Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কাঁচে ঘেরা রেস্টুরেন্টগুলো যেন মরণফাঁদ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৪, ০৯:৪০ পিএম

কাঁচে ঘেরা রেস্টুরেন্টগুলো যেন মরণফাঁদ
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জে বাহিরে খাওয়ার জন্য যেখানে মানুষ সবথেকে বেশি ভীড় করে সেটি হলো নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকায় ভাষা সৈনিক সড়ক এবং এর পাশের এলাকা আল্লামা ইকবাল রোড যা কলেজ রোড নামে পরিচিত। এ দুটি এলাকায় যেদিকে চোখ যাবে বহুতল ভবনগুলোতে অহরহর রেস্টুরেন্টগুলো চোখে পড়বে। মনে হবে এ যেন এক রেস্টুরেন্ট পাড়া।

 

পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে বঙ্গুবন্ধু সড়কের সমবায় ব্যাংক ভবনের সর্বোচ্চ ফ্লোরে বিশাল অভিজাত রেস্টুরেন্ট লা-ভিস্তা। ২নং রেল গেটের ফজর আলী সিটি গার্ডেনের গ্যান্ড প্যাসিফিক চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। শুধু মাত্র এই সড়ক গুলো নয় নবাব সলিমুল্লাহ সড়কসহ নারায়ণগঞ্জে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে রেস্টুরেন্ট। গত ৫ থেকে ১০ বছরের আগের সময় এতো রেস্টুরেন্ট নারায়ণগঞ্জে ছিলো না। যতটা বর্তমানে এই ২-৩ বছর ধরে গড়ে উঠেছে।

 

নারায়ণগঞ্জের রেস্টুরেন্ট প্রায় অধিকাংশগুলো সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কাঁচের দেয়াল দিয়ে ঢাকা। কে কতটা সৌন্দর্য বাড়িয়ে আভিজাত্য বাড়াতে পারে প্রতিদিন চলছে এর প্রতিযোগিতা। যা সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করছে। সন্ধ্যার পর থেকে প্রতিদিন প্রায় অসংখ্য মানুষ সেসব রেস্টুরেন্ট গুলোতে খাবার খাওয়ার জন্য ভীড় করছে।

 

কিন্তু খেতে আসা এসব সাধারণ ভোক্তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগরপরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জে যেসব রেস্টুরেন্ট গুলো রয়েছে সেগুলো কোনোটাই বাণিজ্যিক ভবনের যে নকশা সে নীতিমালায় নির্মিত নয়। 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারি অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকার বেইলী রোডের ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনার পর থেকে নারায়ণগঞ্জের রেস্টুরেন্ট মালিকগুলো সতর্কতার জন্য শুধু মাত্র ফায়ার নির্বাপনের যন্ত্র এনেছে। কিন্তু তাদের ভবনের যে চারপাশেই একটা মরণ ফাঁদ সেটা তারা দেখেও যেন দেখছে না। তারা ব্যস্ত কার রেস্টুরেন্ট থেকে কারটা বেশি নজর কাড়া করা যায়। কিছুদিন আগে দেখলাম নারায়ণগঞ্জের বাঙ্গালিয়ানা রেস্টুরেন্টের সিঁড়ির নিচে বড় গ্যাস সিলেন্ডারের বোতল রেখে দিয়ে তারা দিব্যি রেস্টুরেন্ট চালাচ্ছে। কিন্তু তারা এটা মনে রাখে না তাদের করা ছোট একটা ভুলের কারণে শত শত নিরীহ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পরতে পারে। অন্যদিকে রেস্টুরেন্ট গুলোর সিড়ি গুলো দিয়ে মানুষ একপ্রকার বাধ্য হয়ে চলাফেরা করে। কেননা সিড়ি গুলো খুব সরু। লিফট গুলো আয়তনে ছোট। মাত্র ৫-৬ জনের বেশি একটি লিফটে উঠতে পারে না। এছাড়া অনেকে ভবনের তারা সিঁড়ির নিচে বিভিন্ন সরঞ্জাম। এমন অবস্থায় একটি ভবনের অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটলে প্রচুর সংখ্যার মানুষের প্রাণহানী ঘটতে পারে।

 

রেস্টুরেন্ট গুলোর কর্তৃপক্ষ বলছে, আমাদের রেস্টুরেন্টে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা ব্যবসা করি ঠিকই কিন্তু মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই করি। যেন কোনো কাস্টমারের কোনো প্রকার সমস্যা না হয় সে দিকে আমরা সবসময় লক্ষ্য রাখি। 

 

সচেতনমহলের ভাষ্য মতে, রেস্টুরেন্ট গুলোর আলোকসজ্জা দেখে মানুষ খেতে চলে আসে। কিন্তু ভোক্তারা একবার চিন্তা করে না আমি যে ভবনে যাচ্ছি সেখানে কতটা নিরাপত্তা রয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা বা জরুরি বের হওয়ার রাস্তা সুযোগ কতটা রয়েছে। সিলেন্ডারের বিশাল আকারের চুলা থেকে অসাবধানতার কারণে যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ অগ্নি দূর্ঘটনা। এছাড়া অতিরিক্ত আলোকসজ্জার কারনে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে দূর্ঘটনার আশঙ্কা সব চেয়ে বেশি থাকে। সামান্য আগুনের ছোয়াতে মূহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পরে জায়গাটিতে পরিণত করতে পারে বিশাল মরণ ফাঁদে। 

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, কাঁচে ঢাকা এসব রেস্টুরেন্টগুলো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে যেসব ভবন গুলোতে একাধিক রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে এসব ভবন বাণিজ্যিক ভবনের জন্য নির্মিত না। ভবন মালিকরা অনুমোদন আনে এক আর ভবন নির্মাণ করে আরেক। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে অধিকাংশ রেস্টরেন্ট ঘুরে দেখা যাবে তাদের অগ্নি নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সিঁড়ি গুলো সরু। লিফট আয়তনের তুলনায় ছোট। এছাড়া জরুরি বের হওয়ার কোনো রাস্তাও তাদের নেই। সিটি করপোরেশন থেকে এসব ভবনগুলোতে অভিযান চলছে। এস.এ/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন