ইট-বালু-সিমেন্ট না নিলে বাড়িঘরে হামলা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৪, ০৮:০৪ পিএম
# কেউ প্রতিবাদ করলে সে আর এলাকায় থাকতে পারে না
# আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর
ফতুল্লার দেওভোগ এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী রাজু ও তার বিশাল কিশোর গ্যাং বাহিনীর অপকর্ম যেনো থামছেই না! এলাকায় কেউ ভবন নির্মাণ করতে চাইলে রাজুর কাছ থেকে ইট-বালু-সিমেন্ট নিতে হয়। অন্যথায়, তাদের বাড়ি ঘরে সশস্ত্র হামলা হয়। এছাড়াও ঐ এলাকায় কেউ বাড়ি-ঘর নির্মাণ করতে চাইলে মালিকদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করে রাজু ও তার বাহিনী।
মোদ্দাকথায়, এলাকার মানুষ এদের অত্যাচারে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। এতো কিছুর পরেও রহস্যজনক কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজু প্রদানসহ তার পালিত কিশোরগ্যাংদের গ্রেপ্তার করছে না। যদিও পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগীদের কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, সন্ত্রাসী রাজু ও তার বাহিনী এতোটাই ভয়ঙ্কর যে এসকল বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে সে আর এলাকায় থাকতে পারে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্ত্রাসী রাজু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ছিনতাই, নিরীহ মানুষকে হয়রানি, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যা মামলাসহ অন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে। এলাকার মানুষ এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই মামলা-হামলার শিকার হতে হয়। আর এ কারণে কেউই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেওভোগ বাঁশমুলি এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রাজু প্রধান বাহিনীর প্রধান রাজু প্রধান (৩৫), তার ভাই সাজু প্রধান (৩০), চাচাতো ভাই পায়েল প্রধান, জেলখানায় আটক থাকা রাসেল ওরফে বিয়াইস্তা রাসেলের আপন ভাই রাশেদ, রাসেল ওরফে ভোমরা রাসেল (৩০), শামীম (২৮), বাসু (৩৫), আমিন (২০), কাউসার মুন্সি (৪২), সালাউদ্দিনসহ (৪২) অন্তত আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনের এই সদস্যদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে দেওভোগ এলাকার সাধারণ মানুষ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সন্ত্রাসী রাজু পশ্চিম দেওভোগ এলাকার প্রধান বাড়ির রিয়াজ চৌধুরীর ছেলে। অস্ত্র, মাদক, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ রাজুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। এরপরেও রাজু প্রধান ও তার বাহিনী পুলিশের ধরা ছোঁয়ার একেবারে বাইরে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজু প্রধান। ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ মাদ্রাসা, শতাব্দি গার্মেন্টস, দেওয়ান বাড়ি, নূর মসজিদ ও বাঁশমুলি এলাকায় সাধারণ মানুষকে একপ্রকার জিম্মি করে রেখেছে রাজু বাহিনী ও তার লোকজন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই এলাকার মানুষ বলেন, কাশিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেওভোগ শেষ মাথা থেকে শুরু করে দেওভোগ মাদ্রাসার শেষ মাথা, বাঁশমুলি, নূর মসজিদ ও ভোলাইল এলাকা পর্যন্ত রাজু ও তার বাহিনীর রয়েছে বিশাল মাদকের সাম্রাজ্য। রাজু ইট-বালু-সিমেন্ট ব্যবসার পাশাপাশি পরিচালনা করে বিশাল কিশোর গ্যাং বাহিনী। এলাকায় কেউ বাড়ি-ঘর নির্মাণ করতে চাইলে রাজুর কাছ থেকে নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় না করলে তাদের বাড়ি-ঘরে হামলা দেয়। রাজু ও তার বাহিনী এতোটাই ভয়ঙ্কর যে এলাকার মানুষ তাকে কিছু বলার সাহস রাখে না। ভুলেও যদি কেউ প্রতিবাদ করে তাহলে তার উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসী রাজুর কিশোর গ্যাং বাহিনী।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ রাজু বাহিনীর সন্ত্রাসী কার্যকলাপে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। আফজাল হত্যাকান্ডে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে বের হয়ে কিছুদিন ঠান্ডা থাকলেও বর্তমানে তা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, তার অত্যাচার, হিংস্রতা ও নির্যাতনের ভয়ে ক্ষুব্ধ জণগন কথা বলার এবং প্রতিকার চাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি করা এখন তার দৈনন্দিন বিষয়।
একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে ফের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করে সে। এর আগেও একাধিকবার সন্ত্রাসী রাজু ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ও এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে মানববন্ধন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদনও করেছিল সচেতন এলাকাবাসী। তারপরেও কিছুতেই যেনো কিছু হচ্ছে না। এস.এ/জেসি


