Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

৩০ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে নেই কোন উদ্যোগ

Icon

নুরুন নাহার নিরু

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ০৮:২৫ পিএম

৩০ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে নেই কোন উদ্যোগ
Swapno

 

ঘনবসতি এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এ শহরে স্থানীয়দের থেকে বেশির ভাগ লোক অন্যান্য জেলা গুলো থেকে আসে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য। কাজেই তাদের বাসস্থানের চাহিদা মেটানোর জন্য গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। বর্তমানে যেসব নীতিমালা মেনে ভবন নিমার্ণ করা হয় একসময় এসব ভবন নির্মাণ কালে মানা হয়নি কোনো নীতিমালা। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে অনেক ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ শহরে অন্তত ৪২ টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাছে। যেগুলো মাঝারি ভূমিকম্পে ধ্বসে পড়তে পারে। মাঝারি আকারের ভূমিকম্প এবং কোথাও অগ্নিকান্ডের ঘটনা শুনলে দেশব্যাপী আলোচনা হয় এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে।

 

কেননা গত বছর ১৮ই মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিতাইগঞ্জ ডালপট্টি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ চাল-ডাল-আটার একটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এই ভবনটি পরিত্যক্ত হলেও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এখানে কারখানার কাজ চলতো। ভয়াবহ এই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ১জন মারা যায় এবং প্রায় ১০ জনের মতো শ্রমিক আহত হয়। সচেতন মহলের মতে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের অগ্নি কিংবা ধ্বসে পড়ার মতো ভয়াবহ দূর্ঘটনা।

 

২০২৩ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্যে সিটি করপোরেশন ৪২ টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করেছেন। এরমধ্যে ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারন করে নতুন ভবন তৈরি করেছে। বাকি ৩০ টি ভবন এখনও অপসারন করতে পারেনি। অন্যদিকে তালিকায় শুধু মাত্র নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নাম উল্লেখ রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ এবং বন্দর অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা নেই সিটি করপোরেশনে কাছে।

 

তালিকা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ভবন গুলো হলো ১৫ নং ওয়ার্ডের টানবাজার মথুয়া রায় রোড এলাকার দস্তগীর আহম্মেদ এর ২ তলা ভবন, একই এলাকার ৩৪নং মহিম গাঙ্গলী রোডের সাধনা ঔষধালয়ের ২ তলা ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ যা ১২০ বছর পুরনো,  এসএম মালেহ রোডের মো. বাদল ২ তলা ভবনটিও প্রায় ১০০ বছরের অধিক পুরাতন, ৩০ নং মহিম গাঙ্গুলি রোডের সালাম, আসলাম, মাসুম গং ৪ তলা বিশিষ্ট ভবন, ৩৩নং মহিম গাঙ্গলী আলী সুপার মার্কেট এলাকার মোহাম্মদ আলী এর মালিকানাধীন ৩ তলা বিশিষ্ট পুরাতন ভবন, ৩৫নং মহিম গাঙ্গলী রোড টানবাজার এলাকার এইচএম ইউসুফ ৪ তলা বিশিষ্ট পুরাতন ভবনটি প্রায় ৮০ বছরের পুরানো, এসএম মালেহ রোড এলাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (রাজস্ব) এর ২ তলা বিশিষ্ট ভবন, এসএম মালেহ রোড এলাকার শাহীন ভূঁইয়ার মালিকানাধীন ২ তলা ভবন, ২১ এসএম মালেহ রোড এলাকার মোমেনা খাতুনের মালিকানাধীন ৩ তলা ভবন, ২০নং এসএম মালেহ রোড এলাকার হাজী ছাত্তার ভূঁইয়ার মালিকানাধীন ২ তলা ভবন, নিতাইগঞ্জ বিকে দাস রোড এলাকার আবদুর রহিম ভূঁইয়ার ৩ তলা বিশিষ্ট ভবন, ৩০ বিকে রোড এলাকার আবদুল কাইউম গং এর ২তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনে সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে, শাহসূজ্জোহা রোড নিতাইগঞ্জ এলাকার একেএম লুৎফর এর মালিকানাধীন ২তলা বিশিষ্ট ভবন, ৮নং ওল্ড ব্যাংক রোড নিতাইগঞ্জ এলাকার মাইনুদ্দিন গং এর ২তলা বিশিষ্ট ভবন, ৩৬৭/২ ডিপি রোডে ফরিদ আহাম্মেদ ও সামুসজ্জোহা এর মালিকানাধীন হাকিম প্লাজা, ২৫৮ ডিপি রোড এলাকার তাহমিনা খাতুনের মালিকানাধীন চার তলা ভবন, একই রোডের কামরুন্নেছা বেগমের মালিকানাধীন ৩তলা ভবন, রহিমা খাতুনের ২তলা ভবন, সাহেরা খাতুনের ৩তলা ভবন, নাসির মিয়ার ৪ তলা ভবন, ১৪নং ওয়ার্ডের ১০৪ বিবি রোডের খাজা নাজমুল হুদা খন্দকারের মালিকানাধীন ২তলা ভবন, শহরের গলাচিপা এলাকায় ২তলা বিশিষ্ট বাংলাদেশ স্কাউটস ভবন, সনাতন পাল লেন ফকিরটোলা মসজিদ এলাকায় আবদুস সোবহান এর মালিকানাধীন ৩ তলা ভবন, তামাকপট্টি এলাকায় মহিউদ্দিন বেপরীর মালিকানাধীন ২ তলা ভবন, দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার উম্মে কুলসুম এর মালিকানাধীন চার তলা ভবন, দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার জাহানারা বেগমের মালিকানাধীন ৩ তলা ভবন। ২৭নং মিনা বাজার- টানবাজারের লোকমান হাজীর ৭০ বছর পুরনো ভবন, ৪২নং নয়ামাটি হিমাংশু কুমার সাহা ২ তলা বিশিষ্ট ভবন, ৩১নং মহিম গাঙ্গুলী রোড টানাবাজারের সর্বজনীন গোপিনাথ জিউর মন্দির বিপ্লব সাহা রামু এর ৭০-৮০ বছরের পুরানো ভবন।

 

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক ফখর আহমেদ উদ্দিন যুগের চিন্তাকে বলেন, আপনি একটা বিল্ডিং বানাবেন এই বিল্ডিংয়ের কাঠামো বা বানানোর দায়িত্ব হচ্ছে রাজউকের। রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব হচ্ছে নকশা অনুমোদন করা এবং সেই নকশা অনুযায়ী কাজ তদারকি করা। বিল্ডিংয়ের কাঠামো অনুপাতের থেকেও যদি বেশি বানানো হয় তাহলে তো দুর্ঘটনা ঘটবেই। এখানে হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন যেটা করবে সেটাতো আর রাজউক করবে না আর রাজউক যেটা করবে সেটা সিটি কর্পোরেশন করবে না। যারা নকশা অনুমোদন করে সেই অনুযায়ী যদি কাজ না হয় তাহলে সেটা তারা ভেঙ্গে দিবে এবং সরকারি ব্যবস্থা নিবে। 

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মানবাধিকারকর্মী মাহবুবুর রহমান মাসুম যুগের চিন্তাকে বলেন, নারায়ণগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা অনেক আগেই করা হয়েছে। এগুলো ফায়ার সার্ভিস, রাজউক, সিটি করপোরেশনের এবং প্রশাসনের দেখে রাখা উচিত। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে এসব বিষয়ে তাহলেই দেখা যায় বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি হয় এছাড়া হয় না। আমার মতে আমাদের নারায়ণগঞ্জকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখার জন্য ফায়ার সার্ভিস, রাজউক এবং প্রশাসনের একমত হয়ে মনিটরিং করে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলা উচিত। তা না হলে এসব দুঃখজনক ঘটনা, প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

 

এ বিষয়ে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি হাজী নুর উদ্দিন যুগের চিন্তাকে বলেন, সিটি করপোরেশন যদি এগিয়ে এসে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে তাহলে অনেকেই রক্ষা পাবে। আমি মনে করি এসব ভবন গুলো ভেঙ্গে ফেলা উচিত।  

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম এর মুঠোফোনে বহুবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন কলটি রিসিভ করেননি। এস.এ/জেসি


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন