শিল্পকারখানা সমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জ শহরের অধিকাংশ ভবনেই অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নেই। এর সাথে শহরে এখন বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট-হোটেলে সয়লাব। এসব রেস্টুরেন্ট যে সকল ভবনগুলোতে গড়ে উঠেছে সেগুলো অনেক সংকীর্ণ। সিঁড়িগুলোও খুব সংর্কীণ। রাজধানীর বেইলী রোডে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে লাগা আগুনে এখন পর্যন্ত ৪৬ জন মারা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। সেখানে অগ্নিকাণ্ডে এতো লোকের প্রাণহানির পেছনে ভবনের অনুমোদন না থাকা, সংকীর্ণ সিড়ি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।
রেস্টুরেন্টটিতে সিলিন্ডার বিষ্ফোরণের ফলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।এতে নারায়ণগঞ্জের দুই তরুণ-তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রেস্টুরেন্টগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। নারায়ণগঞ্জের কাচ্চি ভাই এর শাখাটি রয়েছে সেটি চাষাড়ার বালুরমাঠ ভাষাসৈনিক সড়কে মনির টাওয়ারে অবস্থিত। সেই ভবনটিতে ‘সিরাজ চুই গোস্ত’ নামক আরো একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। ভবনটির চতুর্থ তলা আল ইলহাম নামে একটি স্কুলও রয়েছে।
তাছাড়া ভবনটির নিচতলায় ‘সিপি ফাইভ স্টার’ ও ওয়াফেল স্ট্রিট নামে দুটি খাবারের দোকান রয়েছে। তবে এই ভবনটির সিঁড়ি অত্যন্ত সংকীর্ণ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে জনসমাগম হয় এমন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যদিও স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সিঁড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। তবুও ভবনের উপরের তলাগুলোতে বেশ কিছু ফ্ল্যাট রয়েছে। এই ভবনের পাশে আরো বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এই ভবনের কোন রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে অথবা এর আশেপাশের ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে এর পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ। শুধু এই বালুর মাঠের এই সড়কের প্রায় প্রতিটি ভবনেই রয়েছে রেস্টুরেন্ট, দোকান।
কিন্তু কোনটিরই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা শক্তিশালী নয়। তাছাড়া জরুরী অবস্থায় এক্সিট নেয়াটাও অনেক আত্মঘাতী হবে। শহরের বেশিরভাগ ভবন অগ্নিকাণ্ডের প্রস্তুতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু এতোকিছুর পরও বাড়েনি সতর্কতা। নারায়ণগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তল্লা ও রূপগঞ্জে বড় সংখ্যার মৃত্যুর ভয়াবহতা দেখেছে নারায়ণগঞ্জবাসী। কিন্তু এরপরেও গড়ে উঠেনি কোন বার্ন ইউনিট। বাড়েনি কোন অগ্নিনির্বাপণের পূর্ব প্রস্তুতি। এ ব্যাপারে সকলেই উদাসীন। প্রশাসনও এসব ব্যাপারে নিয়মিত তদারকির ক্ষেত্রে মনোযোগী।
এসব বিষয়ে নাগরিক কমিটির সভাপতি এ.বি সিদ্দিক যুগের চিন্তাকে জানান, ‘আমাদের দেশে এই দুর্ঘটনার কারণগুলো হচ্ছে যথাসময়ে ঝুঁকিপুর্ণ ভবনগুলো আয়ত্তে আনতে না পারা। আরেকটি হচ্ছে ফায়ার ডিফেন্সের কাছে আগুন নেভানোর মতো নেই পর্যাপ্ত আধুনিক সরঞ্জাম। এদিকে সরকারের আন্তরিকতার দরকার, দেখা যায় অগ্নিকান্ডের পর লক্ষ কোটি সম্পদ রক্ষায় সরকারের মনোযোগ নেই। ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতেই জ্বলে পুড়ে সব ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে। এরকম ঘটনা এখন সব জায়গায় ঘটছে শুধু আমাদের এখানে না সারা বাংলাদেশে এমন হচ্ছে। সামান্য একটা ম্যাচের কাঠি বিরাট অগ্নিকাণ্ড ঘটাতে পারে। এই সম্পদ রক্ষায় আমার সরকার এর কাছে অনুরোধ এ নিয়ে আরো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
এ নিয়ে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি হাজী নুর উদ্দিন বলেন, ‘ঢাকায় যে ঘটনা ঘটেছে সেটা সিলেন্ডার বিস্ফোরণের কারণে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পরেছিলো। সে ঘটনা থেকে আমাদের নারায়ণগঞ্জের মানুষদের সচেতন হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ-সহকারি পরিচালক ফখর উদ্দিন আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, এখন আপনি একটি বিল্ডিংয়ে থাকেন সেখানে যদি সিঁড়ি দিয়ে নামার রাস্তাটি চিপা হয় বা কম জায়গা থাকে এবং তারা যদি ভবন নির্মাণে সতর্ক না হোন তাহলে তো নানা ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকবেই।
আর এখানে রাজউক বলেন, সিটিকর্পোরেশন যারা আছেন এবং আমাদের সম্মেলিত হয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে আইনের অংশে আমাদের সুযোগটা কম আর যারা অনুমোদনকারী তাদের বেশি। আর বিল্ডিংয়ে সিঁড়ি ঠিক মতো দিয়েছে কিনা বা করেনি এবং পর্যাপ্ত জায়গা নিরাপদ ব্যবস্থা এগুলোতে রাজউক যে পরিকল্পনা দিয়েছে সেই অনুযায়ী কাজ হয়েছে কিনা সেটা তারা দেখবে। ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের সময় কর্তৃপক্ষকে আরো নজরদারী বাড়ানো প্রয়োজন। এস.এ/জেসি


