Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

শামীম ওসমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৪, ০৮:০৫ পিএম

শামীম ওসমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা
Swapno

 

# জনস্বার্থকে মাথায় রেখে অবিলম্বে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি

 

শামীম ওসমানের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এখন চরম অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন তারই একান্ত সহকর্মী শাহ নিজাম, শাহাদাৎ হোসেন সাজনু এবং মীর সোহেল। কারণ এরা তিনজনই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান। প্রথম দুইজন চান চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আর তৃতীয় জন চান ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে। কিন্তু শামীম ওসমান এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বা নিচ্ছেন না বলেই জানিয়েছে ফতুল্লার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী সমর্থকরা।

 

প্রথমে জানা গিয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে শাহ নিজামকে চেয়ারম্যান আর মীর সোহেলকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিচ্ছেন শামীম ওসমান এমপি। কিন্তু এ সময়ে এসে জানা গেছে তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কারণ এখানে চেয়ারম্যান পদে শহাদাৎ হোসেন সাজনু, ইব্রাহীম চেঙ্গিস এবং নাজিমুদ্দিনও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন। যদিও ফতুল্লায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গত কয়েক বছর ধরে শাহ নিজাম ও মীর সোহেল জুটিকে বেশ সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।

 

বিশেষ করে শামীম ওসমানের বিভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এই দুইজনকেই সবচেয়ে বেশি তৎপর দেখা যাচ্ছে। যেমন বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন নিজাম ও মীর সোহেল। তবে শামীম ওসমানের রাজনীনৈতিক জীবনে প্রয়াত গোলাম সারোয়ারের পরিবারের অবদানও কম নয়। এখনো হেলাল, সাজনু এবং তাদের ভাগিনা জুয়েল শামীম ওসমানের পক্ষে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

 

তবে ফতুল্লার পাঁচটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা মনে করেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন নিয়ে অবশ্যই সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার সামনে অপশন রয়েছে দুটি, ১) হয় তাকে নিজাম বা সাজনু এই দুই জনের একজনকে মনোনয়ন দিতে হবে। এখানে সিদ্ধান্তহীনতার কোনো সুযোগ নেই। ২) অন্যথায় তাকে নির্বাচনটি উম্মুক্ত করে দিতে হবে। তারা সবাই নির্বাচন করবেন। জনগণ যাকে ভোট দেবে তিনিই নির্বাচিত হবেন। 

 

কিন্তু কোনো মতেই আজাদ বিশ্বাস আর নাজিমুদ্দিনের মতো অথর্ব লোকদেরকে বিনা ভোটে পদ আকড়ে থাকতে দেয়া যাবে না। কারণ ফতুল্লা থানা এলাকায় এখনো সমস্যার কোনো অন্ত নেই। তাই জনগণ যদি আওয়ামী লীগ থেকে যোগ্যতম কোনো চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান পান তাহলে তারা মাঠে নেমে কাজ করতে পারবেন। কিন্তু শামীম ওসমান যদি হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে না দেন তাহলে বঞ্চিত হবে এই উপজেলার সাধারণ মানুষ। তাই শামীম ওসমানকে অবশ্যই হঠকারিতা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের কল্যাণ হয় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

এদিকে সবচেয়ে বড় কথা হলো এই উপজেলা নির্বাচনে জালাল মামা কি করবেন? জালাল মামা হলেন শামীম ওসমান এমপির মামা শ্বশুর। এ বিষয়টি এখন সকলেই জানেন যে এই জালাল মামা এখন শামীম ওসমানের চেয়েও বেশি পাওয়ারফুল। কেনো না নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকার সবাই মানেন শামীম ওসমানকে আর শামীম ওসমান মানেন এই জালাল মামাকে। তাই জালাল মামার সিদ্ধান্তই হতে পারে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত স্বিদ্ধান্ত।

 

মাঠ পর্যায়ে বেশ জোরালো ভাবে চাউর রয়েছে ফতুল্লার অন্তত দুটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জালাল মামার মনোনীত প্রার্থীরাই চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাই সদর উপজেলা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জালাল মামা কি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন সেটা বলা যায় না। জানা গেছে, এবারের এই নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সকলেই জালাল মামার আনুকুল্য পেতে বেশ তৎপর রয়েছেন।

 

তবে সদরের জনগণ চায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যে নির্বাচনের মাধ্যমে তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবেন। আর নির্বাচিতরা তাদের সুখে দুঃখে পাশে দাঁড়াবেন। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন