না.গঞ্জের আলোচিত পাঁচ অগ্নিদুর্ঘটনা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৪, ০৯:৫৪ পিএম
প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত শহর নারায়ণগঞ্জ। শিল্পকারখানা ও সাংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করে চলছে এই শহর। অধিক শিল্পকারখানার অবস্থান এবং লক্ষাধিক মানুষের বসবাস নারায়ণগঞ্জ নামের এই ছোট্ট শহরটিতে। এ কারণে প্রায় সময় বিভিন্ন জায়গায় ভয়াবহ অগ্নি দূর্ঘটনার কবলে পরে নানা পত্রিকার শিরোনাম হয় বাণিজ্যির অঞ্চলটি। ফায়ার সার্ভিস তথ্য অনুসারে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫ শতাধিকের বেশি অগ্নি দূর্ঘটনা ঘটে।
তবে অগ্নি দূর্ঘটনায় দগ্ধ বা আহত হয়ে জেলার বাহিরের হাসপাতালে গিয়ে মারা গেলে তাদের সংথ্যা ফায়ার সার্ভিসের তালিকায় যুক্ত হয় না। এদিকে গত পাঁচ বছরে প্রকাশিত বিভিন্ন গনমাধ্যমে জেলার ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনাগুলোর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য। ২০২৩ সালের ৩ নভেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আউখাবো বাজার এলাকার একটি বাসায় গ্যাস সিলেন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাচঁজন দদ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থা একে একে ৩ জনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন, আলী আহমেদ (৬৩), শাহেরা আক্তার (২৪), মো. সোনা মিয়া।
অপর দিকে ২০২১ সালে ৮ই জুলাই রূপগঞ্জে কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানার ছয় তলা ভবনের আগুন দেখে ভবন থেকে লাফিয়ে পরে ৩ মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ১৯ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে পুড়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে ৫৪ জন শ্রমিক-কর্মচারী নিহত হয়েছে। এমনকি অনেকের লাশ পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। পরবর্তীতে তাদেরকে ডিএনএ টেস্ট এর মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি এ সালেই ৯ মার্চ রাতে ফতুল্লার মাসদাইরের পতেঙ্গা এলাকায় ছয়তলা ভবনের ষষ্ঠতলার একটি ফ্ল্যাটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ হন। উদ্ধারের পর তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জনের মৃতু হয়। তাদের মধ্যে পোশাক শ্রমিক মো. মিশাল, শিশুপুত্র মিনহাজ, চাচাতো ভাই মাহফুজ ও স্কুলছাত্র সাব্বির হোসেনের মৃত্যু হয়।
২০২০ সালের ৪ই সেপ্টম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লার তল্লা বাইতুস সালাম জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের সময় জমে থাকা গ্যাস থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের ভিতরে থাকা মানুষের শরীর ঝলসে যায়। কারও কারও শরীরে কোনো কাপড়ই ছিলো না। এরপর এলাকা জুড়ে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। ঝলসে যাওয়া ৩৭ জনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। হাসপাতাল থেকে কয়েকজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও প্রাণ হারাতে হয় ৩৪ জনকে।
একই সালে ১২ নভেম্বর ফতুল্লার পূর্ব শিয়ারচরের লালখা এলাকায় একটি ৫ তলা বাড়ির নিচ তলায় গ্যাস পাইপের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণে চার নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তারা হলেন- মায়া রানী দাস, মঙ্গলী রানী দাস, ঝুমা রানী ও তুলসী রানী।
এ বিষয়ে আমরা নারায়ণগঞ্জ বাসী এর সভাপতি হাজী নুর উদ্দিন যুগের চিন্তাকে বলেন, দুর্ঘটনা তো অনেক কারণেই ঘটে। মূলত মানুষের অসতর্কতার কারণে এ গুলো ঘটছে বেশি, এখন বেশিরভাগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় সিলেন্ডার এবং পাইপলাইনের গ্যাস বিস্ফোরনের কারণে দুর্ঘটনা গুলো হচ্ছে। আর এগুলো রোধের জন্য গ্যাস কর্তৃপক্ষকে আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং বাসাবাড়িতে পাইপলাইন বা সিলেন্ডারের যে গ্যাস ব্যবহার করা হয় কাজ শেষে দেখতে হবে রান্নাঘরে গ্যাস জমাট বেধে আছে কিনা এদিকে সতর্ক থাকতে হবে। একটি রেস্টুরেন্ট এ মানুষ আসা-যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা প্রয়োজন যাতে নির্বিঘ্নে-নিশ্চিন্তে মানুষ বের হতে পারে। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষেেদর কাছে যথেষ্ট পরিমাণ আধুনিক সরঞ্জাম থাকতে হবে যাতে তারা যেকোনো মুহুর্তে দ্রুত সাড়া দিয়ে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
এ বিষয়ে নাগরিক কমিটির সভাপতি এ.বি সিদ্দিক যুগের চিন্তাকে বলেন, রাজধানীর পর আরেকটি জনবহুল শহর হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। এখানে প্রচুর শিল্প কারখানা অবস্থিত। তার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে এই জেলায় মানুষ আসে কাজ করার জন্য। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের যে ভবন গুলো রয়েছে সেগুলো একটার সাথে একটা লাগানো। এতো ঘণ, দূরত্ব কম। যার কারনে অগ্নি ঝুঁকি বেশি। সুতারাং আমার মতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং রাজউক এর এ বিষটিতে নজর দেওয়া উচিত। উন্নমানের যন্ত্র ব্যবহার করে আমাদের নারায়ণগঞ্জকে বাঁচানো উচিত। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমাদের এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেসব কিছু আমার চোখে পড়ে না। আর যদি তারা প্রশিক্ষণ দিয়েও থাকে তাহলে খুব কম।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ই-পরিচালক ফখর উদ্দিন আহমেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, দূর্ঘটনা কমাতে নারায়ণগঞ্জ সদরে আরো ৩টি ফায়ার স্টেশন নতুন হচ্ছে। আর আমার মতে এই তিনটি যদি হয়ে যায় তাহলে আগামী বছরে থেকে দূর্ঘটনা আরো কমবে। এস.এ/জেসি


