সৈয়দপুরে ২৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে দুই শিশুকে ধর্ষণ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৩০ পিএম
# থানায় আইনী ব্যবস্থা না নিয়ে দুই শিশু ধর্ষণের বিচার করলেন রুবেল মেম্বার
# থানায় অভিযোগ না করার পরামর্শ দেন মেম্বার রুবেল সহ অন্যরা
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার মুজিবনগরের ৬ নাম্বার রুমে ২৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইতি বেগম এর স্বামী শিপনের (৩৫) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ধর্ষণকারী শিপন ফতুল্লায় একটি জুতা তৈরির কারখানায় চাকরী করেন এবং ফতুল্লা বিসিক এলাকায় একটি জুতার দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে থানা পুলিশ না জানিয়ে স্থানীয় মেম্বারের নির্দেশে ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে এলাকা থেকে অভিযুক্তকে সরিয়ে দিয়েছে স্থানীয় বেশ কয়েকজন।
সূত্র জানিয়েছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিকালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬ নাম্বার রুমে টিভি দেখানোর কথা বলে এক শিশুকে ২০০ টাকা ও আরেক শিশুকে ৫০ টাকা দিয়ে মুখে চেপে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন শিপন। ঘটনার জানাজানির পর গোগনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. রুবেল হোসেন ও মুজিবনগরের সভাপতিসহ অন্যরা মিলে ধর্ষককে আইনের আওতায় না এনে নিজেরা বিচার করেন। এদিকে এ বিষয়টি জানাজানির পর ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদ কর্মীদের বাধা প্রদান করেন করেন মুজিবনগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
এই ঘটনার শিকার এক শিশুর মা সঠিক বিচার এর দাবি জানিয়ে বলেন, (শিপন) আমার মেয়ে ও পাশের ঘরের মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। রুবেল মেম্বার সহ আরো কয়জন লোক এসে তারা বিচার করে দিয়ে বলেছে আপনি তাকে মাফ করে দেন। তারা আমাদের এটা বলে শিপনকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আর বলেছে তুই এ বাড়িতে আর আসবি না। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
ধর্ষণের শিকার আরেক শিশুর মা বলেন, যেদিন এ ঘটনা ঘটে আমি সেদিন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। আমার স্বামী বড় মেয়ে এবং ছোট মেয়ে এখানে ছিলো। আমি গ্রাম থেকে এসে জানতে পেরেছি যে এই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মেম্বার সাহেব পুলিশকে না জানিয়ে তিনি কিসের বিচার করলো। আমি আমার মেয়ের সাথে জঘন্য কর্মকাণ্ডের বিচার চাই।
মুজিবনগর এলাকাবাসীর সূত্রে আরো জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকালে মেম্বার ও তার লোকজন মিলে এ বিচার করে যান। তবে সেখানে ধর্ষণের শিকার হওয়া দুই শিশুর পরিবারের তেমন কেউই উপস্থিত ছিলেন না। তারা নিজেরা মিলেই এ বিচার করেন। ধর্ষণের ঘটনা তারা কি করে বিচার করে সেটা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন তারা।
এই ঘটনার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না, কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়নি। যদি কেউ অভিযোগ দেন তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যদি এটা মেম্বার বিচার করে থাকে তাহলে সেটা ঠিক করেনি। এটা তার বিচার ক্ষমতার বাহিরে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দিদারুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, আমি এখনো বিষয়টি জানি না। আমার কাছে কেউ অভিযোগ প্রদান করেনি। যদি মেম্বার বিচার করে থাকে তাহলে তা ঠিক হয়নি। কারণ ধর্ষণ ঘটনায় এমন কারো বিচার করার ক্ষমতা নেই। এটার জন্য আইন আছে। আমি বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এস.এ/জেসি


