Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

হাফিজের আশকারায় বেপরোয়া হকাররা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৪, ০৪:৩৮ পিএম

হাফিজের আশকারায় বেপরোয়া হকাররা
Swapno


# ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি একই রকমভাবে হকারদের উস্কানিদাতা ছিলেন তিনি

 

নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজট মুক্ত করার জন্য প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী মিলে ৩ ফেব্রুয়ারি এক গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নও হচ্ছে। শহরের ফুটপাতে হকাররা বসতে পারবে না বলে সকলে মিলে একমত হন। এছাড়া ১১ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা আবারও হকারমুক্ত রাখার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসন।

 

জেলা প্রশাসনিক তিন কর্মকর্তা শহরের ফুটপাত মুক্ত রাখার জন্য অঙ্গীকার করে ঐকমত পোষণ করেন।তবে জনপ্রতিনিধি প্রশাসনের এসব উদ্যোগকে ভেস্তে দিতে বাম নেতা (সিপিবি)  নারায়ণগঞ্জ সভাপতি হাফিজুল ইসলাম উঠে পড়ে লেগেছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা যখন শহরকে শান্তিপূর্ণ করতে এসব উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন তখন হাফিজুল ইসলাম কোন স্বার্থে হকারদের উস্কানি দিয়ে শহরে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন।

 

জানা গেছে, তথাকথিত এই বাম নেতার বাড়ি আড়াইহাজার। সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদীয় হুইপ নজরুল ইসলাম বাবুর আত্মীয় পরিচয় দেন এই হাফিজুল ইসলাম। ঝোপ বুঝে কোপ মারার ক্ষেত্রে সিদ্ধহস্ত এই তথাকথিত বাম নেতা। জাতীয় নির্বাচন এলেই নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে সিপিবির প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নামেন। কিন্তু শহরকে অশান্ত করতে চাষাঢ়াসহ শহর এলাকায় হকারদের উস্কানি দেন।

 

২০১৮ সালে ১৬ জানুয়ারি হকার ইস্যুতে মেয়র আইভীর উপর হামলার ঘটনার আগে ঘাঁটি গেড়েছিলেন নগর ভবনে। মেয়রের পিছুপিছু তথাকথিত এই হাফিজুল ইসলাম আর সাথে আরেক বাম নেতাকে নিয়ে নগরভবন থেকে তাদের ছায়া সরানোও ছিল দুষ্কর। কিন্তু মেয়র আইভী যখন শহরে হকারমুক্ত করার ব্যাপারে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন, তখনই নগরভবনের হাফিজের ছায়া প্রেতাত্মা হয়ে চাষাঢ়ায় বেরিয়ে আসে।

 

হকারদের উস্কানি দিতে ২০১৮ সালে সবার আগে ১৫ জানুয়ারি তিনি উগ্র হকার নেতা আসাদ, রহিমমুন্সীর ঘাড়ে উঠে চাষাঢ়ায় ট্রাকের উপরে উঠে হকারদের উস্কানি দেন হাফিজুল। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হকার ইস্যুতে মেয়র আইভীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ অর্ধশত মানুষ আহত হন। এরপরেই আবার গা ঢাকা দেন হাফিজ।

 

সূত্র জানায়, তথাকথিত বামনেতাদের হাতেপায়ে ধরে সে যাত্রায় হকার ইস্যুতে মেয়রের উপর হামলার ঘটনায় মামলা থেকে নিষ্কৃতি পান হাফিজুল। এরপর যখনই প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা হকার ইস্যুতে শহরে উদ্যোগ নিয়েছেন সেসব উদ্যোগকে ভেস্তে দিতে হাফিজুল ইসলাম বিশেষ ব্যক্তি সুবিধা নিয়ে হকারদের উস্কানি দিতে মাঠে নেমেছেন।

 

সূত্র জানিয়েছে, ঝুট ব্যবসার সাথেও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে হাফিজুল ইসলামের। প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের বিশেষভাবে নজর দেয়া দরকার এই তথাকথিত বাম নেতা হাফিজুল ইসলামের ব্যাপারে। বাম রাজনীতির আড়ালে তার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কারা কাজ করেন, আর হাফিজই বা কেন কোন স্বার্থে নগরবাসীর বৃহত্তর স্বার্থ উপেক্ষা করে হকারদের উগ্রঅংশকে আশকারা দেন তা তলিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন করবেন আড়াইহাজারে আর শহরকে বিশৃঙ্খলা করতে শহরে হকারদের উস্কানি দিবেন এটা ঘৃণ্য কাজ।

 

তারা বলছেন, হাফিজুলের হকার প্রীতি এতো বেশি থাকলে বাসে করে হকারদের আড়াইহাজারে পুনর্বাসন করুক, কিন্তু হকারদের শহরে উস্কানি দিলে যাতে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এই তথাকথিত সুবিধাবাদী বাম নেতার বিষয়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকদের বিশেষ নজর দেয়া এখন সময়ের দাবি বলছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, হাফিজের কূটকৌশলে শহর অশান্ত হয়ে আরেকটি ১৬ জানুয়ারি ঘটার আগেই হাফিজুল ইসলামের স্বার্থ কি আর কি কি সুবিধার বিনিময়ে তিনি এমন করেন এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা উচিৎ প্রশাসনের। 

 

এদিকে প্রশাসনের কর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হকার নেতা রহিম মুন্সি হকারদের বসার জন্য ঘোষনা দেন দুপুরে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সভায়। তাদের এই সভায় নেতৃত্ব দেন সিপিবির নেতা হাফিজুল ইসলামা। অপরদিকে হকারদেরকে ভোটার আইডিকার্ড সহ তাদের তালিকে দিতে বলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। কিন্তু হকার নেতারা ৫ হাজার হকার দাবী করলে তারা ভোটার আইডিকার্ড সহ ৫ হাজার হকারের তালিকা দিতে ব্যর্থ হন। কেননা এমপি সেলিম ওসমান হকারদের শায়েস্তা খান সড়কে বসার জন্য ব্যবস্থা করতে চেয়েছেন।

 

কিন্তু হকাররা বঙ্গবন্ধু সড়কে বসার জন্য অনড়। ব্যবসায়ী মহল বলছে হকাররা পুনর্বাসনের দাবী করলেও আসলে তারা বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত দখল করে রাখতে চায়। একই সাথে রাস্তার ১০ ফিট দখলও করে রাখে এই হকাররা। তাই এই হকাররা গত দেড় মাস যাবৎ পুলিশ প্রশাসনের সাথে চোর পুলিশ খেলছে। একদিকে পুলিশ হকারদের উঠিয়ে দেয় আরেকদিকে তারা চলে গেলে আবার বসে। পুলিশ আসলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো দিকে না তাকিয়ে দৌঁড় দেয়। এই ভাবে চলে হকারদের চোর পুলিশ খেলা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিপিবির নেতা হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে গতকাল হকার নেতারা আবারও জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হকের সাথে দেখা করেন। বরাবরের মত জেলা প্রশাসকও হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কে না বসে সেলিম ওসমান যেখানে বসার ব্যবস্থা করেছে সেখানে বসতে বলেন। কিন্তু ডিসির এই কথা মানতে নারাজ হকাররা। এছাড়া সড়কের ফুটপাতে হকার বসতে পারবে না সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকে হকাররা কখনো নাসিক মেয়রকে স্বারকলিপি প্রদান করে, কখনো এমপি সেলিম ওসমানকে, আবার কখনো জেলা প্রশাসককে স্বারকলিপি দিচ্ছে।

 

কিন্তু তারা প্রত্যেকেই হকারদের কাছে তালিকা চাইলেও এখনো পর্যন্ত হকাররা সঠিক তালিকা দিতে পারে নাই। তবে এই হকারদের উচ্ছেদ করতে যাওয়ায় তারা পুলিশের গাড়ি পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখে। তা ছাড়া তারা কাউকে তোয়াক্কা না করে একের পর এক প্রশাসনের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরে হুশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন। যতই দিন যাচ্ছে হকাররা বসতে না পেরে ততোই বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে। তাই নগরবাসীর মাঝে প্রশ্ন উঠেছে কার আস্ফালনে হকাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের বেপরোয়ার লাগাম টানতে আহ্বান জানান নগরবাসী।

 

জানা গেছে, ফুটপাতে হকার বসানোর নেপথ্যে রয়েছে বিশাল অংকের চাঁদাবাজি। নগরীর ফুটপাতকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের চাঁদাবাজি হয় প্রতিদিনই। এই তিন স্তরে প্রত্যেককে ৫০ টাকা হারে ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হয় প্রতিটি হকারকে। চাষাড়া থেকে পুরো নগরীতে প্রায় দুই হাজারের বেশি হকার রয়েছে।

 

মূলত মোটা অঙ্কের এই চাঁদার জন্যই ফুটপাত দখল করতে উস্কানী দিচ্ছে একটি মহল। এই চাঁদার অংশ হকার নেতা, রাজনৈতিক নেতা, অসাধু পুলিশ সদস্য ও কতিপয় অসাধু ব্যক্তির পকেটে যাচ্ছে। তাই ফুটপাতে হকার বসাতে প্রভাবশালী মহলেরও ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর। আর তাদের ইন্ধনেই হকাররা এতো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তার মাঝে হকারদের নেতৃত্বে দেয়া বাম নেতার নাম বলছে অনেকে।

 

রোববার আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজট মুক্ত রাখার জন্য যা করণীয় তার সকল কিছু করা হবে। হকারদের ফুটপাত দখল করতে দেয়া হবে না। এই সভায় জেলা পুলিশ সুপার বলেন, কে কি বললো না বললো এসব দেখে পুলিশ কোন কিছু করবে না। ফুটপাতে হকার বসতে দেয়া হবে না।

 

গতকাল চাষাঢ়া বিক্ষোভ সভায় সিপিবি নেতা হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি। তিনি হকারদের ব্যবস্থা করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তিনি বলেছেন, এমপি সেলিম ওসমান যেখানে আপতত বসার ব্যবস্থা করেছে সেখানে বসতে। কিন্তু সেখানে সকল হকারদের ব্যবস্থা হবে না।কেননা সেখানে ২২শ’ হকারের ব্যবস্থা হবে। তাই আমরা বলেছি কেউ খাবেতো কেউ খাবে না তা হবে না তা হবে না। সকলকে ব্যবস্থা করতে হবে।  

 

রহিম মুন্সি বলেন, আমরা রুজি রোজগারের জন্য পেটের ক্ষুধায় রাস্তায় নেমেছি। আমাদেরকে বসার জন্য দেয়া হোক। আমাদেরকে পুনর্বাসন করা না পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কে বসবো।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন