Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদের বাকি আত্মীয়রা কার ইশরায় অধরা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:২০ পিএম

ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদের বাকি আত্মীয়রা কার ইশরায় অধরা
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরকে বর্তমানে নানা অপকর্মের মধ্য দিয়ে বহু বছর যাবৎ জিম্মি করে রাম রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন এক বিখ্যাত ডাকাত পরিবার। ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, গ্রুপ গ্রুপ তৈরি করে সংঘর্ষ, এলাকার অসহায় মানুষদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারিসহ মাসদাইরে এমন নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে আছে এই পরিবারের বহু সদস্যবৃন্দরা। 

 

গত কয়েক বছর পূর্বে এই পরিবারকে অপকর্মের টাইমলাইনে নিয়ে আসেন এই পরিবারের সদস্য, আশা প্রধান যাকে সকলেই আশা ডাকাত হিসেবে চিনে থাকতেন। কিন্তু আশা ডাকাতের মৃত্যুর পর মাসদাইরের মানুষের একটু শান্তির বাতাস বইতে না বইতে নিজ এলাকায় নিজেদের আতঙ্ক ধরে রাখতে এই ডাকাত পরিবারের সদস্য নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রধান তার চাচা আশা ডাকাতের মতো করে তার পরিবারের নাম এলাকায় আবারো আতঙ্কে পরিণত করতে তার চাচাতো ভাই ও ভাতিজার শেল্টার দিয়ে এলাকায় আবারো ক্রাসের রাজত্ব কয়েক করেছিলেন।

 

তা ছাড়া আরো জানা গেছে, রিয়াদ প্রধানের চাচাতো ভাই অনিক প্রধানকে আলাদাভাবে শেল্টারের মাধ্যমে মাসদাইরের বাড়ৈভোগ এলাকার ত্রাস হিসেবে সৃষ্টি করেছেন বলে জানা গেছে, তা ছাড়া অনিক প্রধানের নেতৃত্বে সেই এলাকায় মাদকব্যবসা ও ছিনতাই চলমান থাকতো তার কারণ হলো রিয়াদ চাচ্ছিলো মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকার ফারিয়া গামেন্টর্স থেকে শুরু করে গাইবান্ধা বাজারের সকল বাড়ি ওয়ালা ও দোকানদারেরা যে কথায় কথায় রিয়াদের নামে ভয় পায় আর কিছু করতে হলে রিয়াদের নামে চাঁদা দিয়ে যে সব কাজ করে সেই লক্ষ্যেই মূলত তার চাচাতো ভাই অনিক প্রধানকে তৈরি করে মাসদাইরের বিখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে।

 

তা ছাড়া রিয়াদ নিয়মিতই অনিককে বলতো তর সকল কাজে যদি কেউ আসে ফালিয়ে দিবি আমি বাকি সব দেখবো। এই কথা বলার কয়েক মাস পরই সেই বাড়ৈভোগ এলাকার আরেক মাদককাবারি হিসেবে পরিচিত আলামিন ওরফে দানিয়াল ও তার গ্রুপের সাথে অনিক প্রধান গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে অনিক প্রধান দানিয়াল গ্রুপের আক্রমনে গুরত্বর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে অনিক প্রধান হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে এসেই।

 

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ০৯ ফেব্রুয়ারী রাতে আলামিন ওরফে দানিয়াল চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকায় কুপিয়ে হত্যার পর অটো দিয়ে নিয়ে লাশ ফেলে আসে তারই বাড়ির সামনে। এই ঘটনায় দানিয়ালের বন্ধু শুভ ঢাকা মেডিকেল মৃত্যুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই হত্যাকান্ডে দানিয়ালের মা মুক্তা বেগম ফতুল্লা থানায় মামলা কর এজাহার ভুক্ত অভিযুক্তরা হলেন, বাড়ৈভোগ এলাকার রমিজউদ্দিন রমু, তার দুই ছেলে ফরহাদ ও মুরাদ, জসিমউদ্দিনের দুই ছেলে অনিক প্রধান ও অমিত প্রধান, আবদুস সাত্তারের ছেলে লাবু, মুসলিম মিয়ার দুই ছেলে মাসুদ, বেলোনের ছেলে সম্রাট।

 

এর মধ্যে ঘটনার পরই অনিক প্রধানের নানা রমিজউদ্দিন রমু গ্রেফতার হয় পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২ সপ্তাহ পরে মামলার ২নং এজাহারভুক্ত আসামী অনিক প্রধানকে র‌্যাব গ্রেফতার করলেও এখনো অধরা বেশির ভাগ আসামী। হত্যাকাণ্ডের ২ সপ্তাহ পরে মামলার ২নং এজাহারনামীয় আসামীকে লালমনিরহাট জেলার সদর থানাধীন ড্রাইভার পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নারায়ণগঞ্জস্থ র‌্যাব-১১ ও রংপুরস্থ র‌্যাব-১১ এর যৌথ একটি টিম গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও খুনিদের গ্রেফতারে ব্যর্থ ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

 

গ্রেফতারকৃত অনিককে ৭ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হলে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এদিকে ফতুল্লা থানার ব্যর্থতা ছিলো কারণ অনিক প্রায় সময় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে তাকে পরিচয় দিতো আর ছাত্রলীগের সভাপতি তার ভাই পরিচয় দিলে ফতুল্লা থানা অনেকটাই পিছপা হয়ে দফায় দফায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনো বাকি অনিক প্রধানের ভাই অতিম প্রধান, অনিকের দুই মামা ফরহাদ ও মুরাদ, আবদুস সাত্তারের ছেলে লাবু, মুসলিম মিয়ার দুই ছেলে মাসুদ, বেলোনের ছেলে সম্রাট এরা সকলেই রিয়াদের সাথে যোগাযোগ রেখেই কিছুটা আত্মগোপনে রয়েছেন।

 

তা ছাড়া জানা গেছে, রিয়াদ বর্তমানে নিজে প্রকাশ্যে না এসে এই মামলা করায় দানিয়ালদের পরিবারের প্রতি চাপ প্রয়োগ করছেন অনিক প্রধানদের আরেক শেল্টার দাতা হিসেবে সুপরিচিত এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শারজাহান মাদবরকে দিয়ে দানিয়ালের পরিবারকে দামা চাপা দিতে চাচ্ছে।

 

এ বিষয়ে শাহজাহান মাদবর জানান, রিয়াদ আমরা নানীর বাড়ির আত্মীয় কিন্তু আমি একজন জনপ্রতিনিধি আমি কেন এখানে যাবো, এটা একটা মার্ডার মামলা যদি শুধু মারামারি হতো আমি মিমাংসা করার চেষ্টা করতাম দুই ফ্যামিলি ডেকে এখন তো এটা মার্ডার মামলা এখানে প্রশাসন আছে তারা সব করবে আমি কেন এখানে নাক গলাতে যাবো। তা ছাড়া মামলায় এজাহার ভুক্ত না হলে ও হত্যাকান্ডের মূল হোতা যিনি অনিককে ফোন দিয়ে বালুর মাঠে আসতে বলেছিলেন রিয়াদের ও আসামী অনিক প্রধানের ভাতিজা সিয়াম প্রধান।

 

উনি রিয়াদের সাথেই থাকে সকল সময় তার সব কাজ করে আবার প্রতি সপ্তাহে কলেজ রোড এলাকার সকল দোকান ও রেস্টুরেন্ট থেকে ১ হাজার টাকা করে উঠায় ছাত্রলীগের সংগঠনের নামে যার শেল্টার ও দেয় সে রিয়াদ তা ছাড়া ও এই সিয়াম প্রধান কলেজ রোডের সকল ব্যাচগুলো থেকে রিয়াদের নামে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে তুলে। যাকে ঘিরে এখনো দেদারসে এলাকায় ঘুরছে তিনি রিয়াদের ভাতিজা হওয়ায় কাউাকে পাত্তাই দেয় না।

 

সূত্র মতে জানা গেছে, দানিয়াল হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহত তার বন্ধু শুভ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলার সময় অনিক বলে, 'আমি রিয়াদ রাফেলের ছোট ভাই। আমার কি হবে তোর মতো দুই একটা মেরে ফেললে। তার এমন বক্তব্যের পর পরই ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ বার বারই বুঝতে পারছে এখানে সব সময় আমার নামই আসছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে উনি গাঁ বাঁচিয়ে ডুবাই পারি জমান, পরিস্থিতি একটু ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত দেশে আসার সম্ভবনা নেই এই ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদের।

 

এদিকে রিয়াদের আত্মীয় ও তার চাচাতো ভাইয়ের নানা পুলিশের সোর্স খ্যাত রমিজউদ্দিন রমু ফতুল্লার মাসদাইর ও আশপাশ এলাকার এক অঘোষিত মাফিয়া। এলাকার মাদক ব্যবসা, ঝুট ব্যবসা থেকে শুরু কওে কিশোর গ্যাং বাহিনীর নিয়ন্ত্রক। পান থেকে চুন খসলেই তিনি বসান সালিশ । বিশাল বাহিনী দিয়ে এলাকা দাবড়িয়ে বেড়ান। অভিযোগ রয়েছে, ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল এলাকা হওয়ার সুবাদে সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে গার্মেন্ট কারখানার মালিকদের জিম্মি করে ঝুট নিয়ে যাচ্ছেন। কারখানার মালিকরা সন্ত্রাসীদের ঝুট দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সন্ত্রাসীদের হুমকির শিকার হতে হয়। যার কারণে বাধ্য হয়ে গার্মেন্টস মালিকেরা সন্ত্রাসীদের ঝুট দিয়ে দেন।

 

এর আগে, ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইরে ডেফোডিল গার্মেন্টসের ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ নিতে আওয়ামী লীগ নেতা মতি প্রধান ও রমু বাহিনীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভয় গ্রুপের মধ্যে ৫-৬ জন আহত হন। এই রমু রিয়াদের সকল কাজ করে দিয়ে থাকে বলে ও জানা গেছে। তা ছাড়া ছাত্রলীগের পদে বসে নানা অপকর্ম করেছেন রিয়াদ যা করে বেেন গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।

 

এমনকি তার চাচা আশা ডাকাত মারা যাওয়ার পর তার বাড়িসহ দখল করেছে এই রিয়াদ আবার তার ছোট চাচা মইনুদ্দিন প্রধানের স্ত্রীকে মেরে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে অনিকের বাবা জলিল প্রধান ও রিয়াদের বাবা জালাল প্রধান ও সেই কুখ্যাত ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ। যার পরই তারা চাচার সম্পত্তির মধ্যে এখন ভাগ বসিয়ে সেখানে রিয়াদ বাড়ি করেছে। এই রিয়াদের নানা অপকর্মের কারণে জাতির পিতার আদর্শের সংগঠন ছাত্রলীগ নারায়ণগঞ্জে ভূলন্ঠিত হয়েছে। আর বর্তমানে এই রিয়াদের ছত্রছায়ায় এখনো অধরা দানিয়াল হত্যার বাকি আসামীরা।

 

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আযম মিয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, আসামী অনিক প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আর এখন পর্যন্ত এই হত্যা মামলায় দুইজন গ্রেফতার হয়েছেন। আর বাকিরা এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন আমরা তাদের লোকেশন খুঁজে খুঁজে তাদের গ্রেফতারের কার্যক্রম পক্রিয়াধীন রেখেছি। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন