Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

হত্যারঘটনা ধামাচাপা দিয়ে বাণিজ্য করার চেষ্টা ছিল ইউপি সদস্য জামান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৩ পিএম

হত্যারঘটনা ধামাচাপা দিয়ে বাণিজ্য করার চেষ্টা ছিল ইউপি সদস্য জামান
Swapno

# বিচার সালিশি করে টাকা আদায় করার অনেক অভিযোগ রয়েছে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে  

 

গত ২২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুরে সিগারেটের ধোঁয়াকে কেন্দ্র্র করে সালমান নামে এক যুবকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে জাহিদ সহ আরও বেশ কয়েকজন কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে। তবে এই ঘটনাকে ধাপাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছিলো স্থানীয় ইউপি সদস্য জামান ও কথিত যুবলীগ নেতা রায়হান তবে পুলিশের উপস্থিতিতে তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি।

 

পরে পুলিশ সালমানের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় ফতুল্লা থানা পুলিশ। এই হত্যার ঘটনায় মামলা হলে ইতিমধ্যেই র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে এজাহারে ৩ নং আসামী অপুকে আটক করা হয়েছে। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সিগারেটের কাণ্ডকে কেন্দ্র করে সালমান নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সিগারেট খাওয়া নিয়ে মূল ঘটনার সুত্রপাত ঘটে। অভিযোগ উঠেছে কিশোরগ্যাংয়ের হামলায় এ হত্যাকান্ডটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায় স্থানীয় এক ইউপি সদস্য।

 

ওই ইউপি সদস্য ও কথিত কিশোর গ্যাং লিডার রায়হান হুমকি ধামকিতে নিহতের পরিবার ভয়ে গোপনে লাশ দাফনের চেষ্টা করে। এ সময় খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। শুক্রবার দুপুরে ফতুল্লার কুতুবপুরে ক্যানেলপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সালমান (১৭) খুলনা জেলার শাহারাবাদ থানার জিনারতলা গ্রামের ভ্যান চালক মোফাজ্জল মিয়া ও খুকু বেগমের ছেলে। তারা স্বপরিবারে ফতুল্লার কুতুবপুর চিতাশাল কুসুমবাগ এলাকার ২নং গলির শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

 

নিহতের মা খুকু বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ক্যানেলপাড় এলাকায় সাদ্দাম মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে সালমান দাঁড়িয়ে ছিলো। তখন জাহিদ নামে এক ছেলে সিগারেট ধরায়। এতে সালমান তাকে দূরে গিয়ে সিগারেট খেতে বলেন। এজন্য দলবল নিয়ে এসে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে সালমানকে এলোপাথারি মারধর করে জাহিদ। এরপর সালমান সেখান থেকে আহত অবস্থায় কোন মতে বাসায় এসে পড়ে যায়। রাত ৪টায় অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরপরই হাসপাতালে নেয়া হয় এবং হাসপাতাল নেওয়ার পথে সালমান মারা যায়।

 

তিনি আরো বলেন, কি করবো চিন্তা ভাবনা করার জন্য ওই লাশ নিয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বাসায় অপেক্ষা করছিলাম। তখন সকাল ১০ থেকে ১১টার মধ্যে স্থানীয় জামান মেম্বার আমাদের বাসায় এসে বলেন তোমাদের ছেলে নেশাপানি করে মারা গেছে। এ বিষয় নিয়ে থানা পুলিশ করলে লাশটা পুলিশ নিয়ে যাবে এবং ময়না তদন্তের জন্য কাটা ছেড়া করবে। ছেলে মারা গেছে সে আর ফিরে আসবে না লাশটা দাফন করে ফেলো। পরে যাদের সাথে মারামারি হইছে তাদের ডেকে মিমাংসা করে দিবো।

 

যখন মেম্বার এসব কথা বলেছে তখন তাকে আমি চিনতে পারিনি। পরে স্থানীয় লোকজন বলছে সে আমাদের এলাকার জামান মেম্বার। তখন আমার স্বামী কয়েকজনের কাছ থেকে দাফন কাফনের টাকা তুলে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

 

এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য জামান বলেন, এক ছেলে ফোন করে জানিয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে ক্যানেলপাড় সাদ্দাম মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে পোলাপান ঝগড়া করেছে। এতে মারধরে একজন মারা গেছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে নিহত ছেলের বাবার সাথে ফোনে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তখন নিহতের বাবাকে বলেছি আপনে ইচ্ছে করলে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করতে পারেন আমি সহযোগীতা করবো। আর যদি তা না চান তাহলে মামলা করতে পারেন। এর চেয়ে বেশি কিছু বলিনি আর তাদের বাসায়ও যাইনি থানা পুলিশকেও সংবাদ দেইনি।

 

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি নূরে আজম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। যতটুকু জানতে পেরেছি গতকাল একটা মারামারির ঘটনা ঘটে এতে এক যুবক নিহত হয়। আর এই ঘটনায় পর জানতে পারি পুলিশকে না জানিয়ে দাফন দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ যাওয়াতে আর দাফন করতে পারেনি।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুতুবপুরে ৪ নং ওয়ার্ডের নানান অনিয়মের কারণে বিভিন্ন সময়েই আলোচনায় এসেছেন। এলাকায় তিনি বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও আওয়ামী লীগের আমলেই তিনি বেপরোয়া হয়ে এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়ান। আরও জানা যায়, জামান মেম্বার এর আগে এক রাস্তার কাজে রড না দিয়ে বাশঁ দিয়েছেন এটি নিয়েও ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন।

 

অন্যদিকে কুতুবপুরে কথিত যুবলীগ নেতা রায়হান এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি বিভিন্ন অপকম চালিয়ে যাচ্ছে শুধু তাই এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের লিডার হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে। নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের সাথে ছবি তুলে নিজেকে কথিত যুবলীগ নেতা দাবি করে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেকে জাহির করেছে। কেউ তার বিরুদ্ধে গেলেই চলে অত্যাচার।

 

আবার অনেকেই মনে করছেন একজন ইউপি সদস হয়েও এতো বড় একটি ঘটনাকে ধাপাচাপা দিতে চাওয়া মেম্বার জামান ও কথিত যুবলীগ নেতাকে আইনের আওতায় আনা দরকার এমনটাই মনে করছেন অনেকে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন