নতুন ভাড়াটিয়াদের আতঙ্ক সন্ত্রাসী রাজু প্রধান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৪, ০৭:২৭ পিএম
# এমন কিছু হয়ে থাকলে সেটা অন্যায় : শামীম মেম্বার
# অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে : ওসি ফতুল্লা
ফতুল্লার দেওভোগ এলাকার বাঁশমুলি, নূর মসজিদ ও আদর্শ নগরে নতুন ভাড়াটিয়াদের মুর্তমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাজু প্রধান। এলাকায় নতুন ভাড়াটিয়ার আগমন হলে নিজের লালিত কিশোরগ্যাং পাঠিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে রাজু বাহিনীর প্রধান ও তার চাচাতো ভাই পায়েল প্রধানের বিরুদ্ধে।
এছাড়াও দিনের পর দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে চাঁদা উঠানোর অভিযোগও রয়েছে রাজু বাহিনীর বিরুদ্ধে। এতোকিছুর পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকায় হতাশ সচেতন নাগরিকরা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এদের বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে অভিযোগ দেওয়ার মতো সাহস কারোরই নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেওভোগ বাঁশমুলি এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রাজু প্রধান বাহিনীর প্রধান রাজু প্রধান (৩৫), তার ভাই সাজু প্রধান (৩০), চাচাতো ভাই পায়েল প্রধান, জেলখানায় আটক থাকা রাসেল ওরফে বিয়াইস্তা রাসেলের আপন ভাই রাশেদ, রাসেল ওরফে ভোমরা রাসেল (৩০), শামীম (২৮), বাসু (৩৫), আমিন (২০), কাউসার মুন্সি (৪২), সালাউদ্দিনসহ (৪২) অন্তত আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনের এই সদস্যদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে দেওভোগ এলাকার সাধারণ মানুষ।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে বেশ ক’জন জানান, দেওভোগ এলাকার বাঁশমুলি, নূর মসজিদ ও আদর্শ নগরে নতুন ভাড়াটিয়া আসলেই সন্ত্রাসী রাজুর লোকজন গিয়ে তাদের বিরক্ত করা শুরু করে। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ১ হাজার থেকে ১৫০০শ’ টাকা পর্যন্ত দাবি করে। না দিলে তাদের নানা ভাবে হেনস্থা করা হয়। মান সম্মানের ভয়ে যারা নতুন আসে তারা টাকা দিয়ে দেয়।
সূত্রানুযায়ী, সন্ত্রাসী রাজু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ছিনতাই, নিরীহ মানুষকে হয়রানি, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যা মামলাসহ অন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে। এলাকার মানুষ এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই মামলা-হামলার শিকার হতে হয়। আর এ কারণে কেউই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
এ ব্যাপারে জানতে কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার শামীম আহম্মেদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টা আমার জানা নেই। তবে, যদি এমন কিছু হয়ে থাকে সেটা অন্যায়। কারণ ভাড়াটিয়াদের দিয়েই তো আমরা বাড়িওয়ালারা চলি। এমন কিছু হয়ে থাকলে আমি ভুক্তভোগীদের প্রতি আহ্বান জানাবো, তারা যেনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গিয়ে অভিযোগ দিয়ে আসে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, এমন কোন বিষয়ে আমার জানা নেই। কারণ কেউ এ নিয়ে এখনো পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ করেনি। যদি এমন কোন ঘটনা সেখানে ঘটে থাকে সেক্ষেত্রে আমি বলবো, ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে যেনো থানায় চলে আসে। সাধারণ মানুষের জন্যই আমরা কাজ করি। অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এস.এ/জেসি


