বাংলা ভাষার মতো পৃথিবীতে কোনো সুষ্ঠু মাতৃতান্ত্রিক ভাষা নাই
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৬ পিএম
গতকাল বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় ’পুস্তক প্রকাশনা এবং বিক্রেতা সমিতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক’ এর আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪ উপলক্ষে বই মেলার সমাপণী দিনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় চাষাড়ার টাউন হল প্রাঙ্গনে।
আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহম্মদ মাহমুদুল হক এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নুরুল হুদা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলা একাডেমির মহা পরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, মায়ের ভাষার মান রাখতে জীবন দিলো যারা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম শহিদ তারা। ভাষার মাস হলো ফেব্রুয়ারি মাস। এই মাসে আমরা নারায়ণগঞ্জ শহরের জেলা প্রশাসক এবং এই নগরের কবি-সাহিত্যিকদের সমন্বয়ে অনুষ্টিত হচ্ছে এই বই মেলা।
যারা ভাষার জন্য এই দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন ভাষা রক্ষার্থে অবদান রেখেছেন প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের মধ্যে ব্যাক্তিসত্ত্বা, বীরসত্ত্বার নাম জাতিরে পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি তার একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের নস্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন। ৭ই মার্চ ১৯৭১ সালে তিনি বলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।
এটা বলার মাধ্যমে আমাদের ব্যাক্তি স্বাধীনতা, জাতি স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা উচ্চারিত হয়েছিলো। বাংলা ভাষার বয়স হাজার বছর। বাংলা ভাষার প্রথম আদি শব্দ হচ্ছে মা। আমরা বলি এই বাংলা ভাষা শুধু বাংলাদেশে নয় সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরবে। এশিয়া মহাদেশ থেকে শুরু করে বিকাশিত হতে হতে এই স্থানে বাংলা ভাষা আসতে ৭ হাজার বছর সময় লেগেছে।
আমরা যেভাবে তুলে ধরি বাংলা ভাষা বিশ্ব ভাষায় পরিণত হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি ভাষার নাম বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষার মতো পৃথিবীতে আর কোনো দ্বিতীয় সুষ্ঠু মাতৃতান্ত্রিক ভাষা আর কোথাও নাই। একসময় সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষা হয়ে যাবে বাংলা ভাষা।
একজন প্রমিত বাংলা হতে হলে বঙ্গবন্ধুর সমর্স্থ গুনাবলি একজন বাঙ্গালির মধ্যে নিতে হবে তাহলেই সে প্রমিত বাঙ্গালি হতে পারবে। এছাড়া একজন বাঙ্গালির মধ্যে কে কোন ধর্মের কোনে জাতের সেগুলো বিভেদ না করে সে যে মানুষ এটা ভাবতে পারলে আমজন মানুষ একজন প্রকৃত বাঙ্গালি হতে পারবে, একজন প্রকৃত মানুষ হতে পারবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, আমি সর্বপ্রথম ধন্যবাদ জানাচ্ছি লেখক, দর্শক, কবি-সাহিত্যিক এবং পাঠকদের যারা এই জেলা প্রশাসকের আয়োজিত বই মেলাকে সফল করার জন্য। আমি নিজেই বই পড়ি কেননা কবিতা ও সাহিত্য পড়তে আমার ভালো লাগে। আমার ঐসময় যখন মোবাইল ছিলো না সেসময়টা ছিলো খুবই চমৎকার।
এছাড়া একসময় বই ছিলো একমাত্র বিনোদন। আমরা শরৎ, রবিন্দ্রনাথের বই পড়ে পড়ে বড় হয়েছি। কিন্তু এখনকার ছেলে মেয়েরা বই পড়ে না। তারা এখন মোবাইল দেখে দেখে বড় হচ্ছে। এজন্য আমি বলবো এধরনের অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য এরকম বই মেলা আমাদের অনেক আয়োজন করতে হবে এবং পাঠক সৃষ্টি করতে হবে।
আমরা এই বই মেলার মাধ্যমে চেষ্টা করছি যেন পাঠকের পাশাপাশি লেখক সৃষ্টি হয়। এবার নারায়ণগঞ্জে ৫শো ৪৭টি স্কুলের মধ্যে ৫শো ৪৭ টি স্কুলই দেয়ালিকা তৈরি করেছেন। এবার যেহেতু সময় খুব কম ছিলো এই কারনে রমজানের পর কিংবা ২মাসের মধ্যে আমরা এবছরের সাহিত্য পুরস্কার দিয়ে দিবো। কিন্তু আগামী বছর থেকে প্রতিবছর আমরা ২১শে ফেব্রুয়ারিতে আমরা এই সাহিত্য পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষ করে ফেলবো।
তিনি আরো বলেন আমাদের একটা প্রকল্প আছে যারা এখাে ন তরুন লেখক আছে। যারা লিখতে চায় তাদেরকে আমরা প্রশিক্ষণ দিবো। এবং এই মেলায় যারা লেখক ভালো লেখক হিসেবে আছেন তারা চাইলে ঐ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে থাকতে পারে। এছাড়া প্রয়োজনে আমরা বাংলা একাডেমি থেকে বিশেষ লোক নিয়ে আসবো। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ্য একটি অসম্প্রদায়িক বাংলা গঠনের স্বপ্ন দেখেছেন।
আর এই রকম অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ যদি আমরা তৈরি করতে চাইতাহলে আমাদের শিল্প, সাহিত্য পৃষ্টপোষকতা ছাড়া আর কোনো গতি নেই। সুতারাং আমাদের শিল্প সাহিত্য সংখ্যা যেন বাংলাদেশে বৃদ্ধি পায়।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ লেখক, কবি সাহিত্যকগণ এবং সাহিত্যিক পুরস্কার গ্রহনকারী শিশু ও সুধীবৃন্দ। এন. হুসেইন রনী /জেসি


