৩০ ফুট সড়কের ১৪ ফুট কালভার্ট; মেয়াদ জটিলতায় দুর্ভোগের আশঙ্কা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫৩ পিএম
রূপগঞ্জের ডেমরা- কালীগঞ্জ সড়কের মুশুরী থেকে পূর্বাচল প্রবেশের মূল ও লিংকসহ ২ টি সড়কের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলমান। কাগজে কলমে ৩০ ফুট সড়ক হলেও একদিকে অবৈধ দখলদার থাকায় কাজ চলছে ২৪ ফুটের। বাকি ৬ ফুট রয়েছে স্থানীয়দের দখলে।
এছাড়াও সড়কের মাঝখানে কোথাও পার্শ্বে বিদ্যুৎতের খুঁটি রেখেই কাজ চলমান থাকায় ফের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সড়কের কাজ শেষ করতে পারলেও কালভার্টের নির্মাণ কাজ শুরু না করায় তৈরী হয়েছে নতুন জটিলতা। ফলে কালভার্ট না করেই সড়কের কাজ শেষ হলে দুর্ভোগ বাড়বে চরমে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়কের মুশুরী থেকে পূর্বাচল প্রকল্পে প্রবেশে রয়েছে ৫৫০ মিটার করে ১১০০ মিটার সড়ক। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৭ বছর ধরে এ সড়কদু'টি কোন প্রকার সংস্কার না করায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিল যাত্রী ও পথচারীরা।
তবে গত ২ বছর পূর্বে জনগণের দাবীর মুখে স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিকের প্রচেষ্টায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রদেয় বরাদ্দ ৮৫ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার,প্রশস্তকরণ কাজ পায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির জাঙ্গীর ভিংরাবো, মুশুরী, ইছাখালী খালের উপর সেতু এবং পূর্বাচলে প্রবেশমূখে থাকা হাবিবনগর ব্রাহ্মণখালী ডিঙ্গামারা খালের উপর ব্রিজ অপর অংশে দক্ষিণবাগ ব্রিজ গুলো পূর্বের সড়কের পরিমাপে একেকটি ১২ ফুট, কোনটা ১৪ রয়েছে।
তবে ইছাখালী খালের উপর থাকা সেতুটি ২০ ফুট থাকলেও বর্তমান সড়কের প্রস্থের তুলনায় অর্ধেক। এতে যানজট আর ভোগান্তি থাকার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এনডিই প্রজেক্ট ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, আমরা কাজের আদেশপত্র পেয়েই কাজ শুরু করেছি। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও নানা কারনে সময় ব্যয় হয়েছে। তবে কাজ চলমান। আশা করি আগামী জুন মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করবো। তবে কালভার্টের বিষয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি উপ সহকারী প্রকৌশলী শফিউল আলম শ্যামল বলেন, মেয়াদ থাকতে কাজ আদায় না করতে পারলে অনেক সময় বরাদ্দ ফেরত যায়। এতে সংকট তৈরী হতে পারে। পূর্বাচলের প্রবেশের মূলস্থানে তথা হাবিব নগরে খালের উপর সেতু করতে আশপাশের সড়ক সচল রাখার জায়গা পাচ্ছি না। এসব বিষয়ে উর্ধতন মহলে জানিয়ে ব্যবস্থা নেব।
প্রকৌশল কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সড়কটির প্রশস্তের পরিমাপ ৩০ ফুট। এর যেখানে মাটির অংশে ভেঙ্গে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে সেখানে আরসিসি বাকি অংশে কার্পেটিং আর দুপাশে ৩ ফুট করে ৬ ফুট পথচারীদের চলাচলে ফুটপাত কাজের কথা।
সড়কটির ইছাখালী গাজী সেতুর পর থেকে উভয়পাশে খোলা রয়েছে কেবল কোথাও ২০ ফুট, কোথাও ২৪ ফুট। একই চিত্র রূপগঞ্জের মুশুরী এলাকার ফজুর বাড়ি, জাঙ্গীর বাজার, হারিন্দা গাবতলী, ভক্তবাড়ি বাজার এবং হাবিবনগর এলাকার।
আবার টান মুশুরী বাজার, দক্ষিণবাগ বাজার, বাগবের বাজার এলাকাও জনবসতি ও বাজার অঞ্চলের কোথাও ৩০ ফুট সড়ক খালি নেই। এসব সড়কের নুন্যতম ৩ ফুট করে ৬ ফুট সড়ক স্থানীয় সড়কের পাশের জমি মালিক ও বাসিন্দাদের কব্জায় ছিলো।
রূপগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী মোরশেদ মাহমুদ বলেন, মাপঝোঁক করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের জন্য প্রথমে লাল কালি দেই। পরে উচ্ছেদের সময় ও চুড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু অবৈধ দখলদারদের থেকে সড়কের জমি উদ্ধার করেছি। তিনি আরও বলেন, ভক্তবাড়ি বাজার এলাকার জমি মাপার পর হালডে দোকানপাট দেখতে পাই।
সেখানকার অবৈধ দখলদারদের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি সিমন সরকার মহোদয়ের মাধ্যমে উচ্ছেদ করি। আর কালভার্টের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করবো। এ সড়কে ৩ টি ৩০ ফুট করে কালভার্ট করা হবে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


