দূর-দূরান্তের মানুষ বেছে নিয়েছেন নিয়মবহির্ভূত উপায়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৪, ০৫:০২ পিএম
# চাইলে গুলিও করা যায় তবে, আমরা সজাগ আছি : জেল সুপার
নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের বাম-ডান এবং পেছনের দিকে বেশ কিছু নির্মাণাধীন ভবনে বেড়েই চলেছে দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষের আনাগোনা। বিশেষ করে- রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও থেকে জেলখানায় থাকা বন্দীদের সাথে যারা দেখা করতে আসেন তাদের সিংহভাগ বেছে নিয়েছেন নিয়মবহির্ভূত উপায়।
জেলা কারাগারে টিকিট কেটে আটক বন্দীদের সাথে দেখা না করে স্বজনরা জেলখানার পেছনের ভবনগুলো থেকে দেখা ও কথা বলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও কারা কর্তৃপক্ষ বলছেন, পূর্বের তুলনায় এখন আর সেভাবে মানুষ ভবনগুলোতে উঠে না। তাছাড়া এ বিষয়গুলোতে তারা সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা বন্দীদের সাথে যে কথা বলার প্রক্রিয়া সেখানে টিকিট কেটে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে চিৎকার করে কথা বলতে হয় দু’প্রান্ত থেকে। অন্যথায়, কারও পক্ষেই পরিষ্কারভাবে কথা শোনা ও বলা সম্ভব নয়। এছাড়াও নিত্যদিনই থাকে প্রচন্ড রকমের ভীড়। ফলে, কারাগারে বন্দীদের সাথে দেখা করতে আসা স্বজনদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মানুষ এখন বেছে নিয়েছেন ভিন্ন উপায়।
অপরদিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের বাম-ডান এবং পেছনের দিকের বেশ কিছু নির্মাণাধীন ভবনে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের আনাগোনা। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রবেশ না করে তারা সরাসরি চলে আসেন নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে।
এলাকাবাসী বলছেন, পূর্বের ন্যায় এখন মানুষের আনাগোনা অনেকটাই কমে গেছে। আগে আরও বেশি আসতো মানুষ। ভীড় হয়ে যেতো কারাগারের পেছনের এইসব অংশে। তবে, এখন অনেকাংশে মানুষের আনাগোনা কমলেও একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। প্রায় প্রতিদিনই মানুষ আসে এবং নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে উঠে বন্দীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলা সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, প্রথমদিকে অনেকে নির্মাণাধীন ভবন থেকে দেখা করতে যেতো। পরবর্তীতে বিষয়টি আমাদের নজরে আসলে আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেই। পূর্বের ন্যায় এখন আর তেমনভাবে কেউ সেখানে যায় না।
নির্মাণাধীন ভবনগুলো থেকে চাইলেই তো মাদক ছুড়ে দেয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের জোড়ালে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ঠিক যে ওই ভবনগুলো থেকে চাইলে মাদক ছুড়ে দেয়া সম্ভব। শুধু মাদক-ই নয় চাইলে সেখান থেকে গুলি করাও সম্ভব। এ সকল বিষয় আমাদের মাথায় আছে। কাজেই ভয়ের কোন কারণ নেই। আমরা এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সজাগ আছি। কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা এখানে নেই বললেই চলে। এস.এ/জেসি


