Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

যেখান থেকে কারাগারে মাদক ছোঁড়া যায়

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৪, ০১:২২ এএম

যেখান থেকে কারাগারে মাদক ছোঁড়া যায়
Swapno

চাইলেই এখান থেকে মাদক ছুঁড়ে দেয়া সম্ভব নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে। নিয়মের বাইরে গিয়ে হরহামেশা যে কেউই কথা বলতে পারেন কারাগারের বন্দীদের সাথে। বিষয়টি একেবারে সহজ হলেও পুরোটাই নিয়মবহির্ভূত।

 

তবে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্বজনদের একনজর দেখার পাশাপাশি মনখুলে কথা বলার জন্যে জেলখানায় এর চেয়ে ভালো পরিবেশ আর নেই বললেই চলে।

 

ফলে, কারা কর্তৃপক্ষের দেয়া নিয়মশৃঙ্খলা ভেদ করে কারাগারের বন্দীদের সাথে কথা বলতে স্বজনরা এখন বেছে নিয়েছেন ভিন্ন উপায়। বলা হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের পার্শ্ববর্তী নিমার্ণাধীন কয়েকটি ভবনের কথা।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কারাগারের উঁচু দেয়াল থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরত্বে থাকা একাধিক ভবনে দিনভর প্রবেশ করতে থাকেন বন্দীদের স্বজনরা। সেখান থেকে কিছুটা উচ্চস্বরে দু’প্রান্ত থেকে নির্দ্বিধায় কথা বলতে দেখা যায় তাদের।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা বন্দীদের সাথে যে কথা বলার প্রক্রিয়া সেখানে টিকিট কেটে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে চিৎকার করে কথা বলতে হয় দু’প্রান্ত থেকে।

 

অন্যথায়, কারও পক্ষেই পরিষ্কারভাবে কথা শোনা ও বলা সম্ভব নয়। এছাড়াও নিত্যদিনই থাকে প্রচণ্ড রকমের ভীড়। ফলে, কারাগারে বন্দীদের সাথে দেখা করতে আসা স্বজনদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মানুষ এখন বেছে নিয়েছেন ভিন্ন উপায়।

 

জেলার আড়াইহাজার থেকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে থাকা এক বন্দীর সাথে কথা বলতে আসেন আফরোজা নামের এক মধ্যবয়সী নারী। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার স্বামী দু’মাসেরও বেশি সময়ধরে কারাগারে বন্দী অবস্থায় আছেন।

 

তিনি বলেন, আমি অনেক দূর থেকে আসি। আর এখানে আসলে কারাগারে প্রবেশ না করে পেছনের দিকে চলে যাই। এটা তো নিয়মবহির্ভূত, কেনো যান? এমন প্রশ্নের জবাবে আফরোজা বলেন, সেখানকার ভবনগুলো থেকে স্পষ্ট আমার স্বামীকে দেখতে পাই আর সুন্দরভাবে কথাও বলতে পারি।

 

সোনারগাঁও থেকে আসা সাদ্দাম হোসেন জানান, তার আপন বড় ভাই রাজনৈতিক মামলায় জেলা কারাগারে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, কারাগারের ভিতর যে কথা বলার পরিবেশ সেখানে আমার খুবই অসহ্য লাগে। অনেক মানুষ এক জায়গায় গাদাগাদি করে চিৎকার চেঁচামেচি করে কথা বলতে হয়। আমি সেভাবে কথা বলতে পারি না। ভেতর থেকে আমার ভাই কি বলে আমি ঠিকমতো শুনতেও পাই না। আর এ কারণেই আমি নিয়ম নীতির বাইরে গিয়ে জেলা কারাগারের পেছনের ভবনগুলোতে উঠে আমার ভাইয়ের সাথে মন খুলে কথা বলি।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার ও জেল সুপারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তা সম্ভব হয়নি।

 

যদিও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, জেলা কারাগারে থাকা বন্দীদের সাথে পেছনের ভবন থেকে আত্মীয়-স্বজনদের কথা বলার বিষয়টি স্পর্শকাতর হলেও একেবারেই নিয়মবহির্ভূত। সেক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষের উচিৎ বিষয়টি নজরে আসা।

 

কেননা, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনের অংশটুকু বাদে তিন দিক থেকেই উঁচু উঁচু ভবনগুলো থেকে মানুষ খুব সহজেই তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। তার চেয়ে বড় কথা চাইলেই, এখান থেকে মাদক ছুঁড়ে দেয়া সম্ভব। এস. এ/জেসি 

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন