অবশেষে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদের চাচাতো ভাই অনিক প্রধান গ্রেফতার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৬ পিএম
ছাত্রলীগ নেতার ভাই-আত্মীয় স্বজন হলে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা যায়, লাশ বাড়ির সামনে ফেলে দিয়ে ভিকটিমের মাকে ফোন দিয়ে বলা যায়, লাশ ফেলে রেখেছি, এসে নিয়ে যা। এমন দাম্ভিকতা আর মগের মুল্লুকের কাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছে নারায়ণগঞ্জবাসী। গত ৯ ফেব্রুয়ারি জনবহুল চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকায় আলআমিন ওরফে দানিয়াল ও শুভ নামের দুই যুবককে কুপিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির সামনে নিয়ে তাদের ফেলে দেয়া দুর্বৃত্তরা।
এসব অপরাধ মহানগর ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের শেল্টারেই মাথা চাড়া দেয়। অভিযোগ আছে, তার কারণেই তার চাচা পুলিশের সোর্স রমু ও রিয়াদের চাচাতো ভাইদের কারণে অপরাধের অন্যতম হাব হিসেবে পরিণত হয়েছে মাসদাইর এলাকা। তবে বিলম্ব হলেও রিয়াদের চাচাতে ভাই অনিক প্রধান (২৮)’কে গ্রেফতার করেছে র্যাব। চাঞ্চল্যকার দানিয়াল হত্যা মামলায় ‘অনিক প্রধান; মামলার এজাহারনামীয় ২ নং আসামী।
র্যাব-১১ এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১১, সিপিসি-১ নারায়ণগঞ্জ ও র্যাব-১৩, সদর কোম্পানী, রংপুরের একটি যৌথ আভিযানিক দল বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাট জেলার সদর থানাধীন ড্রাইভার পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর আল-আমিন ওরফে দানিয়াল হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২ নং আসামী অনিক প্রধান (২৮)’কে গ্রেফতার করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও এজাহার পর্যালোচনায় জানা যায় যে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টার দিকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক বিক্রয়ে বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করে আসামীরা আল-আমিন ওরফে দানিয়াল ও শুভ (২৭) কে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকায় আক্রমণ করে মারধর করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা চলে যায়।
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক পৌঁনে ১২ টার দিকে আহত অবস্থায় ফতুল্লা থানার মাসদাইর বাড়ৈভোগ ফারিয়া গার্মেন্টস সংলগ্ন খানকার মোড়ে পৌঁছালে আসামীগণ পুনরায় হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র চাপাতি, রামদা, ছোরা, চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং আসামীরা পালিয়ে যায়। মারাত্মক আহত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় দানিয়াল ও শুভ’কে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দানিয়ালকে মৃত ঘোষণা করে ও শুভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করে।
হত্যাকান্ডের একদিন পর নিহতের মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত আল আমিন ওরফে দানিয়াল ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় দেলোয়ার মিয়ার ছেলে। আর আহত শুভ একই এলাকার শাহজালালের ছেলে। তাদের মধ্য নিহত দানিয়াল অটোরিকশা গ্যারেজের ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত ছিল আর শুভ একটি কারখানার মেশিন অপারেটর।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে আযম মিয়া জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এস.এ/জেসি


