইনস ডে। তাই যারা প্রবেশ করছে বেশিভাগ নারীদের গায়ে ও খোঁপায় ফুল পড়া দেখছি। পাশাপাশি ফুল বিক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি।
মেলায় একটি আইসক্রিম কোম্পানির স্টল পরিচালক গোলাম রাব্বি বলেন, আজ মেলায় সবচেয়ে বেশি তরুণ তরুণীরা এসেছে। দর্শনার্থীদের মাঝে অনেকে ক্রয় করছেন আবার চাহিদামতো ডিজাইন ধরনের দিক বিবেচনায় অর্ডার করছেন কেউ কেউ।
মেলার ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা দানকারী বেসরকারি হাসাপাতাল ডিকেএমসির পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, সব সময় মেলার শেষের দিকে জমে ওঠে বেশি। লোকজনের উপস্থিতি ভালো হয়। এর মাঝে আজ বিশেষ উৎসব, পূজা চলছে। এ দিন ঘিরে তাই কিশোর কিশোরী, তরুণ তরুণীদের উপস্থিতি বেশি। তবে কেনাকাটা বেশি হচ্ছে। আমরা দর্শনার্থীদের মাঝে কেউ অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসা সেবায় বুথ নিয়ে প্রস্তুত আছি।
এদিকে মেলায় প্রবেশের প্রধান সড়ক ঢাকা বাইপাস জুরে তীব্র যানজট ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন দর্শনার্থীদের অনেকে। ভুলতার এলাকায় বাসিন্দা খাইরুল ইসলাম বলেন, কাঞ্চন ব্রিজের টোল আদায়ে ধীরগতি, সড়কটির ৮ লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকা আর মেলার কারনে যানজট লেগে থাকে। আমরা প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।
এ সড়কে দায়িত্বরত এটিআই নাজমুল ইসলাম বলেন, সড়কের গোলাকান্দাইল মোড় থেকে বাণিজ্য মেলা পর্যন্ত প্রায়ই যানজট থাকে। তবে দীর্ঘক্ষণ থাকতে দেই না। মাঝে মাঝে সড়কে গাড়ী বিকল হলে বেশিক্ষণ যানজট হয়। এতে ভোগান্তি হয়। আর রাজধানী থেকে যারা আসে তারা শেখ হাসিনা সরণি দিয়ে ভালোমতো আসতে পারছে।
কলামিষ্ট লায়ন মীর আব্দুল আলীম বলেন, এবারের মেলা আগের তুলনায় জমজমাট। রূপগঞ্জের বাসিন্দা হিসেবে আমরা গর্বিত। আমাদের এলাকায় দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক আয়োজন চলছে। আমরা এ মেলাকে প্রানবন্ত করতে সবার অংশগ্রহণ কামনা করি।
মেলা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবী, দর্শনার্থীদের উপস্থিত বাড়ায় বিক্রি বেড়েছে। তবে বিক্রিই উদ্দেশ্য নয়। পন্যগুলো বিক্রির চেয়ে প্রদর্শনীতেই প্রাধান্য দেয়া হয়। তবে বিক্রি ভালো হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন পূর্বাচলের স্থায়ী ভ্যানুতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ব্যবসায়ীরা আশায় রয়েছেন সরকারি ছুটির দিনের।
সূত্রমতে, এবারের মেলায় দেশ-বিদেশের মোট ৩৩০টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়েছে । যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি বিদেশি স্টল । এ ছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তারাও তাঁদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির স্টল সাজাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে এ মেলায় এবার ৫শ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাবেন জানিয়েছেন ইপিবি। এন. হুসেইন রনী /জেসি


