সিরাজউদ্দৌলা সড়কে পথচারীদের স্বস্তি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪১ পিএম
নারায়ণগঞ্জের দুই আসনে দুই এমপি এবং সিটি মেয়রের গোল টেবিল বৈঠকের পর থেকেই নগরের ফুটপাত গুলোকে হকার মুক্ত দেখা যায়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে অন্যান্য মূল সড়কগুলো মধ্যে হকারদের দখলে ছিলো সিরাজউদ্দৌলা সড়ক। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুরো সড়কটি থাকতো হকারদের দখলে। স্কুল-কলেজ সহ বাজারের প্রবেশ এবং অবৈধ অটো স্ট্যান্ড থাকার কারনে যানজট লেগেই থাকতো।
এছাড়া রাত ৮ টা না বাজতেই বন্ধন বাসগুলো এসে ২ লেনের সড়কের ১ লেন দখল করে দাড়িয়ে থাকতো। গোল টেবিল বৈঠকের পর প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কয়েকজন প্লাস্টিকের বস্তা করে মালামাল নিয়ে বসলেও । সড়কটিতে এখন সাচ্ছ্যন্দে চলাচল করতে পারছে বলে জানায় পথচারীরা।
সরজমিনে দেখা যায়, পুলিশের কড়াকড়ি নজদারির কারণে সিরাজউদ্দৌলা সড়কটি হকার মুক্ত রয়েছে। আগে যেখানে একপাশ দখল করে প্রায় ৩০-৪০ জন হকার সেখানে চাকার গাড়ি কিংবা কাঠের চৌকি করে বসতো। হকারদের কারনে দিবারাত সেখানে যানজট লেগে থাকতো। এছাড়াও সেখান দিয়ে পথচারীরা চলাচল করতে পারতো না। এখন সেই সড়কটি রয়েছে হকার মুক্ত। একারনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ পথচারীরা।
এ বিষয়ে পথচারীরা বলেন, গত মাসেও এই সড়ক দিয়ে হাটাই যেতো না। মার্কেট থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ ও কাজে যাওয়ার জন্য এই সড়কটি দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে অনেকেই। কিন্তু সড়কের দুপাশের ফুটপাত হকাররা দখল করে রাখার কারনে ফুটপাত দিয়ে হাটা চলা করতে পারা যেতো না। বাধ্য হয়ে মানুষ মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতো।
কিন্তু সেখানেও শান্তি ছিলো না। কারন রাস্তাতেও প্রায় সবসময়ই লেগে থাকতো যানজট। এখন অবৈধ গাড়ির চলাচল কম এবং হকার না থাকার কারনে মানুষ এখন স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জে কলেজের নাজিফা নামে অর্নাস পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, আগে কলেজ থেকে বের হলেই দেখতাম হকাররা আর ক্রেতারা একাকার হয়ে আছে। তার উপরে এখানে একটা অটো স্ট্যান্ড ছিলো সেটা প্রায় বাজারের মুখ থেকে কলেজের প্রায় কাছাকাছিই ছিলো। কলেজ থেকে বের হলেই দেখতাম গাড়ির জানযট না হয় হকারদের সমস্যা। এখন এই ব্যপার না থাকার কারনে ভালোই লাগছে।
নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের শিক্ষার্থীর অভিভাবক রাবেয়া বেগম বলেন, সকাল বেলা স্কুলে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করার সময় তেমন একটা সমস্যা হতে না। কারন তখন তো ছেলে মেয়েরা এক সাথে ভিতরে ডুকতো না। কিন্তু বিকাল দিকে তো সব ছেলেমেয়েদের ছুটি দেয় সেসময় একসাথে সব বাচ্চারা বের হলে একটা যানজট এখানে লেগে যেতো। প্রথমত রিকশা-গাড়ির যানজট তার উপর বিভিন্ন ফল-ব্যাগ কিংবা অন্যান্য মালামাল নিয়ে হকারদের যানজট।
সব মিলেয়ে বিকাল দিকে বাচ্চাদের জন্য এটা একটা ঝৃকিপূর্ণ সড়ক হিসেবে দাড়াতো। কিন্তু এখন সেটা নেই দেখে ভালা লাগছে। যানজট আর হকার বা অন্যান্য সমস্যা না থাকার কারনে এখন অনেকটা নিরাপদে থাকতে পারছি। এন. হুসেইন রনী /জেসি


