Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

হকার্স মার্কেট এখন ভাতের হোটেল-গোডাউন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৩ পিএম

হকার্স মার্কেট এখন ভাতের হোটেল-গোডাউন
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ শহরে নগরবাসীর মাথাব্যথার অন্যতম কারণ ফুটপাতে হকার। যাদের কারণে নারায়ণগঞ্জবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। নগরবাসীকে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট করতে হয় রাস্তায়। যাদের কারণে শহরে যানজট লেগেই থাকে সারাক্ষণ। ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জবাসীকে শান্তিতে শহরে চলাফেরা করার জন্য হকার উচ্ছেদ এর সময় হকারদের হাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এর মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে রাস্তার উপরে মার খেয়েছেন।

 

কিন্তু ২০০৮ সালে পৌরসভার আমলে এই আইভীই হকারদের স্থায়ী সমাধানের জন্য পুনর্বাসনের জন্য চাষাড়া মিশনপাড়ায় হকার্স মার্কেট করে দেন। যা নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা (বর্তমান সিটি করপোরেশন) এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে ২০০৮ সালে নির্মাণ করা হয় তাতে সব মিলিয়ে ৬৭২টি দোকান নির্মাণ করা হয়। এবং শহরে বিভিন্ন স্থানের হকারদের এই মার্কেটে পুনর্বাসন করা হয়।

 

তবে ১৫ বছর আগের হকার মার্কেট তারা বিভিন্ন লোকার কাছে বিক্রি করে ফের রাস্তায় ফুটপাতে চলে আসেন। সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা (বর্তমান সিটি করপোরেশন) হকার্স মার্কেট এ ৬০০ দোকান নির্মাণ করেন ও সেনাবাহিনী আরো ৭২ টি টিনশেট ঘর নির্মাণ করে দেন। যেগুলো বর্তমানে রাস্তার হকারদের গোডাউন ও হোসিয়ারী এবং ভাতের হোটেল।

 

যার মধ্যে ৪৫১টি দোকান বিক্রি করেই ফের রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকটি দোকান দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ হয়ে পরে আছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হকার্স মার্কেটে মোট গলি রয়েছে প্রায় ২৪ টি । যার মধ্যে প্রত্যেক গলির সামনের দোকানগুলোতে ঠিক মত ব্যবসা চালু আছে। আর বাকি গুলো বেশির ভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাতের হোটেল, মিনি হোসিয়ারী। আর বাকি বেশির ভাগ হলো গোডাউন।

 

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জবাসাীকে শান্তি দিতে নারায়ণগঞ্জ সকল জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক গোল টেবিলের আয়োজন করেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব। যেখানে অংশগ্রহণ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহমুদুল হক, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শহরে অবৈধ কোন পরিবহন প্রবেশ করতে পারবে না ও শহরে কোন রাস্তার ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের একশন শুরু হয়। পুনরায় বাম নেতাদের সহযোগিতায় ২০১৮ সালের মত এক বর্তমানে রাস্তায় তাদের পুনর্বাসনের দাবীতে মিছিল মিটিং চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বিগত সময়ে পুনর্বাসন করা দোকানগুলো কেন বিক্রি করে দিয়েছেন এই হকাররা? যারা বর্তমানে আন্দোলন করছে তাদের অনেকের নামে রয়েছে বেশ কিছু দোকান সেই হকার্স মার্কেটে।

 

তবে ২০১৮ সালে সিটি করপোরেশন এর মেয়র আইভীর করে দেওয়া মার্কেটে দোকান মালিকদের আলাদা একটি কমিটি রয়েছে যার নাম হলো, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হকার্স মার্কেট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি যার সভাপতি হলেন ডালিম ও সাধারণ সম্পাদক হলেন শহীদ। কিন্তু এ সমিতির সদস্য হলেন হকার্স লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম ও সাধারণ সম্পাদক আসাদসহ অনেকে। কিন্তু তাদের নামে দোকান থাকার পরেও দোকান বিক্রি করে রাস্তায় নামতে হচ্ছে তাদের?

 

শহরের ফুটপাতে কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে নারায়নগঞ্জ শহরে হকার এর সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৬০০ এর মত যাদের থেকে প্রতিদিন ১০০টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয় সেই চাঁদা নাকি বিভিন্ন মহলে ভাগ করে দেওয়া লাগে। 

 

হকারদের পক্ষে সিপিবির জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, চাষাড়া শহীদ মিনারে হকারদের সমাবেশে বলেন মানুষকে মাটি দিতে হলে সাড়ে তিন হাত জায়গার দরকার হয় আর আপনি তো দুই হাত বাই তিন হাত দোকান বানিয়েছেন যেখানে একজন বসলে আরেকজন বসার জায়গা নেই। হকাররা দোকান বিক্রি করেছে এই তথ্যে আমি একমত নই। তারা দোকানগুলো বড় করে একজনের কাছে দায়িত্ব দিয়েছে। এটা সত্য অনেকেই ফের ফুটপাতে ফিরে এসেছে। আমরা মনে করি এই স্থানে বহুতল ভবন করে হকারদের পুনর্বাসন করা হলে এবং একটি নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা হলে হকাররা উপকৃত হবে।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হকার্স মার্কেট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি যার সভাপতি ডালিম হোসন ডালু যুগের চিন্তাকে বলেন, এখানে যাদের দোকান রয়েছে তারা অনেক রাস্তায় ফুটপাতে দোকানদারী করেন। আমাদের হকার্স মার্কেটে কোন খালি দোকান নেই। এখানে যারা ব্যবসা করছে তাদের কোন সমস্যা নেই তারা অনেক ভালো আছেন। তাদের কোন অভিযোগ নেই। ভাই আপনার সাথে আমি বেশি কিছু বলতে পারবো না। নারায়ণগঞ্জ সিটির করপোরেশন ও সেনা বাহিনী ও ডিসি সাহেব মিলে যে সিদ্ধান্ত নিবে আমরা সেটা মেনে নিবো। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন