লাইসেন্সবিহীন মনোরমা-জারিনে নীরব সিভিল সার্জন
লিমন দেওয়ান
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৪, ০৭:৩৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের আনাচে কানাচে নোংরা পরিবেশে হুটহাট ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যাদের এগুলো পরিচালনা করার ক্ষেত্রে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নেই কোন কাগজ নেই, তারপরে ও সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করেই দেদারসে খোলা রাখা হয়েছে অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো।
তাদের সাথে তাল মিলিয়েই সিদ্ধিরগঞ্জের আনাচে কানাচে বা মেইন রোডে বিভিন্ন ক্ষমতাসীন নেতাদেরসহ সিভিল সার্জন ও সিটি কর্পোরেশনের কিছু কথিত ব্যাক্তিদের সাথে আতাঁত করেই চলছে অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো যাদের নেই কোন লাইসেন্স বা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ নূন্যতম ডাক্তার ও নেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তা ছাড়া ও নানা পরীক্ষার নামে বিভিন্ন কায়দায় রোগী এনে তাদের কাছে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ ও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে এমনকি চিকিৎসার মান নিয়ে ও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
ইতিমধ্যে সিভিল সার্জনের দায়েরকৃত অবৈধ লিস্টে সিদ্ধিরগঞ্জে মনোরমা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড অর্থোপেডিক সেন্টার ও জারিন ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অবৈধ তালিকাভুক্ত হয়েও কার ইশারায় এখনো চালু এই হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকগুলো তা নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। তা ছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেনে নির্দেশে অবৈধ হাসতাপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে দফায় দফায় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে কিন্তু নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন অফিস রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
কিন্তু শহরে যে হারে অবৈধভাবে ডিজি হেলথসহ নানা কাগজপত্রসহ বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাউন্টারে থাকা লোকেরাই নানা পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ নানা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে যা নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, অনলাইন মিডিয়ায় নিউজ হচ্ছে কিন্তু জোরদার অভিযানে পূর্বের মতোই নিরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লী আবাসিক এলাকার আটি হাউজিং রোড সংলগ্ন লেকভিউ টাওয়ার ভবনে লাইসেন্স ছাড়া সিটি কর্পোরেশন ও সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবেই গড়ে উঠেছে মনোরমা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড অর্থোপেডিক সেন্টার। ভবনটির ২য় তলা ও তয় তলায় হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। যেখানে প্রসূতি, গাইনী, শিশু, মেডিসিন, নাক, কান, গলা, চর্ম-যৌন রোগ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য সেবা দিয়ে থাকলে ও দীর্ঘদিন সিভিল সার্জনের নাকের ডগার নিচ দিয়ে লাইসেন্স ছাড়াই দেদারসে পরিচালিত হচ্ছিল হাসপাতলটি।
এদিকে অবৈধ তালিকায় থেকেও কিভাবে হাসপাতাল চলছে জানতে চাইলে কাউন্টারে থাকা কর্মকতারা বলে আমরা এই বিষয়ে কিছু বুঝি না আপনি ম্যানেজার স্যারের সাথে কথা বলেন। পরবর্তীতে পুরো হাসপাতালটি ঘুরে বোঝা যায় এটা ডাক্তার ছাড়াই বর্তমানে চলমান অবস্থায় রয়েছে কিছু নার্সদের দিয়েই যা অবৈধ বললেই চলে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের জোরদার ভূমিকা দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য কর্মকতারা কিছুই করছে না। পরবর্তীতে চিটাগং রোড গেলে দেখা মিলে আরেকটি অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যার নাম জারিন ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
যেখানে গিয়ে দেখা মিলে কোন বাধা না মেনেই চলছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি, নেই কোন নিজস্ব ডাক্তার কাউন্টারে বসা একটি মেয়েই করছে (ইসিজি) যোগাযোগ করে জানা যায় এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ডা. জারিন তার পরিচালনার কথা থাকলে ও তিনি আসতে পারছে না। যার কারণে ডাক্তারবিহীন অবস্থায় চলছে এই জারিন ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অপর দিকে সিটি কর্পোরেশন ও সিভিল সার্জনের সাথে কোন যোগাযোগ ও লাইসেন্সসহ যাবতীয় কাগজপত্র ছাড়াই চলছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
কিন্তু এলাকার সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে অবগত নেই যার কারণে নানা পরিচয়ে বা মদিনা চক্ষু হাসপাতালের পরিচয়ে পরিচালিত হচ্ছে এই জারিন ডায়াগনস্টিক। ম্যানেজারের দাবি, এটা চালাবো নাকি চালাবো না এ বিষয়ে আমরা এখনো কোন পদক্ষেপ নেইনি শুধু আপাতত চালু রেখেছি।
এ বিষয়ে মনোরমা জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার ডিরেক্টর রফিকুল ইসলাম কিরণ বলেন, আমরা আমাদের লাইসেন্স কার্যক্রম অবহৃত রেখেছি। আর আমাদের এই হাসপাতাল চালু হয়েছে বেশিদিন হয়নি তো মাত্র কয়েক মাস যাবৎ শীঘ্রই কাগজপত্র আমাদের এসে পরবে আর বৈধ খাতায় নাম চলে আসবে। কাগজ আসার আগে চালানোর বিষয়টা জানতে চাইলে তিনি, কথাটা এড়িয়ে কল কেটে দেন।
জারিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার মঞ্জুরুল হক বলেন, আমরা এখনো এটা চালাবো কিনা এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেইনি। কিন্তু আমরা আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কথা সিভিল সার্জন ও সিটি কর্পোরেশনকে অবগত করেছি। তারা এখন এসে ভিজিট করে গেলে পরবর্তীতে আমরা আমাদের লাইসেন্স কার্যক্রম চালু করবো। তার আগে কোন রকম খোলা রেখেছি। টুকটাক রোগী আসে তাদের আমরা হালকা পাতলা চিকিৎসা দেই। আমাদের কোন ডাক্তার নেই যার কারণে সেই রির্পোটগুলো আমরা মদিনা চক্ষু হাসপাতালের ডাক্তারদের নিয়ে দেখাই তারা ফাইন্ড আউট করে দেয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান যুগের চিন্তাকে বলেন, অবৈধ হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অবহৃত রয়েছে। আর যারা এখনো কাগজপত্র ওকে না করেই হাসপাতাল পরিচালনা করছেন তারা তাদের বিপদ ডেকে আনছেন। আমরা শীঘ্রই সিদ্ধিরগঞ্জের অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক যেগুলো তালিকাভুক্ত রয়েছে সেগুলোতে অভিযান পরিচালনা করবো। এস.এ/জেসি


