# সপ্তাহের ব্যবধানে ৩ ধর্ষণের ঘটনা
সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের ঘটনা ও ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা বেড়ে গেছে নারায়ণগঞ্জে। সপ্তাহের ব্যবধানে একাধিক ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে অভিভাবক মহল। সেই সাথে তাদের মাঝে উদ্বেগ তৈরী হয়ে রয়েছে। এই সকল ঘটনার প্রতিরোধের জন্য সামাজিক পারিবারিক ভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রশাসন।
কিন্তু তার পরেও কি অভিভাবক মহল সচেতন হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘায়তাকেও দায়ী করছে। তাছাড়া দ্রুততম বিচার থেকে শুরু করে সাক্ষী সুরক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিত করার কথা বলছেন সচেতন মহল। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে একাধিক ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে গত বছরে নারায়ণগঞ্জে ৯৭টি ধর্ষণসহ ৩৯টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় জেলা মহিলা পরিষদের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। অথচ ২০২২ সালে এ জেলায় ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৯১টি ও হত্যার সংখ্যা ২৯টি। সে হিসাবে নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে।
অপরদিকে জানা যায়, সোনারগাঁওয়ে ৬০ বছরের বেশি এক বৃদ্ধ পনেরো বছরের এক স্কুল ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ হয় থানায়। সোনারগাঁ উপজেলার পৌরসভার ভট্টপুর গ্রামে ধর্ষণকারী ফুলচাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভুক্তভোগি। এরই প্রেক্ষিতে ২৭ ফেব্রুয়ারী নির্যাতিতা কিশোরীর দাদা আমির হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগ করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে নির্যাতিতাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারী তার নাতনীকে প্রথমবারের মতো ফুল চাঁন ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি গোপন না রাখলে তার নাতনিকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। ফলে বিষয়টি ভুক্তভোগি প্রাণের ভয় আর লজ্জায় গোপন রাখে। পরবর্তীতে পরপর দুই বার একই কাজ করলে নির্যাতিতা আত্মহত্যা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। তার আত্মহত্যার সিদ্ধান্তটি পরিবারের লোকজন বুঝতে পেরে কারণ জানতে চাঁপ দেয়। এক পর্যায় ওই নির্যাতিতা কিশোরী পুরো ঘটনা পরিবারের সদস্যদের জানায়।
সোনারগাঁও থানার এসআই পঙ্কজ কান্তি রায় বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আশাকরি খুব কম সময়ের মধ্যেই তাকে আমরা গ্রেফতার করতে পারবো।
এর আগে বন্দরে ১৮ বছরের এক যুবতিকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে হাত পা বেঁধে শ্লীলতাহানির পর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের ভয় দেখিয়ে ডেকে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভূক্তভোগী বাদী হয়ে শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামি করে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। যার মামলানং- ৩০(২)২৪।
এজহার সুত্রে জানা যায়, মামলার আাসামীরা হলো ধর্ষক অয়ন (২৩) বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মোহনপুরস্থ নিশং এলাকার বাসিন্দা ও ধর্ষনের সহয়তাকারি সিফাত একই ইউনিয়নের নরপর্দী এলাকার নাহিদ মিয়ার ছেলে। এর আগে গত মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টায় বন্দর উপজেলার নরপর্দীস্থ কুড়িয়াভিটা ব্রীজের ঢালে এ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে ধর্ষক অয়ন ও ধর্ষণের সহয়তাকারি সিফাত পলাতক রয়েছে।
মামলার বাদিনী পরিবারের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টায় ভুক্তভোগী নারী ও তার ১৩ বছরের চাচাতো ভাই সিয়াম বন্দর উপজেলার নরপর্দীস্থ জনৈক হান্নান মিয়ার দোকানের সামনে দিয়ে বাসায় ফেরার পথে সেখানে উৎপেতে থাকা কলাগাছিয়া ইউনিয়নের নরপর্দী এলাকার নাহিদ মিয়ার ছেলে সিয়াম ওই যুবতীকে পথরোধ করে জোর পূর্বক একটি অজ্ঞাতনামা অটো গাড়িতে করে নরপর্দী স্কুলের সামনে নিয়ে যায়। পরে সেখানে সিফাত ও অয়নসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জন মিলে ওই নারীকে জোর পূর্বক ভাবে হাত পা বেঁধে পরিধানের জামা কাপড় টানা হেচড়া করে ছিড়ে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে।
পরবর্তীতে ভূক্তভোগী নারী গত মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় ঘারমোড়াস্থ চাচাতো বোনের বাড়িতে দাওয়াতে আসলে ওই সময় সিফাত ভূক্তভোগী নারীর চাচাতো বোনের মোবাইল ফোন করে তাকে নরপর্দী ব্রিজের সামনে আসতে বলে। ভুক্তভোগী নারী সম্মানের ভয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টায় বন্দর থানার কুড়িয়াভিটা ব্রীজের সামনে আসলে ওই সময় সিফাতের সাথে থাকা অয়ন ওই নারী কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সিফাতসহ অজ্ঞাত নামা ৫/৭ জনের সহায়তায় অয়ন ওই নারীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে কৌশলে পালিয়ে যায়।
বন্দরে ১০ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনার ৯ দিন পর অবশেষে ভাড়াটিয়া লম্পট ধর্ষক সেলিম (৩৫)কে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর ফাঁড়ি পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বন্দর থানার র্যালী আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত ধর্ষক সেলিম মিয়া সুদূর রাজশাহী জেলার চন্দ্রিমা থানার শিরইল কলোনী এলাকার মৃত আব্দুল হালিম মিয়ার ছেলে। বর্তমানে সে বন্দর র্যালী আবাসিক ৩নং গলি এলাকার নূর আলম মিয়ার ভাড়াটিয়া। সেলিম মিয়াকে উল্লেখিত মামলায় শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় বন্দর র্যালী আবাসিকস্থ নূর আলম মিয়ার ভাড়াটিয়া বাড়িতে এ ধর্ষনের ঘটনাটি ঘটে।এ ঘটনায় ধর্ষিতা কিশোরী পিতা শাহীন মিয়া বাদী হয়ে শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে লম্পট সেলিম মিয়াকে আসামি করে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ২৮(২)২৪। পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে শুক্রবার দুপুরে ২২ ধারায় আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, মামলার বাদি শাহিন মিয়া ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বন্দর র্যালি আবাসিক এলাকার লিটন মিয়ার ভাড়াটিয়া বাড়িতে বসবাস করে আসছে। প্রতিদিনের ন্যায় ১৪ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১০টায় শাহীন মিয়ার ১০ বছরের অবুঝ কিশোরী তাদের ভাড়াটিয়া বাসার সামনে খেলা করার সময় একই এলাকার নূর আলম মিয়ার ভাড়াটিয়া লম্পট সেলিম মিয়া কিশোরীকে ডেকে নিয়ে দোকানে পাঠায় সিগারেট আনার জন্য।
পরে অবুঝ কিশোরী তার কথা মতে দোকান থেকে সিগারেট নিয়ে সেলিম মিয়ার ভাড়াটিয়া ঘরে গেলে ওই সময় সেলিম মিয়া উক্ত কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি না হওয়ায় লম্পট সেলিম মিয়া ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি হাজী নুর উদ্দিন বলেন, ধর্ষনের ঘটনার বিষয়ে পারিবারিক, সামাজিক ভাবে সকলকে সচেতন হতে হবে। তাছাড়া অপরাধীদের দ্রুত, সময়ে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সেই সাথে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এস.এ/জেসি


