৩০ ফুট সড়কের ৬ ফুট বেদখল; বিদ্যুৎ খুঁটি রেখে চলছে কাজ
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৭ পিএম
রূপগঞ্জের ডেমরা- কালীগঞ্জ সড়কের মুশুরী থেকে পূর্বাচল প্রবেশের ২ টি সড়কের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলমান। কাগজে কলমে ৩০ ফুট সড়ক হলেও কাজ চলছে ২৪ ফুটের। বাকি ৬ ফুট রয়েছে স্থানীয়দের দখলে। আবার সড়কের মাঝখানে কোথাও পার্শ্বে বিদ্যুৎতের খুঁটি রেখেই কাজ চলমান থাকায় ফের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়কের মুশুরী থেকে পূর্বাচল প্রকল্পে প্রবেশে রয়েছে ৬ কিলোমিটার সড়ক। এছাড়াও মুশুরী থেকে বাগবের পর্যন্ত আরও ৭ কিলোমিটার। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৭ বছর ধরে এ সড়কদু'টি কোন প্রকার সংস্কার না করায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিল যাত্রী ও পথচারীরা।
তবে গত ২ বছর পূর্বে জনগণের দাবীর মুখে স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিকের প্রচেষ্টায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রদেয় বরাদ্দ ৮৫ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার,প্রশস্তকরণ কাজ পায়। এরপর ঠিকাদার এনডিই কাজ শুরু করেন। রূপগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশল কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সড়কটির প্রশস্তের পরিমাপ ৩০ ফুট।
এর যেখানে মাটির অংশে ভেঙ্গে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে সেখানে আরসিসি বাকি অংশে কার্পেটিং আর দুপাশে ৩ ফুট করে ৬ ফুট পথচারীদের চলাচলে ফুটপাত করার কথা। কিন্তু সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কটির ইছাখালী গাজী সেতুর পর থেকে উভয়পাশে খোলা রয়েছে কেবল কোথাও ২০ ফুট, কোথাও ২৪ ফুট। একই চিত্র রূপগঞ্জের মুশুরী এলাকার ফজুর বাড়ি, জাঙ্গীর বাজার, হারিন্দা গাবতলী, ভক্তবাড়ি বাজার এবং হাবিবনগর এলাকার।
আবার টান মুশুরী বাজার, দক্ষিণবাগ বাজার, বাগবের বাজার এলাকাও জনবসতি ও বাজার অঞ্চলের কোথাও ৩০ ফুট সড়ক খালি নেই। এসব সড়কের নুন্যতম ৩ ফুট করে ৬ ফুট সড়ক স্থানীয় সড়কের পাশের জমি মালিক ও বাসিন্দাদের কব্জায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হালড দখল করে রাখারও।
ভক্তবাড়ি বাজার এলাকার ব্যবসায়ী শাহিনুর মোল্লা বলেন, ভক্তবাড়ি বাজার এলাকায় সরকারী হালডের উপর দোকান পাট করে রেখেছে স্থানীয় লোকজন। এ বিষয়ে আমরা ভুক্তভোগীরা উপজেলা প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন মাপঝোঁক করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের জন্য প্রথমে লাল কালি দেয়। পরে উচ্ছেদের সময় ও চুড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু অবৈধ দখলদাররা তাদের জমি ছাড়েনি।
এসব বিষয়ে কথা হয় রূপগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভক্তবাড়ি বাজার এলাকার জমি মাপার পর হালডে দোকানপাট দেখতে পাই। সেখানকার অবৈধ দখলদাররা তাদের স্থাপনা নিজেই ভেঙ্গে নেয়ার অঙ্গীকার করে। অনেকে ভেঙ্গে দিয়েছে। তবে এখনো যারদ ভাঙ্গেনি। তাদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী মাহমুদ মোরশেদ বলেন, ৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপগঞ্জ ইউনিয়নের উপর দিয়ে যাওয়া মুশুরী থেকে পূর্বাচল প্রবেশের সড়কটি ৩০ ফুট হওয়ার কথা। এর দু'পাশে যেখানে যেখানে জমি পেয়েছি পুরো ৩০ ফুটই সড়ক হচ্ছে।
কিন্তু কিছুস্থানে জমি না পাওয়ায় বা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না করতে পেরে প্রজেক্টের কাজ চলমান রেখেছি। এতে মূল আরসিসি ঢালাই ১৮ ফুট, ফুটপাত ৩ ফুট করে উভয়পাশে ৬ ফুট পাকা করা হয়েছে। আর ৬ ফুট সড়ক জনগণের চলাচলে উন্মুক্ত রাখার কথা। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে আমরা কাজ করছি।
সরেজমিনে ঘুরে আরও দেখা যায়, একই সড়কের উভয়পাশে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যু সমিতি ২ এর পূর্বাচল জোনাল অফিসের আঁওতায় ৫ শতাধিক ১১ হাজার ভোল্টেজে তারবহনকারী খুঁটি। এসব খুঁটি না সরিয়ে কাজ চলমান রাখায়ও জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ। অভিযোগ রয়েছে, সড়কটি প্রশস্ত করলেও কাজে আসবে না বলে দাবী অনেকের।
দাউদপুরের বাসিন্দা হাসিব মিয়া বলেন, এতে বছর পর সড়কের কাজ চলমান। তারপরও বিদ্যুৎতের খুঁটি না সরিয়ে কাজ করা দুঃখজনক। তবে এ বিষয়ে রূপগঞ্জের পূর্বাচল জোনাল অফিসের ম্যানেজার লাবিবুল বাশার বলেন, খুঁটি সরানোর কাজ একদিনে হয়না। পক্রিয়া চলমান। সরানোর বাজেটের বিষয় নিয়ে জটিলতায় কিছুটা দেরী হচ্ছে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


