বই মেলায় ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি
নুরুন নাহার নিরু
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৫ পিএম
চলতি মাসে নারায়ণগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া টাউন হল প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রয় সমিতির সহযোগিতায় ৯ দিন ব্যাপী বই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ২১শে ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা শেষ হবে আগামী ২৯ই ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ আর মাত্র ২ দিন বাকি।
সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উম্মুক্ত থাকলেও সাধারণ মানুষের আনা গোনা তেমন একটা লক্ষ করা যায় নি। তবে বিক্রেতারা বলছে ২১ ফেব্রুয়ারি এবং গত শুক্রবারে দর্শনার্থী থাকলেও বেচাকেনা তেমন একটা ভালো হয়নি।
গতকাল ছুটির দিন থাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারা দিন তেমন মানুষের আনাগোনা না থাকলে সন্ধ্যায় মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার সাথে সাথে মানুষ আসা শুরু করে টাউন হলের প্রাঙ্গণে আয়োজিত বই মেলায়। প্রতিটি দোকানের সামনে মানুষ থাকলেও মেলা ঘুরে ঘুরে দেখার আগ্রহ বেশি মানুষের। তবে কেউ কেউ আবার ঘুরার ফাঁকে ফাঁকে বইয়ের দর কষাকষিও করছেন। আবার কেউ কেউ বইয়ের মূল্য শুনাতেই সীমাবদ্ধ থাকছেন।
মেলা মনিটরিং এর দায়িত্বরত এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রয় সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক যুগের চিন্তাকে বলেন, সরকারি এবং বিভিন্ন লাইব্রেরির উদ্যোগে মিলিয়ে দেওয়া মোট ১৯টি দোকান রয়েছে এই মেলায়। সবগুলো দোকানে ইসলামিক থেকে শুরু করে হুমায়ূন, মুশতাক আহম্মেদ সবারই বই রয়েছে। পাশাপাশি ছোট শিশুদেরও নানা গল্পের বিভিন্ন ধরনের বই আছে। কিন্তু মানুষ বই কিনে না। বই কিনার আগ্রহ মানুষ হারিয়ে ফেলেছে। ছেলে-মেয়েরা মোবাইল ফোনে আসক্ত হওয়ার কারণে বই পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরির বই বিক্রেতারা বলেন, এবার প্রথম আমরা দোকান দিয়েছি তাই আশাবাদী ও ছিলাম যে ক্রেতা হবে কিন্তু তা না হয়ে মেলাতে লোক আসছে ঠিকই কিন্তু বই কেউ কিনছে না। সবাই আসে বই দেখে ছবি তুলে চলে যায়। মেলা শুরুর দিনে আর শুক্রবারে মোটামুটি বিক্রি হলেও বাকি দিনগুলোতে একদমই বিক্রি নেই বললেই চলে।
স্কুল পড়ুয়া দুই ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘুরতে আসা জামতলা এলাকার বাসিন্দা ফরিদা পারভীন বলেন, ঢাকাতে অনুষ্ঠিত বই মেলা অনেক দূর এছাড়া বিভিন্ন জামেলার কারণে বাচ্চাদের নিয়ে যায়নি। আজ স্কুল বন্ধ থাকার কারণে ওদের নিয়ে এসেছি দেখানোর জন্য। বর্তমানের ছেলেমেয়েরা মোবাইলের প্রতি আসক্ত বেশি। বইয়ে আগ্রহ কম। তাই ভাবছি দুজনকে দুটি বই কিনে দিবো। কারণ আমরা অভিভাবকরা যদি ছেলেমেয়েদের ছোট থেকে এগুলো না শিখায় তাহলে ওরা বড় হয়ে কি শিখবে। এস.এ/জেসি


