Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সবুজ-শহিদ বাহিনীর তাণ্ডব বেড়েই চলেছে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৪, ০৭:৫৭ পিএম

সবুজ-শহিদ বাহিনীর তাণ্ডব বেড়েই চলেছে
Swapno

 

# এদের শেল্টারে মাদক সাপ্লাই হচ্ছে কাশীপুরে
# শীঘ্রই ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর অনুরোধ

 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লাথানাস্থ কাশীপুর ইউনিয়নের এলাকায় হাত বাড়ালে খুব সহজেই মাদকদ্রব্য মিলছে। মাদক সরবরাহকারীরা কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে একটি চক্রের ছত্রছায়ায় এই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাবুরাইল থেকে শুরু করে তাঁতিপাড়ার বট তলা এলাকা, মুন্সিবাড়ির নতুন রোড, আমবাগান, ইব্রাহীম ব্রিজের ভিতরের বিভিন্ন গলিতে, হোসাইনী নগর এলাকাসহ বাংলাবাজার এলাকার ব্যাংকলোনীর আশেপাশের এলাকাগুলোতে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন প্রভৃতি রকমারি মাদকে ছেয়ে গেছে এখানকার অলিগলি।

 

এসব মাদকদ্রব্যের বেশির ভাগ ক্রেতাই হচ্ছে বেকার যুবক। এখানে গাঁজা বা ইয়াবা এখন অনেকটা ভাত-মাছের মতো সহজলভ্য হয়ে গেছে। ছোট থেকে শুরু করে যুবকদের মধ্যে বেশির ভাগ ছেলেই মাদক গ্রহণ করছে। এসব এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে মাদক ব্যবসা। মাদক ব্যবসা পরিচালিত করছে স্থানীয় কিশোরগ্যাং দ্বারা। ১৩-১৬ বছর বয়সী কিশোররাই প্রকাশ্যে বিক্রয় করছে মাদক। কিশোররাই প্রকাশ্যে বিক্রি করছে মাদক।

 

এদিকে তদন্ত সাপেক্ষে এই এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অপকের্মের শেল্টার দাতা হিসেবে উঠে আসে বাবুরাইল বড় বাড়ি এলাকার বদুর ছেলে সবুজ মিয়ার নাম। তিনি তাঁতিপাড়া এলাকায় বসবাস করে। নিয়মিত লক্ষ লক্ষ টাকার ফেন্সিডিল ও ইয়াবা সাপ্লাই দিয়ে থাকে এই সবুজ বাহিনী। এই সবুজ এলাকায় প্রকাশ্যে না আসলে ও তারই ভাই সুমন ও সহযোগী মামুন কাশীপুরের বিভিন্নস্থানে মাদক সকলের হাতে হাতে পৌঁছে দেয় বিক্রির জন্য যা পুরো ইউনিয়ন জুড়ে ছেয়ে যায়।

 

ফতুল্লা থানার বিভিন্ন মামলার আসামী এই মামুন তিনি নানাভাবে এলাকায় লোক সেট করে সবুজের মাদক বিক্রি করায়। তা ছাড়া ও এ সবুজ এলাকায় এইচ.কে.বি নামের একটি ওয়াফাই ব্যবসা পরিচালিত করেন। যা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করেন তারই আরেক সহযোগী জনি। তিনি ওয়াফাই ব্যবসার অন্তরালে মাদক ও সাপ্লাই দিয়ে থাকে। অন্যদিকে নূর মসজিদ এলাকায় আরেক মাদকের ত্রাস হিসেবে পরিচিতি রাজু প্রধান বাহিনী ও এই সবুজের থেকেওয়াইফাই এর ব্যান্ডউইথ ভাড়া নিয়ে এটাকে শো-অফ দেখিয়ে তাদের সাথে মাদক ব্যবসার একটি আতাঁত রেখেছে। এদের কারণে নষ্ট হচ্ছে কাশীপুরের যুবসমাজ।

 

অপর দিকে রয়েছে সবুজের আরেক মাদকসহ নানা অপকর্মের সহযোগী শহিদ ওরফে বোগা শহিদ, উনি এলাকায় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি বাবুরাইল থেকে বাংলাবাজার ব্যাংকলোনী এলাকা পর্যন্ত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এইসব এলাকার সকল মাদক ব্যবসায়ী মূলত তার লোক হিসেবেই পরিচিত। এই শহিদের বিরুদ্ধে রয়েছে থানায় একাধিক মামলা হোসাইনী নগর এলাকার জোড়া খুন থেকে শুরু করে ছিনতাই-মাদক সংক্রান্ত মামলা ও চাঁদা চেয়ে না পয়ে বাড়ি ঘরে হামলার অভিযোগ ও রয়েছে এর বিরুদ্ধে।

 

এই শহিদ কাশীপুরের বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যাবসায়ীদের লিডার হিসেবে সুপরিচিত। তিনি বর্তমানে এলাকায় ইট-বালু, সিমেন্টের ব্যবসার মাধ্যমে গাঁ ডাকা দিয়ে আছে।

 

শহিদের শেল্টারে তৈরি হয়েছে একটি কিশোরগ্যাং চক্র যারা নিয়মিত দেওভোগ হাজী উজির আলী স্কুলের সামনে ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার কোচিং সেন্টার সামনে আড্ডা জমিয়ে থাকা তারা বিভিন্ন ভাবে মেয়েদের নানা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ইভটিজিংসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে থাকে তা ছাড়া এলাকার কোন বাসায় কি হয় সেদিকে লক্ষ রেখেই মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মানুষকে হয়রানিসহ এলাকায় চুরি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা করছে সেই শহিদের সহযোগী লোকেরা। যে বিষয়ে এলাকার মুরুব্বি থেকে শুরু করে এলাকার জনপ্রতিনিধি সকলেই অবগত রয়েছেন, কিন্তু কোন অ্যাকশন হচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে।

 

এলাকা সূত্র জানা গেছে, এই শহিদ বিভিন্নভাবে এলাকায় ত্রাসের জন্ম দিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার পাশাপাশি মানুষদের ফিটিংসহ বর্তমানে এলাকাবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে ইট-বালুর মাধ্যমে, এলাকায় কেউ বাড়ি করতে হলেই নিতে হয় এই শহিদের থেকে ইট-বালু সিমেন্ট যদি কেউ নিতে রাজি না হয় তাদের উপর জোর প্রয়োগ করা হয়। প্রসঙ্গত কিছুদিন পূর্বে আমবাগান ইব্রাহীম ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে নানাভাবে সেই বাড়ির মালিকদের লোক দিয়ে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বকভাবে উচ্চ মূল্যে ইট-বালু-সিমেন্ট দিয়ে আসছে।

 

তা ছাড়াও তার লোক দ্বারাই দিচ্ছে ফ্লাটের বাকি ইলেকট্রনিক্স ও পাইপ ফিটিং এর কাজ। যাকে ঘিরে ইলেকট্রনিক্স একজনকে কাজ দিয়ে তার কাছ থেকে দুই দফায় প্রায় লাখ টাকার মতো আদায় করেছে এই শহিদ। এমনভাবে নতুন বাড়ি করলেই এলাকায় ঢুকে পুরো বাড়ির কাজ করতে বাড়িওয়ালাকে হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে সকল কাজ তিনি তার লোক দিয়েই করায়, আর তাদের থেকে ও হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। এই শহিদ বর্তমানে মাদকের পাশাপাশি এলাকায় এইসব কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

 

এদিকে বর্তমানে কাশীপুরের বিভিন্ন এলাকায় এই সবুজ ও শহিদ বাহিনীর লোকেরা মাদক বিক্রি চালিয়ে আসছেন আলাদা আলাদা মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জানা গেছে, বাবুরাইল তাঁতীপাড়া বটতলা এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন শহিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিটন, মুন্সিবাড়ী নতুন রোডে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন পলাশ নামের এক মাদক ব্যবসায়ী তা ছাড়া এই পলাশ ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক রেহান শরীফ বিন্দুর বাড়ির আশে-পাশে এই ব্যবসা পরিচালনা করলে ও নেই তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযান।

 

অপর দিকে হোসাইনী নগর এলাকা থেকে শুরু করে ইব্রাহীম ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক বিক্রি হয় এখানে মূল হোতা সেই জোড়া খুন মামলার আসামী শহিদের লোক হিসেবে পরিচিত ওয়ান পিস ফয়সালসহ আরো বহু মাদক ব্যবসায়ীগুলোর মাধ্যমে এই এলাকায় মাদক বিক্রি হয়। ৬ থেকে ৭টি গ্রুপের মাধ্যমে। বাংলাবাজার এলাকার ব্যাংককলোনী এলাকায় মাদক বিভিন্ন দোকানে ও পাওয়া যায়।

 

জানা গেছে, দুদু নামের একজনের কাছ থেকে চায়ের দোকানে পাওয়া যায় এই মাদক। অন্যদিকে মাদকের স্পট হিসেবে পরিচিত হয়েছে ব্যাংক কলোনী এলাকার একটি বালুর মাঠ এখানে নিয়মিত মাদক কিনতে দেখা যায়। টিনের নীচসহ নানা পরিকল্পিতভাবে এখানে পাওয়া যাচ্ছে মাদক। বর্তমানে এই সবুজ ও শহিদ বাহিনী থেকে পরিত্রান চান এলাকার সাধারণ জনগণ। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।

 

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে আযম মিয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সব সময় অবহৃত থাকে। এটা চলমান প্রক্রিয়া আমরা আমাদের অভিযানের মাধ্যমে কাউকে মাদকসহ পেলেই সাথে সাথে ধরে নিয়ে মামলা দিয়ে দেই। মাদক ও কিশোরগ্যাং মুক্ত করতে আমাদের অভিযান অবহৃত আছে আমরা কাশীপুরের এই গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে অ্যাকশন গ্রহণ করবো। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন