মাদকের ডিলার সবুজ-শহিদ বাহিনী বেপরোয়া
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৪, ০৮:৪০ পিএম
# সবুজের শেল্টারে মাঠে থাকে শহিদ, খান সুমন ও বায়রা মামুন
# বাবুরাইল ও কাশীপুরের বিভিন্ন অপকর্মে সবুজের ভাগ ২৫%
# বছরে বছরে লোক পরিবর্তন করে মাদককারি ধরে রেখেছে হোতা সবুজ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাস্থ কাশীপুর ইউনিয়নের ৫, ৬, ৮নং ওয়ার্ড ও সদর থানার ১নং ও ২নং বাবুরাইলের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে বাবুরাইল বড় বাড়ির বদুর ছেলে সবুজ মিয়া।
তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ফতুল্লা থানা একাধিক মামলা ও অভিযোগ থাকায় তিনি বর্তমানে প্রকাশ্যে না এসে আত্মগোপনে থেকে তারই সহচর হোসাইনীনগর এলাকার জোড়া খুন মামলার আসামী শহিদ ওরফে ভোগা শহিদ, মাদক সাপ্লাইকারি খান সুমন ও মূলহোতা সবুজের বায়রা ভাই মামুন এদের দ্বারা পুরো শুধু কাশীপুর নয় সদর থানার আওতাধীন ও বিভিন্ন এলাকায় মাদককারবারি খুলে রেখেছেন সেই সবুজ-শহিদ বাহিনী।
বিগত দিনে তারা শুধু মাদকে সীমাবদ্ধ থাকলে ও বর্তমানে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ইট-বালুর ব্যবসা, এলাকার মিনি গার্মেন্টসগুলো থেকে জুট সন্ত্রাসী, চোরাই গ্যাস সেন্ডিকেট, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজিসহ চুরি-ছেচঁড়ামী, ফিটিংবাজিসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন এই সবুজ-শহিদ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। আর এই সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করতে এই বাহিনীকে শেল্টার দিয়ে থাকে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গরা। তাদের কারণেই বর্তমানে জিমখানা থেকে বাবুরাইল থেকে দেওয়ানবাড়িসহ এর আশেপাশের প্রত্যেকটি এলাকায় হাত বাড়ালে খুব সহজেই মিলছে মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য।
এ ছাড়া আরো জানা গেছে, এরা মাদকের মূল স্পট তাঁতিপাড়াকেই সিলেক্ট করেছেন এখান থেকেই মাদক বেড়িই ছিড়িয়ে পরে বাবুরাইল সহ তাঁতিপাড়ার বট তলা এলাকা, মুন্সিবাড়ির নতুন রোড, আমবাগান, ইব্রাহীম ব্রিজের ভিতরের বিভিন্ন গলিতে, হোসাইনী নগর এলাকাসহ বাংলাবাজার এলাকার ব্যাংকলোনী, খিলমার্কেটের সকল অলিগলিতে। প্রভৃতি রকমারি মাদক বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় বিক্রি করানো হচ্ছে।
এদিকে সুবজের বায়রা ভাই মামুনের দ্বারাতে কাশীপুরের আওতাধীন কয়েকটি মাদক চিহ্নিত এলাকায় মাদক সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে। এই মামুন ভাসমান ব্যক্তি কিন্তু সবুজের আত্মীয় হওয়ায় বাবুরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে তিনি। আর তার মাধ্যমেই সকল সেন্ডিকেটের বিভিন্ন অপকর্ম থেকে সবুজের হাতে যায় ২৫%। তা ছাড়া ও খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, বিগত দিনে এই সবুজের মাদক বিক্রি করতেন ইব্রাহীম ব্রিজের অনিক ও ফরিদ কিন্তু তারা নানা অপকর্মে প্রশাসনে চিহ্নিত হয়ে গেলে তিনি এখন শহিদ, খান সুমন, মামুন ও ওয়ান পিস ফয়সালের দ্বারাতে কাশীপুরে মাদক সাপ্লাই দেয়। আর ১ বা ২ বছর পর পর লোক পরিবর্তন করা সবুজের একটি স্টাইলে পরিণত হয়েছে ও বলে ও শোনা যাচ্ছে।
এদিকে মাদকসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এলাকায় তারাই কিছু আত্মীয়র নামে কিনেছেন জমি, ঢাকা গুলশানে ও রয়েছে ও একটি ফ্লাট। স্থানীয় অনেকের দাবি, মূল হোতা সবুজ তিনি বাড়ির বাহিরে বেশি একটা সময় আসে না। তিনি তার বাসায় বসে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখেন এলাকা। তিনি একটি ওয়াফাই ব্যবসা ও পরিচালনা করেন এইচ-কে-বি যা বর্তমানে দেখা শোনা করে সোহেল নামের একজন আর সর্বদা এটার সাথে থাকে জনি নামের একটি লোক।
এদিকে এলাকার যেখানেই তার ওয়াফাই বক্স রয়েছে সেখানেই সকল বক্সের ভিতরেই লাগানো সিসি ক্যামেরা যা তিনি তার নিজ ঘরে বসেই এলাকা কন্ট্রোল করেন যাকে ঘিরে প্রশাসন থেকে অনেকটাই নিরাপদে তিনি। বর্তমানে এই সবুজ বাহিনীতে দিশেহারা হয়ে পরেছে সাধারণ জনগণ বিনষ্ট হচ্ছে যুব সমাজ। যাকে ঘিরে শীঘ্রই স্থানীয় এমপি ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ বাবুরাইল থেকে তাঁতিপাড়া ও তার আশেপাশের এলাকাগুলোতে আত্মগোপনে নানা প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা রেখে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন সবুজ মিয়া। তাঁতিপাড়া বট তলার কিছুটা অদূরে একটি গল্লির মধ্যে মাদকের ডিলার সবুজের বসবাস। এলাকায় বিভিন্ন আত্মীয়ের ছোট ছোট রুম ভাড়া নিয়ে মাদকের আস্থানা তৈরি করেছেন তিনি। তা ছাড়া ও এলাকার এই গলি দিয়ে ডুকলেই আগে দেখা মিলে সবুজের পালিত কিছু গার্ড। তারা নিয়মিত সেই গলি পাহাড়া দিয়ে থাকে।
অপর দিকে এই সবুজ বর্তমানে গার্ডের পাশাপাশি এলাকা থেকে বট-তলা পর্যন্ত ফিটিং করেছে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সবুজ বাহিনী এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বহুদিন যাবৎ। তা ছাড়া এই সবুজকে শুধু রাত ২টা বা ৩টা ছাড়া এলাকায় দেখা যায় না বলে ও জানা গেছে। তা ছাড়া ও তাদের নিয়ন্ত্রণে এলাকাসহ কিছু অসাধু প্রশাসন থাকার কারণে তাদের কাছে জিম্মি এলাকাবাসী। প্রতিবাদ করলেই এলাকা ছাড়তে হবে এমনই ভয়ে নিশ্চুপ এলাকার সাধারণ জনগণ।
অপর দিকে শহিদ ওরফে বোগা শহিদ তিনি ও সবুজের ছাত্রছায়ায় থেকে বিভিন্নভাবে এলাকায় ত্রাসের জন্ম দিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার পাশাপাশি মানুষদের ফিটিংসহ বর্তমানে এলাকাবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে ইট-বালুর মাধ্যমে, এলাকায় কেউ বাড়ি করতে হলেই নিতে হয় এই শহিদের থেকে ইট-বালু সিমেন্ট যদি কেউ নিতে রাজি না হয় তাদের উপর জোর প্রয়োগ করা হয় সহ বাড়ি ঘরে দেওয়া হয় হামলা। তা ছাড়া শহিদ ও মামুনের লোক অটো ড্রাইভার নূর হোসেন নামের একজনকে দিয়ে ইব্রাহীম ব্রিজসহ তাঁতিপাড়া ও বাবুরাইলের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ থাকা লোকদের থেকে মাসিক ১ হাজার বা ২ হাজার করে চাঁদা তুলে থাকেন এই বাহিনীর লোকেরা।
তা ছাড়া ও একজন ভুক্তভোগীর তথ্য অনুসারে জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে বাংলাবাজার ইব্রাহীম ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে নানাভাবে সেই বাড়ির মালিকদেরকে কিশোর গ্যাং দ্বারা ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বকভাবে বেশিদামে ইট-বালু-সিমেন্ট দিয়ে আসছে। তা ছাড়া ও তার লোক দ্বারাই দিচ্ছে ফ্লাটের বাকি সকল কাজ যেমন, ইলেকট্রিক কাজ ও পাইপ ফিটিং এর কাজ। যাকে ঘিরে ইলেকট্রিশিয়ান একজনকে কাজ দিয়ে তার কাছ থেকে দুই দফায় প্রায় লাখ টাকার মতো আদায় করেছে এই শহিদ।
এমনভাবে নতুন বাড়ি করলেই এলাকায় ঢুকে পুরো বাড়ির কাজ নিজেদের করতে দিতে বাড়িওয়ালাকে হুমকি সহ নানা ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে সকল কাজ তিনি তার লোক দিয়েই করায়, আর তাদের থেকে ও হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। মাদকের শেল্টার দাতা ও ডিলার একাই সবুজ হওয়ার কারণে মাদক ছাড়া শহিদ সহ বাকি তাদের লোকদের এমন বিভিন্ন অপকর্ম থেকে সবুজ ভাগ পায় ২৫%।
এদিকে বর্তমানে কাশীপুরের বিভিন্ন এলাকায় এই সবুজ বাহিনীর লোকেরা মাদক বিক্রি চালিয়ে আসছেন আলাদা আলাদা মাদক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। জানা গেছে, বাবুরাইল তাঁতিপাড়া বট তলা এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন সবুজ ও শহিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিটন, মুন্সিবাড়ী নতুন রোডে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করান পলাশ নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে দিয়ে। অপর দিকে হোসাইনী নগর এলাকা থেকে শুরু করে ইব্রাহীম ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সেন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক বিক্রি হয় এখানে শহিদের লোক ওয়ান পিস ফয়সালসহ আরো বহু মাদক ব্যবসায়ীগুলোর মাধ্যমে এই এলাকায় মাদক বিক্রি হয়।
কাশীপুরের ৩টি ওয়ার্ডে মাদক বিক্রি হয় ৬ থেকে ৭টি গ্রুপের মাধ্যমে। আর মাদক ব্যাবসায়ীরা কাউকেই ভয় পায় না এমনই একটি ভাষ্য শোনা গেছে, তারা বলে আমরা যাই করি পুলিশ প্রশাসনকে চাঁদা দিয়েই সকল অপকর্ম করি। সবুজ ভাইকে পুলিশ কখনো ধরতে পারবো না আর আমরা ও সবুজ ভাইয়ের লোক আমাদের ও কেউ ধরতে পারবো না এমনটাই বলে থাকে তার বাহিনীর সদস্যরা।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) চাইলাউ মারমা যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমানে কয়েক দফায় দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকায় সবুজ ও শহিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ আমাদের নজরে পরেছে। আমরা দ্রুতই এই বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযান করবো। আর মাদকসহ নানা অপরাধ জড়িত কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে (আযম) মিয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা মাদকসহ নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে সর্বদা তৎপর রয়েছি। বর্তমানে এই সবুজ ও শহিদ বাহিনীর সকল কর্মকান্ডের তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এস.এ/জেসি


