Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সবুজ-শহিদ বাহিনীকে রুখবে কে?

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৪, ০৮:১৯ পিএম

সবুজ-শহিদ বাহিনীকে রুখবে কে?
Swapno

 

# বাবুরাইলে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে সবুজ বাহিনী
# প্রশাসনকে মাসোয়ারা দিয়েই অপকর্ম করে বলছে বাহিনীর সদস্যরা

 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাস্থ কাশীপুর ইউনিয়নের ৫, ৬, ৮নং ওয়ার্ড ও সদর থানার ১নং ও ২নং বাবুরাইলের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে নানা অপকর্মের মূল হোতা বাবুরাইল বড় বাড়ির বদুর ছেলে মাদক ডিলার সবুজ। পুলিশ-প্রশাসনকে মাসিক মাসোয়ারা দিয়ে দিব্বি মাদককারবারিসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছেন তিনি।

 

তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ফতুল্লা থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অধরা এই সবুজ এখন বাবুরাইল-তাঁতিপাড়া সহ কাশীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে।

 

এই মাদকের ডিলার সবুজ বর্তমানে প্রকাশ্যে না এসে আত্মগোপনে থেকে তারই সহচর হোসাইনী নগর এলাকার জোড়া খুন মামলার আসামীসহ চাদাঁবাজি, ভূমিদুস্যতা মামলার আসামী শহিদ ওরফে ভোগা শহিদ, মাদক সাপ্লাইকারি খান সুমন তিনি বিগত দিনে টানবাজারের চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী দারুণের লোক হিসেবে কাজ করলে ও বর্তমানে রয়েছেন সবুজের শেল্টারে, আরেকজন সবুজের বায়রা ভাই মামুন এদের দ্বারা শুধু কাশীপুর নয় সদর থানার আওতাধীন ও বিভিন্ন এলাকায় মাদককারবারি খুলে রেখেছেন সেই মাদক ডিলার সবুজ।

 

বিগত দিনে এই সবুজ বাহিনী শুধু মাদকে সীমাবদ্ধ থাকলে ও বর্তমানে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ইট-বালুর ব্যবসা, এলাকার অনেকগুলো মিনি গার্মেন্টসগুলো থেকে জুট সন্ত্রাসী, চোরাই গ্যাস সিন্ডিকেট, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি, মোবাইলে বিট খেলা থেকে চাঁদাবাজি, চুরি-ছেচঁড়ামী, ফিটিংবাজি সহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন এই বাহিনীর সদস্যরা। আর এই সকল কর্মকান্ডকে পরিচালনা করতে এই বাহিনীকে শেল্টার দিয়ে আসছেন স্থানীয় কাউন্সিলর, মেম্বারসহ বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবুজ-শহিদ বাহিনীর সদস্যরা তাদের শেল্টারে জিমখানা থেকে বাবুরাইল থেকে দেওয়ান বাড়ি সহ এর আশে পাশের প্রত্যেকটি এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছে মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এ ছাড়া আরো জানা গেছে, এরা মাদকের মূল স্পট তাঁতিপাড়াকেই ধার্য করেছে। এখান থেকেই মাদক বেড়িই ছিড়িয়ে পরে বাবুরাইলসহ তাঁতিপাড়ার বট তলা এলাকা, মুন্সিবাড়ির নতুন রোড, আমবাগান, ইব্ররাহিম ব্রিজের ভিতরের বিভিন্ন গলিতে, হোসাইনী নগর এলাকাসহ বাংলাবাজার এলাকার ব্যাংকলোনী, খিলমার্কেটের সকল অলিগলিতে।

 

আর এগুলো প্রভৃতি রকমারি মাদক বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় বিক্রি করানো হচ্ছে। এদিকে সুবজের বায়রা ভাই মামুনের দ্বারাতে কাশীপুরের আওতাধীন কয়েকটি মাদক চিহ্নিত এলাকায় মাদক সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে। এই মামুন ভাসমান ব্যক্তি কিন্তু সবুজের আত্মীয় হওয়ায় বাবুরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে তিনি। আর তার মাধ্যমেই সকল সিন্ডিকেটের বিভিন্ন অপকর্ম থেকে সবুজের ভাগ ২৫%।

 

তা ছাড়া ও খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, বিগত দিনে এই সবুজের মাদক বিক্রি করতেন ইব্রাহীম ব্রিজের অনিক ও ফরিদ কিন্তু তারা নানা অপকর্মে প্রশাসনে চিহ্নিত হয়ে গেলে তিনি এখন শহিদ, খান সুমন, মামুন ও ওয়ান পিস ফয়সালের দ্বারাতে কাশীপুরে মাদক সাপ্লাই দেয়। আর ১ বা ২ বছর পর পর লোক পরিবর্তন করা সবুজের একটি স্টাইলে পরিণত হয়েছে ও বলে ও শোনা যাচ্ছে। এদিকে মাদকসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এলাকায় তারাই কিছু আত্মীয়র নামে কিনেছেন জমি, ঢাকা গুলশানে ও রয়েছে ও একটি ফ্লাট।

 

স্থানীয় অনেকের দাবি, মূল হোতা সবুজ তিনি বাড়ির বাহিরে বেশি একটা সময় আসে না। তিনি তার বাসায় বসে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখেন এলাকা। তিনি একটি ওয়াফাই ব্যবসা ও পরিচালনা করেন এইচ-কে-বি যা বর্তমানে দেখা শোনা করে সোহেল নামের একজন আর সর্বদা এটার সাথে থাকে জনি নামের একটি লোক।

 

এদিকে এলাকার যেখানেই তার ওয়াফাই বক্স রয়েছে সেখানেই সকল বক্সের ভিতরেই লাগানো সিসি ক্যামেরা যা তিনি তার নিজ ঘরে বসেই এলাকা কন্ট্রোল করেন যাকে ঘিরে প্রশাসন থেকে অনেকটাই নিরাপদে তিনি। বর্তমানে এই সবুজ বাহিনীতে দিশেহারা হয়ে পরেছে সাধারণ জনগণ বিনষ্ট হচ্ছে যুব সমাজ। যাকে ঘিরে শীঘ্রই স্থানীয় এমপি ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

 

এদিকে আরো জানা গেছে, সবুজ কাশীপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর আত্মীয় হিসেবে পরিচিত আবার তার সকল কাজে সবুজের তেমনই ভূমিকা দেখা যায়। গত ইউপি নির্বাচনে সুবজ প্রকাশ্যে কেন্দ্রে এসে আইয়ুব আলীর পক্ষে কাজ করার দৃশ্য ও দেখা গেছে। অপর দিকে সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রিয়াদের সাথে ও রয়েছে এই মাদক ডিলার সবুজের ভালো সখ্যতা। আবার বিএনপি নেতা মজিদ ও হাসানের সাথে পূর্ব থেকেই এই সবুজের রয়েছে নানা সখ্যতা।

 

অপর দিকে কাশীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ছেলে নাজমুল হাসান সাজনের সাথে নানা যোগসাজস সব মিলিয়ে বোঝা যায়। এদের দ্বারাতেই সকল কিছু ম্যানেজ করে এলাকায় দেদারসে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এই সবুজ বাহিনী। আর যা বর্তমানে প্রকাশ্যে রূপ ধারণ করাচ্ছে তারাই সহচর শহিদ ওরফে ভোগা শহিদ, তিনি ও বিএনপি নেতা হাসানের পালিত একজন হিসেবে সুপরিচিত। বর্তমানে এই সবুজ বাহিনী এখনো পুলিশের আওতায় না আসায় ভতি হয়ে পরছে এলাকার সাধারণ জনগণ ও ভুক্তভোগীরা।  

 

ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে (আযম) মিয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা মাদক সহ নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে সর্বদা তৎপর রয়েছি। বর্তমানে এই সবুজ ও শহিদ বাহিনীর সকল কর্মকান্ডের তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন