Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

একদিকে সিলগালা অন্যদিকে খোলা

Icon

লিমন দেওয়ান

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪, ০৯:২৬ পিএম

একদিকে সিলগালা অন্যদিকে খোলা
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে আনাচে কানাচে নোংরা পরিবেশে হুটহাট গড়ে উঠছে অজস্র লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেখানে মানুষকে কোনভাবেই নিতে পারলেই হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। আর এদিকে এই অবৈধ হাসপাতালগুলোকে যারা পরিচালনা করতে সাহায্য করছে নারায়ণগঞ্জে থাকা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্থানে থাকা চেম্বারের ডাক্তাররা।

 

তা ছাড়া ও এই হাসপাতালগুলোকে শহরের বুকে দেদারসে চালু রাখতে অল্প কিছু টাকা বিনিময়ে কাগজ ছাড়াই মুখে পারমিশন দিয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের কিছু কথিত কর্মকর্তা যাদের সহায়তায় অবৈধভাবে বহু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দেখা মিলছে নগর জুড়েই কিন্তু যখনই কোন দূর্ঘটনা ঘটে এমতা অবস্থায় প্রকাশ্যে কেউ সঙ্গ দেয় না সেই লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাগুলোর।  

 

অপর দিকে সকল লাইসেন্সেবিহীন হাসাপাতালের দিকে কোন প্রকারের সমস্যা হলেই তারা শহরের বড় বড় প্রভাবশালীদের বরাদ ও দেখিয়ে থাকে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে অল্প কিছুদিন পূর্বে সিভিল সার্জনের অভিযানে সিলগালা হওয়া নারায়ণগঞ্জের খানপুরে লাইসেন্সবিহীন তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার আয়েশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডি এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইমন ডায়াগনস্টিক সেন্টার যার নাম ও স্থান পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে আহিল ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে।

 

এগুলোকে সিলগালা করার ঘন্টা কয়েক পরেই তারা সিভিল সার্জনের অভিযানকে তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে চালু রেখেছে মেডি এইড ও আহিল। কিন্তু সিলগালা করার পরে ও কোথা থেকে তারা এই সাহস পায় আর চাবি পায়, নিশ্চই তারা প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির প্রশ্রয়ে আছে তা না হলে, সিভিল সার্জন অফিসের সাথে তাদের ভালো লেনদেন আর তা না হলে সিভিল সার্জন অফিসকে তারা কোনভাবেই তোয়াক্কা করে না এমনটাই দাবি নগরবাসীর।

 

এদিকে জানা গেছে, দ্বাদশ নির্বাচন ও নতুন মন্ত্রনালয় গঠনের পর পরই নবাগত স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন দেশের বিভিন্ন লাইসেন্সহীন সকল হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ দেন। আর এমনকি তার প্রথম থেকেই পুরোদমে তৎপর হয়ে আছেন দেশের সকল প্রকারের লাইসেন্সেবিহীন হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে।

 

এদিকে তার ঘোষণার পরদিন থেকেই লাইসেন্সহীন না থাকা, সনদ নবায়ন না করা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অনুমোদনবিহীন ল্যাব পরিচালনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অপারেশন পরিচালনাসহ বিভিন্ন অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বেশ কিছু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের লিস্টে করে সেগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে সেই সেই পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের লাইসেন্সেবিহীন অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন তার পর থেকেই বহু হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বন্ধের নোটিশ পাঠিয়ে দেন।

 

কিন্তু তারা সেই আলোকে বাস্তবায়ন না করেই তাদের কার্যক্রম অবহৃত রেখেছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত (২৭ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে শহরের খানপুরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল লাইসেন্সেবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলাতে অভিযান দেন সেখানে তারা অভিযুক্ত আয়েশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইমন যার বর্তমান নাম আহিল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মেডি এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সিলগালা করে দেওয়া হয়।

 

কিন্তু গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা মিলে, সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে সিলগালা করে দেওয়ার পর ও কিন্তু দিব্যি চলমান খানপুরের ইমন ওরফে আহিল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তা ছাড়া আরো জানা গেছে, এলাকার সেবা নিয়ে থাকে কিন্তু সকলেই জানে এটার বৈধ একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিন্তু এটা যে অবৈধর খাতায় নাম চলে গেছে এমনটা তো জানা নেই এলাকা ও আশেপাশের কাউরই।

 

এদিকে তাদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদিকে যদি লাইসেন্স না থাকা অবস্থায় কোন ভূল চিকিৎসায় হতাহতের ঘটনা ঘটে তাহলে এই দায়ভার নিবে কে? তা ছাড়া কোন প্রকারের কাগজ বা অনুমোদন ছাড়া কার নির্দেশে এই হাসপাতাল আবারো খোলা কেন এটা বোধগাম্য নয় কাউর। সিভিল সার্জনের বন্ধ করার পর ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি খেলা কেন এটা জানতে চাইলে আহিল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রবিন বলেন, আমরা সিভিল সার্জনের অফিসের কথা ছাড়া এটা খোলা রাখেনি।

 

আমরা সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকতা মামুন ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করেই এটা আবার খুলেছি। আর আমাদের কাগজ পত্রের কার্যক্রম অবহৃত রয়েছে। কিন্তু জানা গেছে, তারা কোন প্রকারের কাগজ পত্রের কার্যক্রম চালু করেনি। বিগত দিনে এই মালিকের আরেকটি পতিষ্ঠান ছিলো ইমন ডায়াগনস্টিক সেন্টার সেখানে ও নানা ভূল চিকিৎসাসহ নানা অভিযোগ থাকায় কাগজ পায়নি বলে জানা গেছে। অপর দিকে খানপুরের আরেকটি সিলগালাকৃত প্রতিষ্ঠান মেডি এইডকে সিলগালা করলে তারা আবারো তাদের কার্যক্রম অবহৃত রেখেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেডি এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজাদুল ইসলাম (আজম) জানান, আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাগজপত্র আছে শুধু নাবায়ন করা বাকি যার কারণে আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছিলো ভূল করে কিন্তু পরবর্তীতে আমি সিভিল সার্জন অফিসে একটি মুচলেকা দিয়ে আবারো এটা পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান তিনি।

 

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সংসদে এমপিদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধে আপসহীনভাবে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তা ছাড়া ভুল চিকিৎসায় কারো জীবন চলে যাবে, তা হতে পারে না বলে স্পষ্ট উচ্চারণ করেছেন তিনি।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সব এমপিরা যদি সহায়তা করেন, তবে সব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়া সম্ভব। তাই সবাইকে প্রত্যেকের এলাকায় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডা. সামন্ত লাল সেন আরও বলেন, দেশের সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য নেয়া হচ্ছে। একই সাথে সেসব জায়গায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি আছে কি না সেটাও এমপিদের তদারকি করার আহ্বান জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা ও অবগত হয়েছি আমাদের সিলগালা করা হাসপাতালগুলো আবারো দেদারসে চালু আছে। আর যেহেতু শুক্রবার ও শনিবার অফিস বন্ধ সেই ক্ষেত্রে আগামী রবিবার আমরা র‌্যাব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করিয়ে সেই হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টিকগুলো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন