Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

তালিকা দিতে হকারদের গড়িমসি

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৪৭ পিএম

তালিকা দিতে হকারদের গড়িমসি
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জে প্রকৃত হকার কত জন আছে তার কোন তালিকা নেই। যেসব নেতারা হকারদের পক্ষ নিয়ে কাজ করছেন তারাও প্রকৃত হকারদের সংখ্যা জানেন না বলে জানা গেছে। তাই জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের চাওয়া নারায়ণগঞ্জের হকারদের তালিকা এখনও দিতে পারছে না হকাররা। অথচ হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন, সংগ্রাম, অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের হকাররা। তাই হকারদের দাবি ও উদ্দেশ্য নিয়ে একটি ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন শহরবাসী।

 

এর মধ্যে কিছু কিছু নেতা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার জন্য হকারদের উসকিয়ে দিচ্ছে উল্লেখ করে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছেন বলেও দাবি করছেন কেউ কেউ। এরই মধ্যে হকারদের কাছে তাদের তালিকা চাওয়ার পরও না পেয়ে এবং তালিকা দিতে গড়িমসি করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নারায়ণঞ্জের ফুটপাতকে হকারমুক্ত রাখার অন্যতম দাবিদার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি একেএম সেলিম ওসমান। হকাররা এমপির সেই নির্দেশও অমান্য করেছে বলে জানা গেছে।

 

এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহরের সচেতন মহল। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি হকারদের পুনর্বহাল ও পুনর্বাসনের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেন হকারগণ। তখন জেলা প্রশাসক হকারদের আইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বরসহ তালিকা জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই বিষয়ে এখনও কোন প্রকার সাড়া দেয়নি হকারগণ। এরই মধ্যে আন্দোলন সংগ্রামের সাথে সাথে ধীরে ধীরে ফুটপাতকে আবারও নিজেদের কব্জায় নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হকার ও তাদের দোসররা।

 

নারায়ণগঞ্জ এর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি একেএম সেলিম ওসমান,নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের একটি গোলটেবিল বৈঠকে শহরকে যানজটমুক্ত করা ও ফুটপাতগুলোকে হকারমুক্ত করার অঙ্গীকারকে একটি স্বস্তির বাতাস হিসেবে দেখেছিলেন শহরবাসী।

 

সেই বৈঠকের পরের দিন থেকেই অনেকটা নাটকীয়ভাবেই যেন শহরের ফুটপাতগুলো হকার শূন্য হয়ে যায়। স্বস্তি ফিরে আসে জনজীবনে। তবে আবারও শহরবাসীর সেই স্বস্তির আকাশে কালো মেঘের ছায়া হয়ে দেখা দিচ্ছে হকারদের ফুটপাত পুনর্দখলের প্রচেষ্টা। বিষয়টিতে খুবই অস্বস্তিতে আছেন নগরবাসী।

 

এর আগে হকারদের তালিকা ও স্থানীয় হকারদের জন্য পুনর্বাসনের চিন্তা-ভাবনার বিষয়ে আলাপকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিপিবি সভাপতি শ্রমিক নেতা হাফিজুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের সংবিধানের কোথাও নাই যেই জেলার মানুষ সেই জেলায়ই থাকতে হবে। আমার সংবিধান বলে বাংলাদেশের যেকোন নাগরিক বাংলাদেশের যেকোন প্রান্তে বসবার করতে পারবে, রুটি-রুজির ব্যবস্থা করতে পারবে। আমার এই রাষ্ট্রের মালিকানা সকলের সকলের সমান।

 

আমার ডিসি কি বললো, এমপি কি বললো, মেয়র কি বললো, শ্রমিক নেতা কি বললো, সেটা বিষয় না। বিষয় হলো আমার সংবিধান কি বলে। আমাদের সকলকে সাংবিধানিকভাবে সকল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। আমরা আমাদের সংবিধানকে এড়িয়ে মনগড়া কথা বলতে পারবো না। তাহলে তো নারায়ণগঞ্জের কোন উন্নয়নই হবে না। নারায়ণগঞ্জের গামেন্টসগুলোতে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করে। আমরা যদি বলি এখানে নারায়ণগঞ্জের বাইরের কোন শ্রমিক কাজ করতে পারবে না।

 

তাহলে তো আমার গার্মেন্টস শিল্প শেষ হয়ে যাবে। আমি যদি এখন বলি প্রশাসনের কেউ নারায়ণঞ্জ ছাড়া থাকতে পারবে না। এগুলো অসাংবিধানিক। আমি রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অসাংবিধানিক এসব কথাকে এলাও করতে পারি না। একটা জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, তার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান হবে। অন্যথায় কোন দাম্ভিকতা, কোন ভয়-ভীতি, কোন নির্দেশ এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।

 

হকার সমস্যা এবং তাদের তালিকা তৈরির বিষয়ে এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান জানিয়েছেন, হকারদের নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে ডেকে নিয়ে তাদের সংখ্যা ও তালিকা দিতে বলা হয়েছে। সেলিম ওসমান বলেন, তাদেরকে রাইফেল ক্লাবে ডেকে এনে দীর্ঘ সময় আলোচনা করি। সে সময় তাদের সংখ্যা কত জানিয়ে একটি তালিকা দিতে বলি কিন্তু তারা আজ পর্যন্ত আমাকে সংখ্যাটা বলতে পারেনি। তাদের এই তালিকা বানানো এখন পর্যন্ত শেষ হচ্ছে না।

 

তারা (হকার) যদি আমাদের কাছে তালিকা দেয় তাহলে আমরা চিন্তা ভাবনা করবো। কিন্তু রোজা, ঈদ দেখিয়ে বিকাল ৫টা থেকে বসবো বা অন্য সময় বসবো বলে, তাদের এমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না। সিদ্ধান্ত আমরা দিবো, তারা আমাদের প্রস্তাবনা দিতে পারে। তিনি বলেন, যেখানে সরকারের কোন কাজে কেউ কোন প্রকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সেখানে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন করা হয়।

 

কিন্তু কোন প্রকার অনুমতি ছাড়া ফুটপাত দখল করে সাধারণ মানুষের চলার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, বাহির থেকে লোক এসে যদি এখানে গার্মেন্টসে কাজ করতে পারে। তাহলে, হকাররা কেন গার্মেন্টসে চাকরি করে না? আমি বার বার তাদেরকে বলছি তোমরা একটা অলটারনেটিভ দাও। তারা সেটা দিচ্ছে না। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন