না.গঞ্জে গত ৬ মাসে সড়কে ঝরেছে ৮৪ প্রাণ
নুরুন নাহার নিরু
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫৮ পিএম
# মহাসড়কে বেপরোয়া গতির কারণেই মৃত্যু বাড়ছে : নিসচা
# ব্যাটারিচালিত রিক্সার দৌরাত্ম্যের কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে : এডি, বিআরটি
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের দূর্ঘটনার গত ৬ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৪ জন। এসব দুর্ঘটনায় অনেক পরিবার হারিয়েছেন তাদের একমাত্র উর্পাজনকারী ব্যক্তিদের। অনেকে আবার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে করেছে পঙ্গুত্ববরণ। প্রশাসনের পক্ষ হতে সড়কে মৃত্যু ঠেকাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালের ৩ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে ১০৯ টি সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা প্রায় সমান। আহতের সংখ্যা ৮২ জন এবং নিহতের সংখ্যা ৮৪ জন। এছাড়াও এসব ঘটনায় ৯৫টির বেশি মামলা হয়েছে।
মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি রোধে হাইওয়ে পুলিশের টহল থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বেপরোয়া গতির যানবাহন, মোটরসাইকেল চালকের অসাবধানতা ও পথচারীর অসচেতনার কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। এসব সমস্যার সমাধান হলে দুর্ঘটনা অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করেন তারা।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ডা. আল ওয়াজেদুর রহমান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘প্রথমত, নারায়ণগঞ্জ জেলা এমন একটি জেলা যেখানে শিল্প কারখানা বেশি। এ কারণে এই জেলার মানুষের সংখ্যাও বেশি। যারা আমাদের জেলায় বাহিরের বিভাগ বা জেলা থেকে আসে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য তারা অনেকেই বেশি শিক্ষিত না। এই কারণে তারা নিরাপদ সড়ক সম্পর্ক কথাটার অর্থ তেমন বুঝে না।
দ্বিতীয়ত, নারায়ণগঞ্জে সড়কে যে ব্যাটারি চালিত বা অন্যান্য বাহন গুলো চলে সেসব গাড়ি যে চালক রয়েছে তারা সড়কের সংকেত সর্ম্পকে জানে না। এ কারণে তারা গাড়ির গতি বাড়িয়ে বেপরোয়া ভাবে চলাচল করে। এ কারণে দূর্ঘটনা ঘটে বেশি। এবং সর্বশেষ যে কারণ সেটা হলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা মানব-বন্ধনে আমরা সড়ক দূর্ঘটনা সম্পর্কে বলি কিন্তু যারা তাদের পরিবারের ব্যক্তিদের হারা তারা সচেতন না হওয়ার ফলে এর কোনো সুফল লক্ষ করা যায় না। এসব দূর্ঘটনা থেকে বাঁচতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী মো. শামসুল কবির যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ঢাকা-চিটাগাং যে হাইওয়ে সড়ক আছে এখানে দেখা যায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক গুলো চালানো হয় যার কারণে যানজট হয়, দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। তারা নিয়মের বাইরে অনিয়ম করে এই গাড়িগুলো চালাচ্ছে, এটা একটা মূল কারণ। তারা সচেতনতার বাইরে অনেকসময় দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এই দুর্ঘটনাগুলো হচ্ছে। এমন অনেক কারণ আছে তাই বলবো এ নিয়ে পথচারিদের সচেতন থাকতে হবে এবং সড়কের মাঝখানে যে ডিভাইডেড আছে সেখানে যাত্রীদের দাড়িয়ে না থাকা।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রহুল আমিন সাগর বলেন, এ বিষয়টি আসলে আমি দেখি না। এটি হাইওয়ে পুলিশ দেখে থাকে।’ এস.এ/জেসি


