Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

মাইকে ঘোষণায় গণপিটুনিতে নিহত ৪

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৪, ০৩:৫০ পিএম

মাইকে ঘোষণায় গণপিটুনিতে নিহত ৪
Swapno

 

সোনারগাঁয়ে মাইকে ডাকাত ঘোষণা দিয়ে চার জনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। রবিবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের বাঘরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) চাইলাউ মারমা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ বিল্লাল হোসেন। গণপিটুনীতে জাকির হোসেন (৪০) আব্দুর রহিম (৪৮) নবী হোসেন (৩৫) ও অজ্ঞাতনামা একজনসহ ৪ ডাকাত নিহত হয়েছে।

 

এ সময় মাহমুদ আলী ও জাকির হোসেন নামে আরো দুই ডাকাত সদস্য গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদ আলী ও সোনারগাঁয়ের জাকির হোসেন। গণপিটুনিতে নিহত ডাকাতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ডাকাতরা হল- জাকির হোসেন সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর গ্রামের আমানউল্লাহর ছেলে। আব্দুর রহিম আড়াইহাজার উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। নবী হোসেন সোনারগাঁ উপজেলার জালাকান্দি গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।

 

এদের মধ্যে জাকিরের বিরুদ্ধে তিনটি ডাকাতি মামলা ও একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আড়াইহাজারের জাঙ্গালিয়া গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে ডাকাত মোহাম্মদ আলী (৪৫)। তারা সবাই ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে। 

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে কাঁচপুর ইউনিয়নের বাঘরী গ্রামের বিলের দিকে আনুমানিক আট থেকে দশ জনের একদল লোক সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল। সে সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের দেখতে পেয়ে দ্রুত গিয়ে গ্রামবাসীকে খবর দেয়। পরে মসজিদের মাইকে ডাকাত বলে ঘোষণা দিলে গ্রামবাসী চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দেয়।

 

এতে ঘটনাস্থলে দুই জন মারা যান। আরও তিন জন অচেতন অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিলেন। তাদের অন্য সদস্যরা বিলে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অন্য হাসপাতালে পাঠায়। পরে আরও দুই জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ গ্রামে একাধিকবার ডাকাতির ঘটনায় গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

 

স্থানীয়রা আরো জানান, বাঘুরী কাজরদী বিলে ১০-১২ জনের একটি ডাকাতদল ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়ার সময় স্থানীয় লোকজন দেখে ফেলে। পরে স্থানীয়রা বিভিন্ন গ্রামের মসজিদের মাইকে ডাকাতদের কথা  ঘোষণা করলে বিলের চার পাশের কয়েকশত লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতদের উপর হামলা করে। এ সময় ডাকাতরা জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন দিকে ছুটাছুটি শুরু করে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী ৫ ডাকাতকে ধরে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও গণপিটুনী দিলে ঘটনাস্থলে ৩ ডাকাত সদস্য নিহত হয়। এ সময় মুমুর্ষ অবস্থায় আরো ২ ডাকাত সদস্যকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো ১ জনের মৃত্যু হয়।

 

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, গত রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বাঘুরী কাজরদী বিলে ১০-১২ জন লোককে এক সঙ্গে দেখে এলাকাবাসী মসজিদের মাইকে ঘোষণা করে অত্র এলাকায় ডাকাতরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিলের চার পাশের গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই লোকদের তাড়া করলে লোকগুলো জীবন বাঁচাতে এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের খুঁজে বের করে পিটিয়ে ঘটনাস্থলে মেরে ফেলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রাতে ২ জন ও ভোর রাতের দিকে আরো ২জন মোট ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা জানান, নিহত ৪ জন ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। গত বছর আমার বাড়িতেও ডাকাতির জন্য হানা দেয়। এলাকার সবার কাছে ডাকাত হিসেবে পরিচিত। রবিবার ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এলাকার লোকজন তাদের চিনে ফেলে। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদেরকে চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলে। এ সময় এলাকাবাসীর গণপিটুনীতে ডাকাতদের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে অনেকে ডাকাতিতে ধরা পড়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিল। ছাড়া পেয়ে পুনরায় আবার ডাকাতি কাজে জড়িয়ে পড়ে।  

 

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা বলেন, ‘চার জনের মধ্যে তিন জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আর একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। তার নাম জাকির হোসেন। এ ছাড়া আরও একজন আহত হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ আলী। এই ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।’

 

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে ১০-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের নোয়াকান্দি কুন্দেরপাড়া এলাকায় হানা দেয়। ডাকাতদল ওই এলাকার নুরুল হকের বাড়ির প্রধান ফটকের তালা ভেঙ্গে দ্বিতীয় তলায় গিয়ে বাড়ির সকলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র তছনছ করে ৬ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

 

পরে পাশ্ববর্তী ইসলাম মুন্সির বাড়িতে দেড় টার দিকে বাড়িতে দরজা ভেঙ্গে ডাকাতদল ঘরে প্রবেশ করে বাড়ির মালিক গৃহকর্তা ইসলাম মুন্সীকে ধারালো চাপাতি দিয়ে মাথায় ও হাতে কুপিয়ে আঘাত করে মারাত্মকভাবে আহত করে। এসময় তার স্ত্রী আছিয়া বেগমকে জিম্মি করে তার ব্যবহৃত ২ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ডাকাতরা আসবাবপত্র তছনছ করতে থাকলে ইসলাম মুন্সীর ছেলে একরামুল ইসলাম কৌশলে বের হয়ে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।পরে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী আহত ইসলাম মুন্সীকে উদ্ধার করে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত ইসলাম মুন্সির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার ছেলে এমদাদুল হক।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন