চারটিকে জরিমানা সাড়ে চার লাখ টাকা, সিলগাল একটি
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৪:১৩ পিএম
# ভুয়া রিপোর্ট আর অনুমোদন ছাড়া চলছে প্রাইভেট ক্লিনিক
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারাদেশে অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক বন্ধের অভিযানের ধারাবাহিক কার্যক্রমের আঁওতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জেও চলছে অভিযান। সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দেখে রোগী আর ডাক্তারদের আটকে রেখেই ফটকের বাইরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় উপজেলার ভুলতা এলাকার ভুলতা মর্ডাণ হাসপাতালের মালিক ও ম্যানেজার। এরপর বেরিয়ে আসে একের পর এক হাসপাতালের নানা অনিয়মের তথ্য।
শুধু তাই নয়, লাইসেন্স ছাড়াই ভবনে ভবনে বেসরকারি হাসপাতালে দিয়ে ভুয়া প্যাথলজি রিপোর্ট মাধ্যমে চালাচ্ছিলো গাউছিয়া ২ এ মেমোরী হাসপাতাল। আবার রেদোয়ানা টাওয়ারে সেন্ট্রাল হাসপাতাল, আজিজ মার্কেটের নিউ লাইফ হাসপাতালসহ আরও ৪ টির বেশি হাসপাতাল। এদের কারো নেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন,নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি, এমনকি থাকেন না নিয়মিত ডাক্তার।
রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারদের নাম ব্যবহার করে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিজেই করেন স্বাক্ষর। এমন নানা অভিযোগ পেয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল ও ভুলতার গাউছিয়া এলাকায় চলে অবৈধ হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধের অভিযান।
রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সিমন সরকারের নেতৃত্বে অভিযানে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আইভী ফেরদৌস, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নাজমুল আহমেদ,প্যাথলজিস্ট আলমগীর হোসেন, খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।
রবিবার সকালে ও গত শনিবার দিনব্যাপি এমন অভিযানে বেরিয়ে আসে নানা অনিয়মের প্রমাণ। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের বিভিন্ন ধারায় অনিয়ম ও বেআইনি ভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করায় মেমোরি হাসপাতালকে ২ লাখ টাকা, ভুলতা জেনারেল হাসপাতালকে ৩০ হাজার টাকা, রূপগঞ্জ সেন্ট্রাল হাসপাতালকে দেড় লাখ, নিউ লাইফ হাসপাতালকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এদিকে অভিযানের খবর পেয়ে ভুলতা মর্ডান হাসপাতালের ভেতরে রোগী ও ডাক্তার রেখেই বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় মালিক পক্ষ। পরে ওই হাসপাতালের তালা ভেঙ্গে ভেতর থেকে রোগী ও ডাক্তারকে উদ্ধার করে ভ্রাম্যমান আদালতের সদস্যরা। পরে ওই হাসপাতালটিকে সিলগালা করে বন্ধ ঘোষণা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সিমন সরকার।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আইভী ফেরদৌস শোভা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারাদেশেই অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক দেখভালের অভিযানের অংশ বিশেষে আমরা রূপগঞ্জেও অভিযান অব্যাহত রেখেছি। শনিবার দিনব্যাপি এবং রবিবার উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে সরেজমিনে পরিদর্শনে যাই। এসবের মাঝে ভুলতার ৫ টি হাসপাতালের ব্যাপক অনিয়ম দেখতে পাই।
এসব অনিয়মের মাঝে মেমোরী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল নামীয় প্রতিষ্ঠানে দেখতে পাই ওটির অভ্যন্তরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীট, নোংরা বিছানা ও সরঞ্জাম। যা দিয়ে রোগীদের অস্ত্রপাচার চালাচ্ছিলো, একই হাসপাতালে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে এপ্রোন ব্যবহার করতে দেখিনি। এছাড়াও প্যাথলজি বিভাগের ডাক্তার ছাড়াই টেকনেশিয়ান মাধ্যমে রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারের স্বাক্ষর জাল করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসব অনিয়মের কারনে ভোক্তা অধিকার আইনের আঁওতায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ২ লাখ টাকা জড়িমানা আদায় করেছি। একইদিন হাসপাতালের অনুমোদন না থাকা, ওটিতে স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ না থাকা, ভুয়া রিপোর্ট তৈরী, ডাক্তার না থাকায় রূপগঞ্জ সেন্ট্রাল হাসপাতালকে দেড় লাখ টাকা, একই ধরনের অপরাধে নিউ লাইফ হাসপাতালকে একলাখ টাকা জড়িমানা আদায় করা হয়েছে।
এ ছাড়াও পরিচ্ছন্নতার অভাব থাকায় ভুলতা জেনারেল হাসপাতাল থেকে দন্ড হিসেবে ৩০ হাজার টাজা জড়িমানা আদায় করি। এদিকে ভুলতা মডার্ণ হাসপাতালের অবৈধ কার্যক্রম চালালে ওই হাসপাতালকে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া কর্মকর্তা, রূপগঞ্জ উপজেলার এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সিমন সরকার বলেন, ভুলতা এলাকার বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালালে আমরা ভ্রাম্যমান টীম অনিয়ম পাই। যাতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় অর্থদন্ড প্রদান করি। পাশাপাশি উপজেলার অন্যান্য এলাকায় অবস্থান করা হাসপাতালগুলোতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছি। যেটাতেই অনিয়ম পাবো সেখানেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এন. হুসেইন রনী /জেসি


