মাদকাসক্তদের অত্যাচারে অসহায় সরকারি কর্মকর্তারা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৪, ০৯:১১ পিএম
# পুলিশকে জানানো হলেও কার্যত সমাধান হয়নি : মৎস্য কর্মকর্তা
# বিষয়টা আমার জানা ছিল না, খোঁজ নিয়ে দেখছি : ওসি ফতুল্লা
বখাটেদের উৎপাতে অতিষ্ঠ ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার জনসাধারণ। প্রকাশ্যে মাদকসেবন, মাদক বিক্রি ও ইভটিজিংসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জর্জরিত কিশোরগ্যাং সদস্যদের ভয়ে তটস্থ ওই এলাকার মানুষ। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়া ওই স্থানের দু’পাশে দু’টি সরকারি অফিস!
যদিও এ বিষয়ে রীতিমতো অসহায় আত্মসমর্পণ করে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বারংবার অবগত করা হলেও সমস্যার কোন সমাধান হয় না! তবে পুলিশ বলছে, তাদের মাদক ও কিশোরগ্যাং বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কস্থ জেলা মৎস্য অফিস ও জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে-পেছনে প্রতিনিয়তই আড্ডা জমায় বিভিন্ন এলাকার বেশ ক’টি গ্রুপ। তারা প্রকাশ্যে মাদক সেবন এমনকি বেচাবিক্রি পর্যন্ত করে। এছাড়াও ওই রাস্তায় চলাচলরত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ইভিটিজিং করতেও ছাড়ে না বেপরোয়া কিশোরগ্যাং সদস্যরা।
ওই রাস্তায় চলাচলরত ভুক্তভোগীরা জানান, মেইন রোড থেকে মহল্লার রাস্তায় পৌঁছাতে প্রচন্ড বেগ পেতে হয় সাধারণ মানুষকে। যারা এখানে প্রতিনিয়ত আড্ডা জমিয়ে অপরাধমূলক কর্মকান্ডগুলো করে তারা সকলেই আশপাশের এলাকা থেকে আসে। এরা প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বেচাবিক্রি করে। ওরা এতোটাই বখাটে যে, তাদের এ সকল অপকর্মের বিষয়ে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, এই সড়কে ডাক্তার, আইনজীবীসহ সচেতন নাগরিকরা যাতায়াত করে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও চলাফেরা করে। এখানে আড্ডা জমানো কিশোররা মেয়েদেরকে নানানভাবে উত্ত্যক্ত করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনের বেলা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই সেখানে বসে মাদকের হাট। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মাদক কারবারিরা সরকারি অফিসের পেছনের মাঠে অবস্থান করে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ ইয়াবা আবার কেউ গাঁজার কারবারি। ওই রাস্তায় চলাচলরতদের তারা আকারে ইঙ্গিতে জিজ্ঞেস করে ‘কিছু লাগবো নাকি’? বহিরাগতদের প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির বিষয়ে স্থানীয় মুরব্বীরা প্রতিবাদ করলেও কার্যত কিছুই হয় না।
এদিকে এই সবকিছুই অকপটে স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিসের মৎস্য কর্মকর্তা ড. ফজলুল কাবীর যুগের চিন্তাকে বলেন, আসলে বিষয়টা হচ্ছে আমরা ৪টার পর অফিস বন্ধ করে দেই। আরেকটা বিষয় হচ্ছে সন্ধ্যার পর আমাদের এইখানে কেউ থাকে না। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমার এইখানে নিরাপত্তা প্রহরীর পদ থাকলেও ‘নিরাপত্তা প্রহরী নেই’! আর বিকেলের পর বাহিরে থেকে এগুলো আমরা মনিটরিং করতে পারি না।
আপনারা উপস্থিত না থাকলেও এই বিষয়টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করা উচিৎ বলে মনে করেন কি না জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আমার যতটুকু জানা আছে তা হলো- আমি এখানে আসার পূর্বে দুই অফিস থেকে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করা হয়েছিল। এমনকি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছিল। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এসেছিল। কিন্তু কার্যত সমস্যার কোন সমাধান হয়নি!
অপরদিকে, একই বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক আহমেদকে মুঠোফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের মাদক ও কিশোরগ্যাং বিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে এবং সবসময়-ই থাকবে। এই বিষয়টা আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে দেখে সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এস.এ/জেসি


