Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

হকারদের নিয়ে শামীম ওসমানের এতো দরদ কেন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৪, ১২:৪৮ এএম

হকারদের নিয়ে শামীম ওসমানের এতো দরদ কেন
Swapno

 

পুনর্বাসনের পরও নারায়ণগঞ্জ শহরে হকারদের অরাজকতা আর নৈরাজ্য প্রত্যক্ষ করেছে নগরবাসী। কখনো সড়কের ফুটপাত দখলের দাবিতে মেয়র আইভীর উপর হামলা, আবার কখনো সড়কের টায়ার জ্বেলে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছ তারা।

 

ফুটপাতে বসা নিয়ে শহরের সাধু পৌলের গির্জার সামনের মানুষ খুনের মতোও ঘটনা ঘটেছে। এই তো শনিবার রাতেও পুলিশের গাড়ি আটকে অবরুদ্ধ করে রাখে হকাররা। সব হকার যেমন খারাপ নন, গুটি কয়েক হকার নামে দস্যুও কারণেই হকারদের এই দৌরাত্ম্যের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

 

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ফুটপাতে হকার সমস্যা নিরসনে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, ডিসি, এসপি জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয় শহরের ফুটপাতগুলোতে হকার বসবে না।

 

এই সিদ্ধান্তের পরেও হকাররা শামীম ওসমানের দ্বারস্ত হচ্ছেন বারবার। তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। আর মেয়র আইভীর উপর হামলার ঘটনায় হকারদের একটি অংশ শামীম ওসমানের নির্দেশেই দস্যুতা থেকে নিবারিত হয়েছিল।

 

এখন প্রশ্ন উঠেছে, বারবার শামীম ওসমানের কাছেই কেন যাচ্ছেন শহরের হকাররা? সেখানে আসলে কি স্বার্থ রয়েছে? যদিও প্রেস ক্লাবের বৈঠকে শামীম ওসমান বলেছেন, শহরের কোথাও হকার না বসলে তিনি হকারদের পক্ষে দাঁড়াবেন না। কোথাও হকার বসবে না।

 

কিন্তু তারপরেও হকাররা কেনই বা শামীম ওসমানের কাছে যাচ্ছেন। গতকাল শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে যাওয়ার সময় তার গাড়ি দেখে তার গাড়ি আটকে কথা বলেন ফুটপাতে বসার দাবি নিয়ে, শামীম ওসমান উপস্থিত হকারদের আগামী ৪/৫দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান।

 

হকাররা তার পিছু পিছু নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের গেট পর্যন্ত যান। যদিও হকাররা পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ভেতরে শামীম ওসমানের সাথে বসেছেন কি না সেটি স্পষ্ট জানা যায়নি।

 

তবে এসব ঘটনায় আবারো একটি প্রশ্ন উঠেছে কেন হকাররা নারায়ণগঞ্জ-৪ (সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা) আসনের এমপি শামীম ওসমানের দ্বারস্ত হচ্ছেন। শহর-বন্দর এলাকার এমপি হিসেবে রয়েছে দানবীর হিসেবে খ্যাত সেলিম ওসমান। শামীম ওসমান তো নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের কেউ নন।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকার সিদ্ধিরগঞ্জ অংশটি তার নির্বাচনী এলাকায়। পদবীর হিসেবে বললে তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে রয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির অন্য কোন পদে তিনি নেই। তাহলে শহরের হকার সমস্যা নিরসনে শহরের হকাররা শামীম ওসমানের দ্বারস্ত কেন হচ্ছেন?

 

যদিও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান কয়েক দফা হকারদের সাথে বসেছেন। তিনি বেশ কিছু সমাধানও দিয়েছেন। তিনি হকারদের স্পষ্ট স্থানীয় ভোটার তালিকার ভিত্তিতে হকার তালিকা করতে বলেছেন। সেটি হকাররা করতে পারেননি।

 

তারপরও তিনি বলেছন, হকারদের একটি অংশকে সিরাজউদৌলা সড়কে (৪০০/৫০০) বসতে দেবেন। এছাড়া যারা নারায়ণগঞ্জের ভোটার নন সেসব হকারকে এক কালীন কিছু টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে যার যার এলাকায় পাঠিয়ে দেবেন। এছাড়া আর যেসব হকার চাকরি করতে ইচ্ছুক তাদের ট্রেনিং দিয়ে তিনি চাকরীর ব্যবস্থাও করবেন।

 

তাহলে হকারদের এতো আপত্তি কোথায়? আর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানও কেন হকারদের নিয়ে দরদ দেখান।

 

বোদ্ধা মহল বলছেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকার মানুষ ভাল নেই। এখনো সামান্য বৃষ্টিতে গোটা ফতুল্লা তলিয়ে যায়। পুরোপুরি নগরায়ন সেই এলাকায় হয়নি। ড্রেনেজ, শিক্ষাব্যবস্থা, রাস্তাঘাট সবকিছুতেই সেকেলে পরিস্থিতি।

 

পুরো দেশ এগিয়ে গেলেও ফতুল্লা এগোয়নি। সিদ্ধিরগঞ্জ যতখানি উন্নয়ন হয়েছে তা সিটি কর্পোরেশনের কল্যাণে। ফতুল্লাকে সিটির আওতায় ঢুকাতে প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে তাকেই ধরা হয়। ফতুল্লায় ডাইংয়ের পানিতে মানুষের নানা রোগব্যধি নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। শামীম ওসমান নিজেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ভোটার নন। তাহলে কেন তার কাছে শহরের হকাররা পরিত্রাণ চাইবে।

 

বোদ্ধা মহল বলছে, শামীম ওসমানের এতো দরদ থাকলে তিনি ফতুল্লার পঞ্চবটি, পাগলা, ফতুল্লাবাজার, সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় হকার বসান। কিন্তু তার অধিভুক্ত নয়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এলাকার হকারদের জন্য তার এতো মায়াকান্না কেন?

 

শামীম ওসমানের এলাকায় বেশ কয়েকটি মাঠ, স্টেডিয়াম রয়েছে সেখানে হকার বসালেই তো পারেন। তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান যেখানে নিম্নমানের সেখানে শহরবাসীর জন্য হকারদের গলার কাঁটা হিসেবে কেন পরিয়ে দিতে চাইছেন তিনি।

 

শামীম ওসমান নিজেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের অধীন রাইফেল ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে তার নেতাকর্মীদের সাথে বসেন। কিন্তু এতোবার সাংসদ হয়েও তিনি কেন তার নির্বাচনী এলাকায় কোন কার্যালয়, অফিস কিংবা ক্লাব তৈরি করতে পারেননি।

 

তার নির্বাচনী এলাকার কর্মী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাই কেন শহরের বাসস্ট্যান্ড, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হকারদের সমর্থনের ব্যাপারে এগিয়ে আসেন। এগুলো তো সেলিম ওসমানের কর্মী সমর্থক কিংবা সিটি মেয়র আইভীর কর্মী সমর্থকদের কথা।

 

তাহলে শহর এলাকায় শামীম ওসমানের এই অনধিকার চর্চার কারণেই কি শহরের বিশৃঙ্খলাকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা যাচ্ছে না। শামীম ওসমান নিজের সিংহ পুরুষ হিসেবে দাবি করেন। তিনি নাকি চিৎকার করলে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।

 

তাহেল শহরের হকার সমস্যা নিরসনে শামীম ওসমানের মামা-ভাগিনা খেলা কেন? যে কাজ সেলিম ওসমানের, যে কাজ সিটি মেয়রের সেখানে শামীম ওসমান কেন অনধিকার চর্চা করেন। আর অনধিকার চর্চাই যদি করেন তাহলে গুলিস্তানের হকার, চট্টগ্রামের হকার নিয়ে তো তাকে মাথা ঘামাতে দেখা যায় না, তাহলে নারায়ণগঞ্জ শহরের হকারদের নিয়ে শামীম ওসমানের মাথা ব্যথার কারণ আর নেপথ্যের উদ্দেশ্যই বা কি?

 

জানা গেছে, শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকার অনেক নেতাই নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করেন। আর তাতে তুরুপের তাস হিসেবে হকারদের মধ্য থেকে বেশ কিছু চিহ্নিত হকার পরিচয়দানকারী দস্যুকে কাজে লাগান।

 

তাহলে কি সেই চিহ্নিত দস্যু হকার পরিচয়কারীদের বাঁচাতেই শহরের হকারদের প্রতি শামীম ওসমানের এতো মায়াকান্না প্রশ্ন রাজনৈতিক বোদ্ধাসহ বিশিষ্টজনদের। এস. এ /জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন