# অটো থেকে টোকেন বাণিজ্য বন্ধের দাবি
টাকায় কিনা হয়, আবারও প্রমান করলেন এমপি সেলিম ওসমান। শহরকে যানজটমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসনকে ৪৫ লাখ টাকা দিলেন। এই টাকা পেয়ে পুলিশের ট্রাফিক পুরো শহরকে ফাকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে এটা শুধু রোজার মাসই এরকম চিত্র থাকে। পরে আবার বিশৃঙ্খলা হয়ে পরে এই শহর।
এদিকে এই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজট মুক্ত রাখার জন্য জনপ্রতিনিধি প্রশাসন গণমাধ্যম কর্মী মিলে গোলটেবিল বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে শহরকে হকার মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে মহরে কোন প্রকার অবৈধ স্ট্যান্ড, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, মিশুক শহরে প্রবেশ করতে পারবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পর হকার মুক্ত রাখতে পারলেও অটোতে শিথিল ছিল পুলিশ প্রশাসন। কেননা অভিযোগ রয়েছে তাদের আশকারায় শহরে অবাদে অটো মিশুক প্রবেশ করেছে। এছাড়া অটো ইজিবাইক, মিশুক চালকরা বিশেষ পেশার কিছু ব্যক্তি এবং কথিপয় ট্রাফিক পুলিশকে টাকা দিয়ে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু হঠাৎ করেই গতকাল প্রথ রোজায় অটো মিশুক কোনটিই প্রবেশ করতে দেয় নাই। তাছাড়া নগরবাসির মাঝে বলাবলি হচ্ছে আজকে শহর এত ফাকা কে। পরে খোজঁ নিয়ে জানাযায় শহরকে যানজট মুক্ত রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ৪৫ লাক টাকার চেক দেন এমপি সেলিম ওসমান। আর এই টাকার তাপে পুরো শহর ফাকা হয়ে যায়।
এতে করে শহরবাসিও নির্বিগ্মে চলাচল করে। তাই নগরবাসি সারা বছর এরকম সুন্দর পরিবেশ চেয়ে প্রশাসনের দাবী জানান। সেই সাথে অটো মিশুক থেকে যারা টোকেন বানিজ্য করে তা বন্ধ করার দাবী তুলেন।
অপরদিকে বরাবরের মত সাংসদ সেলিম ওসমানের টাকা হাতে পেয়েই মহা খুশিতে বগল বাজাতে বাজাতে নারায়ণগঞ্জে বিগত বছরের মতো এ বছরও রমজানে শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে শুরু করেছে জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে রমজানে এমপি সেলিম ওসমান পুলিশের হাতে টাকা তুলে দিলে মুহুর্তেই পাল্টে যায় চিত্র।
স্থায়ী হয় মাত্র ১ মাস। আবার যেই লাউ সেই কদু। সারাবছর ভোগান্তিতে থাকবে শহরের বাসিন্দা। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) প্রথম রমজানের দিন সকাল থেকে শহরের চাষাঢ়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, ২ নম্বর রেলগেট, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক সহ ব্যস্ততম সড়কগুলো ঘুরে ফাঁকা দেখা গেছে। অন্যান্য দিন এসব সড়কে যানজট ও যানবাহনগুলোর তীব্র চাপ দেখা গেলেও আজ তা নেই।
সকাল থেকে শহরের প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে বিশেষ নজরদারি বসানো হয়েছে ফলে সকাল থেকে অবৈধ যানবাহন, অটোরিকশা শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া যে সকল অটো মিশুক প্রবেশ করতে চেয়েছে তাদের আটকে ডাম্পিংয়ে দেয়া হয়। ট্রাফিক বিভাগ অনেকাট কঠোরতা পালন করেন।
তাছাড়া বিপরীতে ফুটপাতে হকারমুক্ত থাকায় শহরের আগত চলাচল করা মানুষও স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। সেই সাথে তারা এরক শহরময় রাখার দাবী জানান নগরবাসি। সব মিলিয়ে সড়ক ও ফাঁকা ফুটপাতে সকাল থেকে এক ভিন্ন নারায়ণগঞ্জ দেখছে নগরবাসী। এতে করে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে যেতে যানজটে পড়তে হয়নি কাউকে।
সচেতন মহল মনে করেন টাকা দিলেই নারায়ণগঞ্জ শহর সুন্দর থাকবে আর না দিলে আগের মত হয়ে যাবে এটাও ঠিক না। সব সময়ের জন্য প্রশাসনকে সুন্দরময় শহর গড়ে তুলতে হবে। তাছাড়া তারা যদি এখন ঠিখ রাখতে পারেন তাহলে রমজানের পরেও পারবেন। কিন্তুয় তখন দায়িত্ব পালনে তারা যে ব্যর্থ সেই পরিচয় দেয়। এন. হুসেইন রনী /জেসি


