হত্যা মামলার আসামী আসাদ কিসের ট্রেনিং নিয়েছে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩৯ পিএম
দেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করেছে। তার স্বাধীনতা কামী মুক্তিযোদ্ধাদের বিনিময়ে বাংলাশে স্বাধীন মানচিত্র পেয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধারা তখন অল্প ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ শেষে তারা অস্ত্র জমা দিয়ে দেন। তবে হঠাৎ করে আসা হত্যা মামলার আসামী হকার নেতা আসাদ তার বক্তব্যে বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না। অস্ত্র জমা দিয়েছি। ট্রেনিং জমা দেই নাই। তার এমন মন্তব্যের পরে শহর জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
কেননা এই হকার নেতা আসাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। পুলিশের উপর হামলার মামলা রয়েছে। এমনকি নাসিক মেয়র আইভীর উপর হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সেই মামলাও আসাদের নাম রয়েছে। তাছাড়া আসাদের বিরুদ্ধে চাদাঁবাজির অভিযোগ রয়েছে। তাই নগরবাসি প্রশ্ন তুলেন নানা অপকর্মের হোতা আসাদ কিসের ট্রেনিং করেছেন। তিনি কার সাথে যুদ্ধ করতে চান। কেননা সে তো কোন মুক্তিযোদ্ধা নন দেশ স্বাধীনে অবদান রাখবে। তাহলে তিনি কাকে হুমকি দিলেন। অথচ এই হকার নেতা অবৈধ ভাবে সড়কের ফুটপাত দখল করে মানুষ চলাচলে ব্গ্মি সৃষ্টি করছেন।
এদিকে নগরবাসি থেকে শুরু করে দোকান মালিক সমিতির লোকজন দাবী তুলেছেন ফুটপাতে যেন হকারদের বসতে না দেয়া হয়। তাছাড়া ৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে গোলটেবিল বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় শহরের ফুটপাতে কোন হকার বসতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান, নাসিক মেয়র আইভী, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু একমত পোষন করেন। সেই সাথে সকলে সম্মতি ক্রমে একমত হন ফুটপাতে হকার বসতে পারবে না। এর পর থেকে হকাররা ফুটপাতে বসতে না পেরে কখনো মেয়রের নিকট স্মারকলিপি, কখনো ডিসির নিকট স্মারকলিপি, আবার কখনো এমপিদের নিকট মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন।
অপরদিকে শহরের বহুল প্রতিক্ষিত প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জনপ্রতিনিধিদের গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ দিন যাবৎ ফুটপাত হাত ছাড়া হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে শহরের হকার ও তাদের নেতারা। ফুটপাতের রাজত্ব আবারো ফিরে পেতে প্রশসান ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে হকাররা। আর তাদের সাথে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন শহরের কিছু বাম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এদিকে তারা জনপ্রতিনিধিদের কাছে পূনর্বাসনের আহ্বান জানাচ্ছে আবার তার পাশাপাশি চক্ষু গরম করে নানাভাবে নানা হুঁশিয়ারী দিচ্ছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি হকার সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের নিকট স্মারক লিপি জমা দেওয়ার পূর্ব মুহুর্তে চাষাড়া শহিদ মিনারে সংক্ষিপ্ত অবস্থান কর্মসূচিতে জেলা হকার সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আসাদুল ইসলাম আসাদ হকারদের পূর্নবাসন ও তার আগমুহুর্ত পর্যন্ত ফুটপাতে হকারদের বসার আহ্বান জানিয়েছেন। আর জনপ্রতিনিধির উদ্দেশ্য হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, আমরা যুদ্ধ চাই না। অন্ত্র জমা দিয়েছি, ট্রেনিং জমা দেই নাই। অবস্থান কর্মসূচি থেকে আসাদ বলেন, মাননীয় মেয়র মহোদয় আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা আলোচনা চাই, আলোচনার টেবিলে বসেন। আমাদের এই সমস্যা সমাধান করেন।
সূত্রমতে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাতের চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদ। এক সময় হকারি করা আসাদ প্রভাবশালী রাজনীতিকদের সাথে সখ্যতা তৈরি করে বনে গেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের উপর হামলা, প্রকাশ্যে তরুণ হকারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, পুলিশের উপর হামলা, সড়কে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কয়েকটি মামলা আসামী এই হকার নেতা আসাদ। তবুও শহরের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা হকারদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে নিয়মিত চাঁদা তোলে তার নেতৃত্বে থাকা চাঁদাবাজরা। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের ফুটপাত হকারমুক্ত করার যৌথ উদ্যোগের বিরোধীতা করে আন্দোলন করা নেতাদের অগ্রভাগে ছিল আসাদও। একই বছরের ১৬ জানুয়ারি এই হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আইভী ও সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ওই ঘটনায় সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে সিটি মেয়রের পক্ষে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন।
ওই মামলার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর আদালতে মামলাটির অভিযোগপত্রে ১২ আসামির মধ্যে জেলা হকার সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আসাদের নামও রয়েছে। এরপর ২০২১ সালের ৯ মার্চ ফুটপাতে বসার দাবিতে বিক্ষোভ করে হকাররা। ওই সময় হকারদের নেতৃত্ব দেয় আসাদ। ওইদিন বিকেলে সড়কে আগুন দিয়ে যানবাহনে ভাঙচুর চালায় হকাররা। বাধা দিলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। ওই ঘটনায় পুলিশের উপর হামলা, অস্ত্র লুটের চেষ্টা, যানবাহন ভাঙচুর ও সড়কে আগুন দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় আসাদ।
পরদিন পুলিশের এক মামলায় আসাদসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয় তাকে। একই বছরের ১৪ অক্টোবর ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে খুন হন ১৮ বছর বয়সী তরুণ জোবায়ের হোসেন। ওই তরুণও ফুটপাতে হকারি করতো। তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। ওই হত্যা মামলারও আসামি এই আসাদ। মামলাটির অভিযোগপত্রেও রয়েছে এই হকার নেতা আসাদের নাম।
১০ ফেব্রুয়ারি হকার নেতারা নাসিক মেয়র এমপিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাদের অধিকার আমরাই আদায় করবো। হয় মরবো নয় অধিকার আদায় করবো। অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবো তার আগে রাজপথ ছাড়বো না। এটা হকারদের যৌক্তিক আন্দোলন, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না। পরবর্তীতে হকাররা একই দাবিতে সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারকলিপি জমা দেয়।
তার পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি নাসিক মেয়রের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তবে নগরবাসির দাবী এই হকারদের যেন কোন ভাবে বসতে দেয়া না হয়। মানুষ স্বচ্ছন্দে ফুটপাতে চলাচল করতে চায়। সেই সাথে নগরবাসি জানতে চায় মার্ডার মামলার আসামী আসাদ কিসের ট্রেনিং নিয়েছে। তিনি কার কাছে অস্ত্র জমা দিয়েছে। কেননা এই আসাদতো মুক্তিযোদ্ধা নন। তাহলে কি আসাদ হত্যার জন্য নিজের কাছে অস্ত্র রাখেন যাতে করে তাকে অন্য সকল হকাররা ভয় পায়। এস.এ/জেসি


