এখন শামীম ওসমানের দিকেই সকলের নজর
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৪ পিএম
# হকাররাই বলছেন এতোদিন তারা শামীম ওসমানের কারণে ফুটপাতে বসতে পেরেছেন!
নারায়ণগঞ্জের প্রায় সব মানুষই বিশ্বাস করেন যে শামীম ওসমান না চাইলে কোনো হকার আর নতুন করে ফুটপাত দখল করতে পারবে না। এখন দরকার শুধু তার একটি হুংকার। কারণ নারায়ণগঞ্জবাসী এটাও মনে করেন এই যে হকাররা নতুন করে ফুটপাত দখল করার পায়তারা করছে এতে শামীম ওসমান এমপির ইন্দন থাকতে পারে। যদিও শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে এই সময়ে এসে শামীম ওসমান অনেকটাই বদলে গেছেন। আন্তরিকভাবেই চাইছেন নারায়ণগঞ্জ শহরবাসী একটু স্বাচ্ছন্দে বসবাস করুক।
এমনিতেই বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ সহ সন্ত্রাস চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এই শহরের মানুষ। তার উপর বহিরাগত হকাররা ফুটপাত দখল করে যেভাবে গণমানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। মা বোনদের পায়ে হেঁটে চলার পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। ছেলেমেয়েরা স্বাচ্ছন্দে স্কুল কলেজে যেতে পারছে না। রাস্তায় যানজটে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকা পরে কষ্ট পাচ্ছে তাদের জন্য মায়া কান্না শুরু করেছে গণমানুষের ঘৃনার পাত্র কিছু বামপন্থী নেতা। কিন্তু এবার শামীম ওসমান তাদেরকে সায় দিচ্ছেন না।
তবে মানুষ এসব বামপন্থীদের কোনো রকম পাত্তা দিচ্ছে না। কারণ তারা যদি মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতো তাহলে নিশ্চয়ই তারা এই দেশের রাজনীতিতে আরো ব্যাপক জনপ্রিয় হতো। এদের কোনো জনসমর্থন তো নেইই বরং তাদের এই ধরনের হঠকারী কর্মকান্ডের কারণে তাদের উপর নারায়ণগঞ্জবাসী বেশ ক্ষুব্ধ। কেননা অবৈধ হকাররা এই নগরবাসীর জীবন একেবারে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তবে এতোদিন হকার ইস্যুতে শামীম ওসমান এমপিকে দোষারোপ করা হলেও এখন আর সেটা করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন অনেকে।
কারণ শামীম ওসমান এদেরকে শেল্টার দেয়া বন্ধ করেছেন। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে গোলটেবিল বৈঠকের পর থেকে এ বিষয়ে সজাগ রয়েছেন শামীম ওসমান। তিনি দায়টা নিজের কাঁদে আর নিতে চাইছেন না। জানা গেছে, হকারদের পক্ষ থেকে তার সাথে বার বার যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতে তিনি কোনো রকম সায় দিচ্ছেন না। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ এবং নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষকে অপমান করতে চান না শামীম ওসমান।
তিনি এখন এটা ভালোই বুঝেছেন যে এখন যেকোনো মূল্যে একটি সুন্দর নারায়ণগঞ্জ পেতে চান অত্র অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, যার দায়িত্ব অনেকটাই শামীম ওসমানের উপর বর্তায়। এদিকে হকাররা নিজেরাই শহীদ মিনারে বক্তৃতা দিয়ে বলেছেন এতোদিন তারা মেয়র আইভী ও সেলিম ওসমান এমপির কাছে প্রশ্রয় না পেলেও এমপি শামীম ওসমানের কাছে প্রশ্রয় পেয়েছেন। তাই হকাররা এই কথা বলার মধ্য দিয়ে শামীম ওসমানকে নগরবাসীর কাছে হেয় করেছেন বলেই মনে করেন এই শহরের সচেতন মহল।
কেননা হকাররাই বলছেন এতোদিন যে তারা নগরবাসীকে জিম্মি করে রেখেছেন এটা তার শামীম ওসমান এমপির প্রশ্রয়েই করতে পেরেছেন। তাই শামীম ওসমান এই অপরাধীদের মাথার উপর থেকে তার ছায়া সরিয়ে নেয়ার পর অনেকটাই বদলে গেছে চিত্র। সাধারণ মানুষ আশা করছেন শামীম ওসমান যদি তার এই অবস্থান বজায় রাখেন তাহলে এই শহরে স্বস্তি ফিরে আসতে সময় লাগবে না। গণমানুষের ঘৃনায় খরকুটোর মতো ভেসে যাবে এসব বামপন্থীরা। তাই নগরবাসী তাকিয়ে আছেন শামীম ওসমানের দিকে।
তিনি কি করেন সেদিকে সকলের নজর। কারণ এরই মাঝে একটি মহল এই অপপ্রচার শুরু করেছে যে শামীম ওসমানই নাকি নতুন হকারদের মাঠে নামিয়েছেন। তাই নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এই এমপিকেই প্রমান করতে হবে তিনি কোনো মতেই আর হকারদের কোনো রকম প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। তিনি এবার আন্তরিক ভাবে যানজট মুক্ত এবং সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত নারায়ণগঞ্জ গঠন করেেত চান। তাই আগামী দিনগুলিতে এই এমপি কি করেন সেদিকেই থাকবে সকলের নজর।
এছাড়া মেয়র আইভী আর এমপি শামীম ওসমানের মাঝে এতোদিন যে বিরোধ ছিলো সেটার এখন অবসান ঘটেছে। মানুষ আশা করছে তারা সেলিম ওসমানকে সঙ্গে নিয়ে মিলেমিশে নগরবাসীর জন্য ভূমিকা রাখবেন। আর সাধারণ মানুষ এটাও মনে করেন তাদের মাঝে আবারও বিরোধ সৃষ্টি করার জন্য তাদের আশপাশে থাকা কিছু লোক উস্কাতে থাকবে। তাই তারা দুইজন কে কতোটা দক্ষতা ও ধৈর্য্যের সহিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। এস.এ/জেসি


