দানিয়ালের খুনিরা দেদারসে ঘুরছে এলাকায়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৪ পিএম
# রিয়াদের ভাইয়েরা মাসদাইরকে ক্রাইম জোনে পরিণত করেছে
নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর বর্তমানে মাদক কারবারি, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের রেড জোনে পরিণত হয়েছে। নিয়মিতই এই মাসদাইরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোরগ্যাংয়ের দফায় দফায় সংঘর্ষের মতো নানা ঘটনা ঘটলেও কোন প্রকারের পুলিশি বাধার মুখে পরতে হয় না সেই এলাকার কিশোরগ্যাংয়ের সন্ত্রাসীদের যার মূল কারণ হলো এই এলাকা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের ঘনিষ্টজন হিসেবে সুপরিচিত মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের আর সকল কিশোরগ্যাংয়ের লিডাররা কেউ তার ভাই আবার কেউ তার ঘনিষ্ট লোক হিসেবেই পরিচিত।
এই রিয়াদের ছত্রছায়ায় থেকে তার চাচাতো ভাই অনিক প্রধান যাকে এলাকার কেউ চিনে ছিনতাইকারী আবার কেউ চিনে এলাকার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে কিন্তু সর্বপ্রথম তার পরিচয় উনি ছাত্রলীগের রিয়াদের চাচাতো ভাই ও বিগত দিনের মাসদাইরসহ নারায়ণগঞ্জের আতঙ্কিত ডাকাত আশা ডাকাতের ভাতিজা। রিয়াদের সাথেই সর্বদা থাকতেন অনিক তাদের দুইজনের আত্মার সম্পর্ক বললেই চলে। আর এই রিয়াদের শেল্টারেই অনিক প্রধান ও তার বাহিনী মাসদাইরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন।
অনিকের এই বেপরোয়াপনায় মাসদাইরে নিয়মিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতো আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৮ ফেব্রুয়ারী রাতে আলামিন ওরফে দানিয়াল চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকায় কুপিয়ে হত্যার পর অটো দিয়ে নিয়ে লাশ ফেলে আসে তারই বাড়ির সামনে। এই ঘটনায় দানিয়ালের বন্ধু শুভ ঢাকা মেডিকেল মৃত্যুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই হত্যাকান্ডে দানিয়ালের মা মুক্তা বেগম ফতুল্লা থানায় মামলা কর এজাহার ভুক্ত অভিযুক্তরা হলেন, বাড়ৈভোগ এলাকার রমিজউদ্দিন রমু, তার দুই ছেলে ফরহাদ ও মুরাদ, জসিমউদ্দিনের দুই ছেলে অনিক প্রধান ও অমিত প্রধান, আবদুস সাত্তারের ছেলে লাবু, মুসলিম মিয়ার দুই ছেলে মাসুদ, বেলোনের ছেলে সম্রাট। এর মধ্যে ঘটনার পরই অনিকের নানা রমিজউদ্দিন রমু গ্রেফতার হলে ও বাকিরা এখনো গ্রেফতারের আওতায় আসেনি।
স্থানীয় সূত্র মতে জানা গেছে, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিয়াদ প্রধানের ছত্রছায়ায় মামলায় তার চাচাতো দুই ভাই অনিক প্রধান ও অমিত প্রধান ও রিয়াদের আরো আত্মীয় অভিযুক্তরা ও মামলায় না থেকে ও হত্যায় জড়িত থাকা রিয়াদের চাচাতো ভাই সুমন প্রধান, ভাতিজা সিয়াম প্রধান ও হিমেল প্রধান দেদারসে এলাকায় দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আরো জানা গেছে, সমুন প্রধানের নামে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ দেখে তার স্ত্রী দেবর রিয়াদের বাসায় যায় আর তাকে বলে ভাই এখন কি করবো সুমনকে বাঁচানোর আকুতি-মিনতি করলে। রিয়াদ তার ভাবীকে আশ্বাস দেন সমস্যা নাই কিছু হবে না। দুই-একদিন একটু সমস্যা দেখা দিলে আমি আছি না সমস্যা নাই।
রিয়াদের আশ্বাস পেয়ে সুমন এখন তার বেকারীর দোকানে বসছে। তা ছাড়া রিয়াদের ভাতিজা হিমেল প্রধান ও সিয়াম প্রধাণ ও চাচা রিয়াদের কাছ থেকে ‘কিছু হবে না’ ভরসা পেয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ও মাদক সেবনে মুগ্ধ রয়েছে। তা ছাড়া গতকাল সেই সিয়াম প্রধানকে পাসপোর্ট অফিসে দেখা গেলো ঘুরাফেরা করতে তখন তার সাথে ছিলো তার বন্ধু অমিও। তা ছাড়া মামলায় অভিযুক্ত রিয়াদের ভাই সন্ত্রাসী অনিক প্রধান ও অমিত প্রধান বর্তমানে এলাকায় না থাকলেও রাত পোহালেই আবার তাদের এলাকায় ঘুরা ফেরা করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকায় মার্ডারের দিন ব্যাথিত আর একদিন ও প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি। যার মূল কারণ হলো ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদের ঘনিষ্ঠরা বলে কথা। তা ছাড়া এলাকায় ঘুরে শোনা যায় রিয়াদের বাবা জালাল প্রধান এলাকায় বিচার করে থাকে এলাকায় জামারপুর ও বিভিন্ন এলাকার লোকেরা আসলে উনি বিচার করে তাদের কাছ থেকে ৫০০/৬০০ টাকা বা কারো কাছ থেকে চায়ের কথা বলে ১০০০ বা ২০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়।
জানা গেছে, দানিয়াল হত্যাকান্ড এলাকায় নানা আলোচনা সৃষ্টি করলে রিয়াদের বাবা ও আশা ডাকাতের ভাই জালাল প্রধান এলাকার বিভিন্ন চায়ের দোকানে মাসদাইর কবরস্থানের সামনের চায়ের দোকানে বা অফিসে মেম্বারসহ অনেকের সাথে আলোচনা করে থাকে এটা কিছু না। আমরা শামীম ওসমান পরিবারের লোক আমাদের হাত দিয়ে ১-২টি মার্ডার কিছু না। উনি উনার ছেলে রিয়াদের উপর ভরসায় বলে ফেললেন এটা কিছূ না। তা ছাড়া এই ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে সব সময় নানা নিউজের হেড লাইন হতে হয় তাকে।
এই রিয়াদের শেল্টারে তার চাচাতো ভাই ও ভাতিজারা যেভাবে মাসদাইরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যার লক্ষে বোঝা যাচ্ছে সামনে এই মাসদাইরে বিশৃঙ্খল ঘটনার আবির্ভাব হতে পারে। সামনের সকল প্রকারের অস্থিতিশীল কর্মকান্ড থেকে পরিত্রান পেতে অতি শীঘ্রই মাসদাইরের এই ডাকাত পরিবারের রামরাজত্ব বিনষ্ট করতে হবে। তা না হলে এই রিয়াদের শেল্টারে যেভাবে উচ্ছৃংখল গ্যাং সহ নানা গ্যাং তৈরি হচ্ছে সামনে হয়তো এই মাসদাইর একটি ক্রাইম জোনে পরিণত হবে।
এ দিকে এক ভিডিও বার্তায় দানিয়াল হত্যাকান্ডের বিবরণ দেন তারই বন্ধু আহত শুভ তিনি বলেন, ফারিহা গার্মেন্টসের এখানে হোটেল মাসুদ রাতের আঁধারে মাদক বিক্রি করে। আমরা বাধা দেয়ার কারণে আমাদের সাথে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়ে যায়। তখন অনিকের সাথে আমাদের মারপিট হয়। অধিক এক সপ্তাহ পর সুস্থ হয়ে ভাষাড়া আসে বড় বড় চাকু নিয়ে। আমরা কয়েকজন ছিলাম। আমাদের দৌঁড়ানি দিয়েছে। দৌঁড়ানি খেয়ে চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় লাবু আমাকে ধরে ফেলে। আমি রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, আমি তখন বলেছি আমাকে একটা ফোটা পানি খাওয়া। তারা আমাকে পানি দেয়নি। তারা আমাকে ছিনতাইকারী বলেছে আমি বলেছি আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। কেউ আমার কথা শুনেনি। রিয়াদ রাফেলের কথা শুনে সবাই ভয় পেয়ে যায়। রিয়াদ রাফেল বড় মাপের লোক। এরপর অটো দিয়ে তিনজন লোক আসে একজন অনিকের শ্যালক সম্রাট লাবু। সম্রাটের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ছিলো। আমি বারবার বলতেছি আমাকে পানি খাওয়ান। তখন তারা আমাকে বলে তুমি ফরহাদের কাছে মাফ চাইও।
রিয়াদ রাফেলের কথা শুনে কেউ এগিয়ে আসেনি উল্লেখ করে শুভ বলেন, আমাকে নিয়ে তালা ফ্যাক্টরির দিকে যাওয়ার সময় রিক্সা থেকে লাফ দিয়ে নেমে গিয়ে দোকানে আশ্রয় নেই। আমি দোকানের লোকজনদের বলতে থাকি আমাকে বাঁচান। আমাকে পুলিশে দিয়ে দেন। কিন্তু রিয়াদ রাফেলের কথা শুনে সবাই ভয় পেয়ে যায়। এরপর স্কুলের সামনে নিয়ে আমাকে ব্যাপক মারধর ধরে। আমি চুপ করে শুয়েছিলাম যাতে করে তারা মনে করে আমি মরে গেছি। তারপর আমাকে ফেলে চলে যায়। দুইজন সাংবাদিক এসে আমাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে হাসপাতালে পাঠায়।
এই ঘটনায় কারা কারা ছিলো তাদের বিবরণ দিয়ে শুভ বলেন, অনিক, ফরহাদ, সম্রাট, লাবু, রবিউলের বড় ছেলে মুরাদ, রবিউল, মাসুদ মিয়া, ঘোষেরবাগ এলাকার ফয়সাল, ফয়সাল আমাকে বেশি মেরেছে। আমি সকলের পায়ে ধরে বলেছি আমাকে বাঁচান। ফয়সাল বলে তর রক্ষা নাই। অনিক বলে আমি রিয়াদ রাফেলের ছোট ভাই। আমার কি হবে তোর মতো দুই একটা মেরে ফেললে। আরও অনেকেই ছিলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, এই ঘটনায় পরোক্ষ্যভাবে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদের আত্মীয়রা প্রকাশ্যেভাবে জড়িত। কারণ অনিকের সাথে যখন দানিয়ালদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় অনিক প্রধান আহত হয়, এমতাবস্থায় ফ্যামিলির সকলেই মোটামুটিভাবে ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দানিয়ালকে পেয়ে বাড়ির সকলে মিলেই মারে আর অনিকের বাবা যিনি এলাকায় জুয়ার আসর বসায় জসিম উদ্দিন প্রধান উনি তো তার ছেলেকে বলে মেরে ফেল যত টাকা লাগে আমি দিবো, উনি এটা বলার সাহস পেয়েছে তার ভাতিজা রিয়াদের ছত্রছায়ায়।
কারণ তারা জানে রিয়াদ ওসমান পরিবারের সাথে যেহেতু সম্পৃক্ত সেহেতু কোন সমস্যা হবে না। আর এদিকে তো রিয়াদের বাবা চায়ের দোকানে প্রকাশ্যেই বলে থাকে আমরা শামীম ওসমানের পরিবারের লোক আমাদের হাতে ১/২ টা মার্ডার কোন ব্যাপার নয়। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, এই ডাকাত পরিবার থেকে এলাকাবাসীকে পরিত্রান দেওয়া এই অনিকের ছিনতাই বাহিনীর নৈরাজ্যে ভেঙ্গে দেওয়া ও মাসদাইরকে একটি সুন্দর মাদক সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত চায় মাসদাইরবাসী।
এ বিষয়ে তদন্ত বর্তমানে কতটুকু এগিয়েছে জানতে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে আযমের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করতে চাইলে উনার ফোন ব্যস্ত পাওয়া যায়। এস.এ/জেসি


