জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার প্রত্যয়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৪, ০১:৫৬ এএম
# ভূমি দস্যুদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে : জেলা প্রশাসক
# রাস্তাঘাটে অকারনে পাঁচজনের বেশি জরো হলে গ্রেফতার : পুলিশ সুপার
# কিশোর গ্যাং এর শেল্টারদাতাদের গ্রেফতার করা হবে : সিও, র্যাব-১১
গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটপাত হকার মুক্ত রাখা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। সভায় এই জেলার তিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা একই সুরে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজট মুক্ত রাখার কথা বলেন।
ফুটপাতগুলো হকার মুক্ত রাখার অঙ্গীকার পূনর্ব্যক্ত করেন। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল এবং র্যাব-১১ এর সিও লে. কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা উপস্থিত ছিলেন। তিনজনই ফুটপাত গুলো জনগনের চলাচলের জন্য উম্মুক্ত রাখা হবে বলে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন।
গতকাল এই মাসিক সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন এ বিষয়ে আলোকপাত করেন। তারা হকারদের সাম্প্রতিক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং জোর করে ফুটপাত দখল করার যে ঘোষণা তারা দিয়েছে এ বিষয়ে প্রশাসন কি করবে তা জানতে চান।
জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজটমুক্ত রাখার জন্য যা কিছু করণীয় তার সবই করা হবে। হকারদের ফুটপাত দখল করতে দেয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জের মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করতে পারে তার জন্য প্রশাসন আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
সভায় একজন হকার নেতার ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, কে কি বললো না বললো এসব দেখে পুলিশ কোনো কিছু করবে না। পুলিশ তার নিজস্ব গতিতে আইনের প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। ফুটপাতে হকার বসতে দেয়া হবে না।
একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন র্যাব-১১ এর সিও তানভীর মাহমুদ পাশা। তিনিও নারায়ণগঞ্জকে যানজট মুক্ত রাখার জন্য যা করনীয় তার সবই করবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় মূলত তিনটি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন আলোচনা হয়। ১) জেলা ব্যাপী ভূমি দস্যুদের দমনে করনীয় ২) কিশোর গ্যাং দমনে করনীয় এবং ৩) নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতগুলো হকার মুক্ত রাখা নিয়ে করণীয়।
ভূমি দস্যুদের দমন করা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ভুক্তভোগী কেউ যদি জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনে অভিযোগ করে তাহলে তিনি ইউএনওদের মাধ্যমে এবং পুলিশ সুপারকে সঙ্গে নিয়ে থানাগুলির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া জেলার সব কয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করে দিক নির্দেশনা দেবেন বলে জানান। যে কোনো মূল্যে ভূমি দস্যুদের দমন করা হবে।
কিশোর গ্যাং দমনে গতকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। আর সেটা হলো পাঁচ জনের বেশি কোথাও কিশোর যুবকেরা অকারণে জড়ো হলে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে।
পুলিশ সুপার রাসেল গতকাল এই ঘোষণা দেন এবং জেলা প্রশাসক ও র্যাবের সিও তার এই ঘোষণাকে সমর্থন জানান। আর র্যাব-১১ এর সিও লে.কর্নেল তানভির মাহমুদ পাশা কিশোর গ্যাং এর শেল্টার দাতাদের নামের তালিকা চান। জেলা প্রশাসক তাকে এই তালিকা সরবরাহ করার কথা জানান।
মূলত এভাবেই গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিভাবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে রাখা যায় এ ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় সোনারগাঁয়ের এমপি কায়সার হাসনাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যানগণ, বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষদের প্রতিনিধিগন এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এস.এ/জেসি


