বাণিজ্যমেলায় কারাপণ্য, গাড়ি পার্কিং স্ট্যান্ডে আগ্রহী দর্শনার্থী
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪১ পিএম
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রচার ও প্রসার এবং বিদেশি আমদানি-রপ্তানিকারকদের সাথে বাংলাদেশি আমদানি-রপ্তানিকারকদের মেলবন্ধনের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা'র ২৮ তম আসর প্রায় শেষ মুহুর্তে পৌঁছেছে। আর মাত্র দুদিন থাকলেও ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা আর ক্রেতাদের দাম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা ও আশপাশের জেলার লাখ লাখ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বার্ষিক কেনাকাটা ও বিনোদনের একটি মাধ্যমে থেকে অনেকেই ছাড়ের আশায় এসে মেলা থেকে পণ্য ক্রয় করেছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাণিজ্য মেলা হলেও গত ৩ বছর থেকে পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী এক্সিবিশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মেলায় তৈজসপত্র, কাপড়চোপড়, অলংকার, প্লাস্টিক সরঞ্জাম, খাদ্যদ্রব্যসহ নানারকম জিনিসপত্রের দোকান রয়েছে। বাংলাদেশি বড় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি অনেক ছোট ছোট বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও অংশ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক কিছু প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
পূর্বাচলে ২০ একর জমির ওপর বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারটি নির্মিত হয়েছে। প্রদর্শনী কেন্দ্রে ৭ হাজার ১৭৩ স্কয়ার মিটারের দুইটি পৃথক প্রদর্শনী হল রয়েছে। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই কেন্দ্রে সম্মেলন কক্ষ, সার্ভিস রুম, প্রেস কক্ষ, খাবারের জন্য বিশাল কক্ষ আর বাচ্চাদের খেলার জায়গা রয়েছে।
মেলায় লোকজনের আসা-যাওয়ার সুবিধার জন্য বিআরটিসির দোতলা বাসের সেবা দেয়া হচ্ছে। কুড়িল বিশ্বরোডের মোড় থেকে এসব বাসে করে মেলা পর্যন্ত যাওয়া যায়। মেলায় এবার বেশ কিছু আকর্ষণী স্টল প্যাভিলিয়ন থাকলেও নজর কেড়েছে কারাপন্যের প্যাভিলিয়ন। বেশ কিছু দর্শনার্থীদের আগ্রহ আবার কারপার্কিং স্ট্যান্ডে।
মগবাজার থেকে আসা গৃহীনি হালিমা বেগম বলেন, এতোদিন শুনতাম কারাগারে বসে কয়েদিরা পন্য তৈরী করে। এখন স্ব চোখে দেখলাম। কিনলাম। ২৪শত টাকা দাম লেখা। ছাড় দিয়ে ১৮শ টাকায় বিক্রি করলো। ভালো লাগলো।
কথা হয় কারা অধিদপ্তরের প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ ও খুলনা জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. জামাল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, সারাদেশে ৬৮ টি কারাগারের ৩৩ টি কারাগারেই পন্য তৈরীর কারখানা ও হস্তশিল্পের সুযোগ রয়েছে। কয়েদীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষ করতেই সরকারের এমন উদ্যোগ। আমরা বেশ সাড়া পেয়েছি। ভালোপন্য কমদামে পাচ্ছে। এসব বিক্রিত পন্যের ৫০ ভাগ মুনাফা শিল্প সংশ্লিষ্ট কয়েদীরা পেয়ে থাকেন।
কথা হয় গাজী গ্রুপের হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা ও প্যাভিলিয়নে দায়িত্বরত কর্মকর্তা শেখ ফরিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, মেলায় ৩০দিনে ভালো সারা পেয়েছি। বিক্রিও ভালো হয়েছে।
মেলায় গাড়ীর পার্কিং স্ট্যান্ড নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের একটি খোলা বুথ চোখে পড়ার মতো। দর্শনার্থীরা একবার হলেও তা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। অনেকে বিষয়টি জানতে প্রদর্শনী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ইছাখালী এলাকার বাসিন্দা রোকসানা বলেন, বাণিজ্য মেলায় তো প্রতিদিন আসার কিছু নেই, একবার এলেই যথেষ্ট। তবে পরিবারের জন্য দরকারি কিছু তৈজসপত্র কেনার ইচ্ছা থেকে প্রতিবছর এই মেলায় আসা হয়।
মেলায় ঘুরতে আসা কলামিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ এর মহাসচীব মীর আব্দুল আলীম বলেন, মেলা ঘুরে দেখলাম তুলনামূলক দর্শনার্থী কম। তবে পূর্বাচলে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এবারের মেলায় যাতায়াত পরিবেশ ও অভ্যন্তরীন শৃঙ্খলা খুবই ভালো লাগলো। আর মেলা প্রথমেই জমবে এমন আশা করা যায় না। ক্রমেই জমবে। ঢাকা বাইপাস সড়কের ৮ লেন হলে এ মেলার পরিধি বাড়াতে হবে।
এদিকে মেলায় থাকা ব্যবসায়ীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্যনীয়। মেলার সময় বাড়াতে ব্যবসায়ীরা দৌড়ঝাঁপ করছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। ব্যবসায়ী মাসুম চৌধুরী অপু বলেন, আমরা ৩ দিনের সময় চেয়ে সংশ্লিষ্ট সব দফতরে আবেদন করেছি। তারা নাকচ করলেও একদিন মেলার সময় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাতে আমাদের কিছুই হবে না। লোকসানের আশঙ্কা জানিয়ে এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, এবার মেলার সময়সূচি নিয়ে শুরু থেকে জল ঘোলা হয়েছে।
সাধারণত ১ জানুয়ারি থেকে বাণিজ্য মেলা শুরু হলেও, নির্বাচনের কারণে এবার মেলা কিছুটা পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৫ জানুয়ারি মেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মেলা উদ্বোধন হয় ২১ জানুয়ারিতে।
সময় নিয়ে নিশ্চিত না থাকায় এবং নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি কেমন হবে, এ নিয়ে সংশয় থাকায় মেলার শুরুতে প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। তাই অনেকেই সময়মতো স্টল প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করতে পারেনি। আমরাও পারিনি। যে টাকায় বরাদ্দ নিয়েছি সে টাকা তুলতে পারবো না। লোকসান হবেই। তাই আমাদের কথা বিবেচনা করে সময় বাড়ানো দরকার। এন. হুসেইন রনী /জেসি


